আমির খানের ঘরেও করোনার হানা

আগের সংবাদ

বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

পরের সংবাদ

প্রেমের কারণে পারিবারিক হত্যার শিকার কিশোরী লাইজু

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩০, ২০২০ , ১:৫১ অপরাহ্ণ

১৫ বছর বয়সী লাইজুকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান তার বাবা। এরপর লাইজুকে তার বাবা ও মামা মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। বাবা ও মামার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে যোগ দেন লাইজুর ভাই আদম আলী। পরবর্তীতে তারা তিনজন মিলে লাইজুর মরদেহ স্থানীয় একটি ডোবায় ফেলে দেন। প্রেমের জন্য লাইজুকে জীবন দিতে হয় তার নিজ পরিবারের হাতে। এ ঘটনায় বাবা ও মামা গ্রেফতার হলেও ভাই আদম এখনও পলাতক।

পুলিশ বলছে, লাইজুর মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে পরিবারের কেউ মামলা করতে রাজি হয়নি। এছাড়া লাইজুর জন্য পরিবারের কারও কোনো শোকও ছিল না। এসব বিষয়ে লাইজুর পরিবারের প্রতি পুলিশের সন্দেহ বেড়ে যায়। তারপর তার মামাকে টার্গেট করে পুলিশ। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বাবা ও ভাইয়ের সম্পৃক্ততার কথা বেরিয়ে আসে।

লাইজু হত্যার আসামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল ইউনিয়নের লম্বাহাটি গ্রামের কিশোরী লাইজু আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ। আর সেই রহস্য উদঘাটনেই বেরিয়ে আসে সব তথ্য। সোমবার (২৯ জুন) রাতে জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা। তার সঙ্গে ছিলেন নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন।

জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাবা সনু মিয়া, ভাই আদম আলী ও মামা মাজু মিয়া লাইজুকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পুলিশ জানায়, লাইজু তার মামা মাজু মিয়ার বাড়িতে থাকতো। ২২ জুন লাইজুকে বাড়ির পাশে পাটক্ষেতে একজনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন মাজু মিয়া। বিষয়টি লাইজুর বাবা সনু মিয়া ও মা সাফিয়া আক্তারকে জানান মাজু। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন সনু মিয়া। পরদিন (২৩ জুন) সকালে ঘরে বসে লাইজুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সনু ও মাজু। ওই দিনই রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে লাইজুর বাবা সনু তাকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। তখনই তাকে হত্যা করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, এক ছেলের সঙ্গে লাইজুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই ছেলের সঙ্গে লাইজুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন তার মামা মাজু মিয়া। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে লাইজুর বাবা ও মামা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকাণ্ডে লাইজুর ভাইও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এমআই