সুষ্ঠু তদন্ত চান স্বাস্থ্যকর্মীরা

আগের সংবাদ

অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সুমনের বক্তব্য অসংলগ্ন

পরের সংবাদ

তদন্ত শুরু, অভিযুক্তরা লাপাত্তা

আজিজুর রহমান জিদনী

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১, ২০২০ , ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বুড়িগঙ্গা নদীতে এমভি ময়ূরী-২ এর ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামক লঞ্চ ডুবে হতাহতের ঘটনায় ঘাতক লঞ্চের মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও এমভি ময়ূরী-২ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় মামলার পরই আসামিদের বাসায় অভিযান চালানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। গা-ঢাকা দিয়েছেন সবাই। তবে পুলিশ বলছে দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে ময়ূরী-২ লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা। এর আগে গত সোমবার রাতে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় এমভি ময়ূরী-২ এর মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা, তৃতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. জাকির হোসেন, দ্বিতীয় শ্রেণির ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, দ্বিতীয় শ্রেণির চালক শাকিল হোসেন, দ্বিতীয় শ্রেণির চালক সুকানি নাসির মৃধা ও মো. হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, এমভি ময়ূরী-২ এর কর্মচারীরা দায়িত্বে অবহেলা ও বেপরোয়াভাবে মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে নদীতে ডুবিয়ে দিয়ে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটায়। আসামিরা শত্রু তামূলক পূর্ব-পরিকল্পনামাফিক এই প্রাণহানি ঘটিয়েছে কিনা তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে নৌপুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সদরঘাট নৌথানা-পুলিশের এসআই মো. শামছুল আলম ময়ূরী-২ এর মালিকসহ ৭ জনকে আসামি করে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রত্যেকের বাসায় অভিযান চালালেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের খোঁজ অব্যাহত রয়েছে। এমভি ময়ূরী-২ এর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনাসহ মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে নদীতে ডুবিয়ে দিয়ে অনেক লোকের প্রাণহানি ও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা মর্নিং বার্ড লঞ্চটির কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। আসলে বিষয়টি নির্ভর করছে বিআইডব্লিউটিসি ও ফায়ার সার্ভিসসহ টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোর রিপোর্টের ওপর। ঘটনার পরই ৩ জনকে আটক করা হয়েছে বিষয়টি সত্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ময়ূরী-২ লঞ্চের সামনে দিয়ে ঘোরাফেরা করায় ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তখন আটককৃতরা জানায়, লঞ্চটিতে করে চাঁদপুরে যাওয়ার কথা ছিল। তাই তারা সেখানে ঘোরাফেরা করছিলেন। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম বলেন, শুধু নৌপুলিশ নয় এর পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মো. মনজুরুল কবীর এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিক‚ল আবহাওয়া, নির্মাণ ত্রু টি, ইকুইপমেন্ট ফেইলিওরসহ একটি দুর্ঘটনার পেছনে অসংখ্য কারণ থাকতে পারে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিষয়টি উঠে আসে। তবে এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় উপরের কোনো কারণই কাজ করেনি। মনে হয়েছে হিউম্যান ফেইলিওর। তবে দুর্ঘটনার সময় ময়ূরের মূল মাস্টার নয় একজন শিক্ষানবিশ মাস্টার চালাচ্ছিলেন বলে আমরা শুনেছি। তদন্তে হয়তো পুরো বিষয়টি উঠে আসবে। সদরঘাট নৌথানা-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম ভূইয়া ভোরের কাগজকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি ময়ূরী-২ লঞ্চটি দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা চালাচ্ছিলেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা গেলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।

ডিসি