বিএসএমএমইউর ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

আগের সংবাদ

চলে গেলেন ‘গেদু চাচা’ খ্যাত মোজাম্মেল হক

পরের সংবাদ

বাড্ডা থানায় মামলা

মৃত্যু নয়, সাংবাদিক নান্নুকে হত্যা করেছেন স্ত্রী-শাশুড়ি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০২০ , ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কোনো দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়নি। নান্নুর স্ত্রী শাহিনা হোসেন পল্লবী, মাতা শান্তা পারভেজ ও পল্লবীর কথিত কর্মস্থল এর সিইও মিলে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) নান্নুর বড়ভাই নজরুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গত ১১ জুন মধ্যরাতে নান্নু তার আফতাবনগরের ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন সকালে তার মৃত্যু হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই যশোরে তার শ্বশুরবাড়িতে দাফন করা হয়। এর আগে গত ২ জানুয়ারি একই ফ্ল্যাটে নান্নু-পল্লবী দম্পত্তির একমাত্র সন্তান স্বপ্নীল আহমেদ একইভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলে তার লাশও একইভাবে দাফন করা হয়। তার মৃত্যু রহস্যঘেরা। নান্নু হত্যা মামলার সঙ্গে এখন স্বপ্নীলের মৃত্যু আসলে খীভাবে হয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পর নান্নু তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ও ট্রাষ্ট করার চিন্তা করছিলেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। মূলত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কব্জা করতেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

নান্নুর মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই রহস্য দানা বাধে। তদন্তে নামে পুলিশ, সিআইডিসসহ একাধিক সংস্থা। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক নান্নুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটি করে। পৃথক তদন্তে অভিন্ন তথ্য প্রমাণ মিলতে শুরু করে। এরপরই সোমবার হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বাড্ডা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, বার্ন ইউনিটে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন নান্নুকে তার স্ত্রী স্যুপ খাওয়ান। যা পল্লবীর কথিত কর্মস্থলের সিই্ওর বাসা থেকে আনা হয়। স্যুপ খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই নান্নুর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

পুলিশের গুলশান জোনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তদন্তে পল্লবী সবাইকে সহযোগিতা করবেন জানালেও এখন তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পল্লবী ও তার মাকে আটকের চেষ্টা চলছে। পল্লবীর কথিত কর্মস্থলের নাম ইনফিনিটি মাার্কেটিং লি.। এর সিইও সিরাজুল আমীন রুমেল। ঘটনার পর থেকে তিনি একটি কালো রঙের পাজেরা জিপ গাড়ি নিয়ে পল্লবীর সঙ্গে ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে লাশ দাফন করা হয়েছে। পল্লবী নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া এডভাইজার বলে দাবি করতেন।

এসআর