চীন-ভারত উত্তেজনা এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

আগের সংবাদ

আরো একজনের লাশ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

পরের সংবাদ

করোনা পরীক্ষায় ফি আরোপ কার স্বার্থে?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩০, ২০২০ , ৫:৪১ অপরাহ্ণ

সরকারিভাবে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার সুযোগ আর থাকছে না। নির্ধারিত ফি দিয়ে এ পরীক্ষা করতে হবে। গত সোমবার এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক দৈন্যতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় করোনা নমুনা পরীক্ষায় সরকারিভাবে ফি আরোপ অমানবিক। আমরা মনে করি, করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ দরিদ্র মানুষ পরীক্ষার সুযোগ কম নেবে। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুঃসময়ে দেশের বহু মানুষ কর্মহীন। জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে যাওয়ায় বড় শহর থেকে মানুষ গ্রামে ফেরত যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, বহু পরিবার এখন তিন বেলা খেতে কষ্ট হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৪৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগ করোনা পরীক্ষার ফি বিষয়ে পরিপত্র জারি করা যুক্তিযুক্ত কিনা। পরিপত্রে বলা হয়েছে, বুথে ও হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা করে দিতে হবে। আর বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা দিতে হবে। সরকারি তথ্যানুসারে গত এক মাসে পরীক্ষাগার ও নমুনা সংগ্রহের পরিধি অনেক বাড়লেও বেশির ভাগ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত। এমনো দেখা গেছে, কোনো কোনো পরীক্ষাগার কিছুদিন কাজ চালানোর পর হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহের কাজেও দেখা দিয়েছে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে করোনা পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কোথাও গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার কোথাও একই ঘরের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করতে যাওয়া সবাইকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৬০টি ল্যাবে পরীক্ষা চলছে, যার ৩০টিই ঢাকায় এবং ১৭টি ল্যাব সাতটি জেলায়। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যখন অব্যাহত রয়েছে, তখন পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখা উচিত, আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে কী কী ভুল করছি, সীমাবদ্ধতাগুলো কী ছিল। পৃথিবীরজুড়ে চেষ্টা চলছে এই মহামারি মোকাবিলার জন্য। সবাই দিনে দিনে উন্নতি করছে। আমরা কেন পিছিয়ে পড়ছি? ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের চেয়ে আমাদের দেশে করোনার পরীক্ষা এখনো কম। ফি নির্ধারণ হলে পরীক্ষা করাতে মানুষ আরো অনাগ্রাহী হবে, এতে সন্দেহ নেই। ফি নির্ধারণের ফলে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি আরো উসকে দেবে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার ফলে স্বাস্থ্য সেক্টরে যে বেহাল দশা, তার দায়ও কি সাধারণ মানুষের? এই মহাদুর্যোগের সময় রাষ্ট্রকে তার নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে হবে, প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের উচিত করোনা পরীক্ষার ফি নেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নতুন করে ভাবার।

ডিসি