এই দুঃসময়ে অনেকেই স্বার্থ উদ্ধারে হাঁটছে

আগের সংবাদ

আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তোলা নিয়েও রাজনীতি

পরের সংবাদ

এত প্রাণহানির দায়ভার কে নেবে?

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩০, ২০২০ , ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

গতকাল রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শতাধিক যাত্রী ছিলেন ওই লঞ্চে। নিখোঁজ রয়েছে অসংখ্য মানুষ। উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে শতাধিক মৃত্যুর। প্রতিক‚ল আবহাওয়া বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এই লঞ্চডুবি ঘটেনি, ঘটেছে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষের কারণে। এটাকে দুর্ঘটনা তথা দৈব-দুর্বিপাক বলার কোনো সুযোগ আছে কি? নৌচালনা সংক্রান্ত বিধানের লঙ্ঘন, সর্বোপরি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীন আচরণের মাধ্যমে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড এটি। যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনদের কি কোনো সান্ত্বনা পাওয়ার সুযোগ আছে? চরম শোকাবহ এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারাধীন করা ও উপযুক্ত শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নৌপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনা হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামবে না, থামবে না মৃত্যু, স্বজনের কান্না। জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে ময়ূরী দুই লঞ্চটি মেরামতের পর বুড়িগঙ্গা নদীতে নামানো হয়। ওই সময়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের কাটপট্টি ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছিল। ময়ূরী সরাসরি পেছন দিকে মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিলে সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা লঞ্চের মধ্যে আটকা পড়ে ডুবে যান। বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ। দেশে প্রায়ই ঘটছে নৌদুর্ঘটনা। নৌদুর্ঘটনায় বোধগম্য কারণেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। ঘটনা ঘটার পর যথানিয়মে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখলেও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি পাওয়ার নজির তেমন দেখা যায় না। স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র তিনটি তদন্ত প্রতিবেদন। অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনাই মূলত এ দেশে নৌদুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব দূর করে দেশের নৌপথগুলোকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখার দাবি পুরনো। অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশে (আইএসও) লঞ্চডুবির কারণে দায়ী লঞ্চ মালিক, মাস্টার ও চালকের শাস্তির বিধান রয়েছে। এদের নিবন্ধন বাতিল, এমনকি জেল-জরিমানার কথাও উল্লেখ আছে। এছাড়া লঞ্চ জরিপকারকেরও শাস্তি, এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার বিধান আছে আইএসওতে। ১৯৭৬ সালে আইএসও প্রণীত হয়। পাঁচ দফায় এটি সংশোধনও হয়। সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু নকশা প্রণয়নকারী, এ সম্পর্কিত সনদ প্রদানকারী ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভুল বা ত্রু টিজনিত কাজের শাস্তির বিধান যোগ হয়নি কোনো সংশোধনীতে। যার জন্য কোনো লঞ্চ ডুবলে এবং মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও এদের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। আমরা মনে করি, নৌ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, রুট পারমিটের নিয়ম চালু, ত্রু টিপূর্ণ নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সনদ দেয়া, নৌপুলিশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি।

ডিসি