রাস্তার ধস ঠেকাতে এগিয়ে এলেন তরুণরা

আগের সংবাদ

করোনা মোকাবিলা ও অর্থনীতি চালুর যুগপৎ সমাধান

পরের সংবাদ

এমন করুণ দৃশ্য আর কত দেখব

ইমরান ইমন

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩০, ২০২০ , ৫:৩২ অপরাহ্ণ

‘স্বপ্ন লাশ হয়ে ফিরবে, দেহের অস্তিত্বের নৃশংস বিলীন হবে; এমনটা কার ছিল অনুভবে?’ আমাদের ভাবনায় অনেক কিছুই থাকে না, অনেক কিছুই আমরা আশা করি না, তবুও আমাদের জীবনে ভূমিকম্পের মতো হঠাৎ করেই ঘটে যায় ভাবনাহীন, আশাহীন, অকল্পনীয় কিছু মর্মান্তিক ঘটনা। নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায়ের ঘণ্টা বাজার আগেই সেসব ঘটনা আমাদের পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়। এমনি একটি মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা গত সোমবার ঘটে গেছে রাজধানীর নাভি খ্যাত বুড়িগঙ্গার তীরে। যে বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে হাজারো সংগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য সে বুড়িগঙ্গার বুক চিরে সূচিত হলো এক আর্তনাদের ইতিহাস। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক জীবন্ত প্রাণ লাশের স্ত‚পে পরিণত হয়েছে।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা অর্ধশতাধিক মানুষ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চ। এতগুলো মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে ‘মর্নিং বার্ড’ ছুটে চলছে। একসময় হাঁটি হাঁটি পা পা করে এসে পৌঁছাল বুড়িগঙ্গার তীরে। পাড়ে নোঙর করবে আর জীবন সংগ্রামে ছুটে চলা যাত্রীরা যার যার গন্তব্যে চলে যাবে, ঠিক সে মুহূর্তেই যেন বুড়িগঙ্গার আকাশ ভেঙে পড়ল। সময়টা তখন সকাল ৯টা বেজে ৫৫ মিনিট। বিপরীত পাশ থেকে আসা চাঁদপুরগামী দানবাকৃতির ‘ময়ূর-২’ কোনো বিলম্ব ছাড়াই তুমুল বেগে ‘মর্নিং বার্ড’-এর বুকের ওপর সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বুড়িগঙ্গার অতলে ডুবে যায় ‘মর্নিং বার্ড’।
ক্ষণিকের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক জীবন্ত মানুষের চিরকালের জন্য জীবন প্রদীপ নিভে যায়। লাশের মিছিল ও আত্মার আর্তনাদে বুড়িগঙ্গা এখন কাঁদছে। বুড়িগঙ্গার আকাশে-বাতাসে এখন শোকের ছায়া।

মনে প্রশ্ন জাগছে এতগুলো মানুষের নির্মম মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? সিসি টিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মর্নিং বার্ড ঘাটে নোঙর করার জন্য কিনারায় এসেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত পাশ থেকে আসা ‘ময়ূর-২’ ইচ্ছাকৃতভাবে তীব্র বেগে ধাক্কা দেয় ‘মর্নিং বার্ড’কে। সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গার অতলে ডুবে যায় ‘মর্নিং বার্ড’। নিবে যায় অসংখ্য জীবন প্রদীপ, ম্লান হয়ে যায় অজস্র স্বপ্ন-আশা। এ মর্মান্তিক ঘটনাকে আমরা কী হিসেবে অভিহিত করব দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? কেন ‘ময়ূর-২’ লঞ্চ ‘মর্নিং বার্ড’কে অন্যায়ভাবে আঘাত করল? কেন এতগুলো মানুষের জীবন কেড়ে নিল? এখন এতগুলো মৃত্যুর দায়ভারই বা কে নেবে? বুড়িগঙ্গার চারদিকে এখনো স্বজনদের কান্নার রোল, আহাজারি। আপনজনের খোঁজে স্বজনরা পাগলের মতো ছোটাছুটি করছেন চারপাশে। অনেকে আপন মানুষটির শেষ নিশানাটুকুও খুঁজে পাননি। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়েছেন। কেউ বাবা হারিয়েছেন, কেউ মা হারিয়েছেন, কেউ ভাই অথবা বোন হারিয়েছেন। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে কেউ এখন বিধবা হয়ে গেছেন। সদ্য বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী দুজনই হয়তো একসঙ্গে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

ময়ূর-২ লঞ্চের চালক তথা একজন মানুষের ভুল, অসাবধানতা বা অন্যায়ের কারণে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন, সুখের সংসার ভেঙে এখন টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। প্রিয়জন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে গেছে।
এমন করুণ দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না। এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটুক।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি