বড় পরিবর্তন ছাড়াই আজ পাস হবে নতুন বাজেট

আগের সংবাদ

জেল থেকে বেরিয়ে ফের জাল টাকার ব্যবসা শুরু

পরের সংবাদ

স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে বড় ভাইয়ের মামলা

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক নান্নু!

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩০, ২০২০ , ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ

অগ্নি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর। স্ত্রী শাহিনা হোসেন পল্লবী, শাশুড়ি শান্তা পারভেজ ও পল্লবীর কথিত কর্মস্থলের সিইও সিরাজুল আমীন রুমেলের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এরকম তথ্য উঠে আসার পর গতকাল সোমবার নান্নুর বড় ভাই নজরুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গত ১১ জুন মধ্যরাতে নান্নু তার আফতাবনগরের ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন সকালে তার মৃত্যু হয়। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে যশোরে শ^শুরবাড়িতে নিয়ে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই ফ্ল্যাটেই নান্নু-পল্লবী দম্পত্তির একমাত্র সন্তান স্বপ্নীল আহমেদ একইভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার লাশও একইভাবে দাফন করা হয়। নান্নু হত্যা মামলার সঙ্গে এখন স্বপ্নীলের মৃত্যু আসলে কীভাবে হয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পর নান্নু তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ও ট্রাস্ট করার চিন্তা করছিলেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। মূলত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কব্জা করতেই এ হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে পুলিশ।
নান্নুর মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই রহস্য দানা বাধে। তদন্তে নামে পুলিশ, সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক নান্নুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটিও করা হয়। পৃথক তদন্তে অভিন্ন তথ্য-প্রমাণ মিলতে শুরু করে। এরপরই সোমবার হত্যা মামলা

দায়ের করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বার্ন ইউনিটে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন নান্নুকে তার স্ত্রী স্যুপ খাওয়ান। যা পল্লবীর কথিত কর্মস্থলের সিইওর বাসা থেকে আনা হয়। স্যুপ খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই নান্নুর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পুলিশের গুলশান জোনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তদন্তে পল্লবী সবাইকে সহযোগিতা করবেন বলে জানালেও এখন তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পল্লবী ও তার মাকে আটকের চেষ্টা চলছে। পল্লবীর কথিত কর্মস্থলের নাম ইনফিনিটি মার্কেটিং লি.। এর সিইও সিরাজুল আমীন রুমেল ঘটনার পর থেকেই কালো রঙের একটি পাজেরো জিপ নিয়ে পল্লবীর সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন। তার তত্ত¡াবধানেই লাশ দাফন করা হয়েছে। পল্লবী নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া এডভাইজার বলে দাবি করতেন।

এসএইচ