বেশি টেস্ট, কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউনই করোনার সমাধান

আগের সংবাদ

এবার জাপানের সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ায় ভারত

পরের সংবাদ

বন্যার পানিতে ৩ শিশুর মৃত্যু

জুন ফাইনালের ফাঁদে বিপর্যস্ত ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২০ , ১১:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২০ , ১১:১২ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের সবক’টি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুভোর্গ একটুও কমেনি। দুর্গত এলাকায় খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র ভাবে দেখা দিয়েছে।

এদিকে জেলায় বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যার পানিতে নিমজ্জিত এলাকা উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, থেতরাই, গুনাইগাছ ও বজরা ইউনিয়নে এখনো ত্রাণ পৌঁছেনি। এলাকাগুলোতে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও নদীভাঙনের শিকার। এসব ইউনিয়নের ৬১ টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ২ হাজার ৪ শত প্যাকেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব প্যাকেটে থাকবে ২০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিড়া ও ৫০০ গ্রাম চিনি।

এতে প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে ৩৯ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এই ত্রাণের প্যাকেট পাবেন। কিন্তু জুন ফাইনালের ব্যস্ত থাকায় সেএ খাদ্যগুলোও বিতরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন, উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজউদ্দৌলা।

এদিকে বরাদ্দ পেলেও ব্রহ্মপুত্রের ভাটির উপজেলা রৌমারীতে এখনও ত্রাণ বিতরণ শুরু হয় নাই। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারএ আল ইমরান জানান, তারা প্যাকেট করছেন শুকনো খাবারের। বুধবার সম্ভব না হলে, আগামী বৃহষ্পতিবার থেকে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

নাগশ্বেরী উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার পানিবন্দী মানুষের মাঝে, মাত্র ড়েশ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। চালের বরাদ্দ পেলেও এখনো তা বিতরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর আহাম্মেদ মাছুম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের কন্ট্রোল রুম সুত্র জানায়, জেলার প্রধান সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য খয়রাতি চাল ৩০৩ দশমিক ০১৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খয়রাতি নগদ টাকা দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে শুকনো খাবার সংগ্রহ করে ও খয়রাতি চালসহ প্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিসের বন্যা নিয়ন্ত্রন কক্ষ সুত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বন্যার পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো- নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃগামারী মোল্লাপাড়া গ্রামের আমীর হোসেনর শিশুপুত্র বিল্লাল হোসেন (৪), উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের জানজায়গীর গ্রামের, সাইফুল ইসলামের দেড় বছরের শিশুপুত্র মোত্তাকিম ও চিলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর কড়াইবরিশাল গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা যায় ৭ বছর বয়সের শিশু শান্ত। তার বাবার নাম জাহেদুল ইসলাম। তাদের বাড়ি জামালপুর জেলার বকসীগঞ্জে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়