সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা বাড়ছেই

আগের সংবাদ

স্ত্রী পল্লবীর বস কে এই রুমেল

পরের সংবাদ

হলি আর্টিজানে চার বছর

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গিরা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১, ২০২০ , ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের এই দিনে (১ জুলাই) গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টে পাঁচজন সশস্ত্র জঙ্গি নৃশংস হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। পরের দিন ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের ‘থান্ডারবোল্ট’ অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী নিহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে। ইতোমধ্যে হামলাকারী ৭ জঙ্গির ফাঁসির রায় হয়েছে। তারপরও থেমে নেই জঙ্গিদের অপতৎপরতা। ভিন্ন ভিন্ন নামে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জেএমবি এবং নব্য জেএমবির ভিত নড়বড়ে হয়ে গেলেও এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বেশি সক্রিয় নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরির ও আনসার আল ইসলাম। এছাড়া মাঝে মধ্যে আলকায়দা ইন সাব-কন্টিনেন্ট (একিউআইএস) নামের জঙ্গি সংগঠনটি অনলাইনে বিবৃতি দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়। পুলিশ এবং জঙ্গি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সুযোগে অন্য সময়ের তুলনায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হচ্ছে এসব জঙ্গিরা।

এরা অনলাইনে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে সদস্য সংগ্রহের পর বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন অনলাইনে। আগে ফিজিক্যালি বিভিন্ন দুর্গম এলাকা যেমন চর ও পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। এখন তারা ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। সেখানে হামলা থেকে শুরু করে আত্মরক্ষার নানা কৌশল শেখানো হচ্ছে। আবার হিজবুত তাহরির তাদের অবস্থান জানান দিতে মাঝে-মধ্যেই লিফলেট প্রচার করছে। সম্প্রতি লিফলেটসহ বেশ কয়েকজন হিজবুত তাহরিরের সদস্য গ্রেফতার হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গি কর্মকাণ্ড স্থিমিত হয়ে পড়লেও স্বস্তি প্রকাশের কোনো অবকাশ নেই। সাময়িক বিরতি দিয়ে তারা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর দেশে জঙ্গি ও জঙ্গিবাদ বিস্তারের পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই দেশে জঙ্গি ও জঙ্গিবাদবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে। এ কারণে দেশে জঙ্গিদের মতাদর্শ প্রচারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। হলি আর্টিজানে হামলার পর দেশের অভ্যন্তরে তাদের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। এজন্য কোনো কোনো জঙ্গি নেতা তার অনুসারীকে ‘লোন উলফ’ হামলার নির্দেশনা দিচ্ছে।

এসএইচ