করোনায় আক্রান্ত কমরেড হায়দার হাসপাতালে ভর্তি

আগের সংবাদ

পাপুল পরিবারের কোম্পানির খোঁজে জয়েন্ট স্টকে চিঠি

পরের সংবাদ

বলিউডের অন্ধকার

বয়স্ক পরিচালকের সঙ্গে লিভ-ইনে রহস্যময় পরিণতি

লাইভ বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০২০ , ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

পরিবারের দেয়া নাম ছিল ভিরা সুন্দর সিংহ। বলিউডের প্রযোজক-পরিচালক চেতন আনন্দ তার নাম দেন প্রিয়া রাজবংশ। প্রথম ছবিই হিট। এরপর ২১ বছরের বড় পরিচালকের সঙ্গে লিভ-ইন। জীবনে আর বেরুতে পারেননি চেতনের ছায়া থেকে। করতে পারেননি অন্য কারো সঙ্গে কাজও। শেষ পরিণতিও ছিল ভয়ঙ্কর। বলিউডের এলাম, দেখলাম, জয় করলাম নায়িকা খুন করা হয়। কে বা কারা করেছিলেন খুন? এ প্রশ্নের উপরের উত্তর মিললেও অন্তরালের উত্তর আজও অজানা।

প্রিয়ার জন্ম ১৯৩৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর। পরিবারের দেয়া নাম ছিল ভিরা সুন্দর সিংহ। তাঁর বাবা ছিলেন বনদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। সিমলায় পাহাড়ের কোলে দুই ভাইয়ের সঙ্গে বড় হয়েছিলেন ভিরা। ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। অভিনয়ের টানে বেছে নিয়েছিলেন নায়িকার ক্যারিয়ার। নায়িকা জীবনে ওঠাপড়া এবং ব্যর্থতা তো ছিলই। কিন্তু শেষ অবধি মুখোমুখি হয়েছিলেন ভয়ঙ্কর পরিণতির।

প্রিয়া রাজবংশ

সিমলার কনভেন্ট স্কুল এবং কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন ভিরা। মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি নাটকেও আগ্রহ ছিল ভিরার। মাত্র ন’বছর বয়সে প্রথম অভিনয় মঞ্চে। এরপর কলেজ জীবনেও বেশ কিছু ইংরেজি নাটকে অভিনয় করেছেন। স্নাতক হওয়ার পরে কিছু দিন কাটিয়েছেন লন্ডনের রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টে। সে সময় একটি ইংরেজি ছবিতে অভিনয়ের কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি ছবিটি আর তৈরি হয়নি।

সে সময় লন্ডনে ২২ বছর বয়সি ভিরার ছবি তুলেছিলেন এক ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার। সেই ছবি কোনোভাবে পৌঁছে যায় বলিউডের পরিচালক চেতন আনন্দের কাছে। চেতন সে সময় তার নতুন ছবির জন্য নতুন নায়িকা খুঁজছিলেন। ভিরার ছবি পছন্দ হয় চেতনের। ১৯৬২ সালে ভিরাকে ‘হকীকত’ ছবির নায়িকা হিসেবে মনোনীত করেন চেতন আনন্দ। ভিরার নামও পাল্টে দেন। নতুন নাম হয় প্রিয়া রাজবংশ।

প্রিয়া রাজবংশ ও পরিচালক

‘হকীকত’ ছবিটি বক্সঅফিসে সুপারহিট হয়। ভারতীয় ছবির ইতিহাসে এই ছবিটিকে অন্যতম সেরা ছবি বলা হয়। ছবির পরিচালক-নায়িকার সফল রসায়ন কার্যকর হয় পর্দার বাইরেও। বয়সে ২১ বছরের ব্যবধান দূরে সরিয়ে একে অন্যের প্রেমে পড়লেন চেতন আনন্দ এবং ভিরা।

১৯৬৪ থেকে ১৯৮৬ অবধি বাইশ বছরে মাত্র সাতটি ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রিয়া। প্রত্যেক ছবির পরিচালকই ছিলেন চেতন আনন্দ। ‘হকীকত’ ছাড়া বাকি ছবিগুলি হলো ‘হাথো কি লকীড়েঁ’, ‘কুদরত’, ‘সাহেব বাহাদুর’, ‘হাসতে জখম’, ‘হিন্দুস্তান কি কসম’ এবং ‘হীর ঝঞ্ঝা’।

প্রিয়া রাজবংশ

চেহারা এবং উচ্চারণে পাশ্চাত্য প্রভাব থাকায় বলিউডে জনপ্রিয় নায়িকা হয়ে উঠতে পারেননি প্রিয়া। চেতনের ছবি ছাড়া অন্যকারও নির্দেশে কাজ করার বিশেষ ইচ্ছেও দেখাননি তিনি। গতানুগতিক বলিউডি নায়িকার বাইরে প্রিয়া যুক্ত থাকতেন ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজেও।

চেতন-প্রিয়া দীর্ঘ দিন ধরে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। তার সঙ্গে আলাপের আগেই স্ত্রী উমার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল চেতনের। কিন্তু তার দুই ছেলে কেতন ও বিবেক আনন্দ কিছুতেই এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি।

প্রিয়া রাজবংশ

মুম্বইয়ের জুহুতে চেতন আনন্দের রুইয়া পার্কের বাংলোয় থাকতেন দু’জনে। তবে প্রিয়ার নিজস্ব সম্পত্তিও কিছু কম ছিল না মুম্বইয়ে। অভিজাত এলাকায় একটি বাড়ি ও বাংলোর পাশাপাশি চণ্ডীগড়ে ছিল বাবার বাড়ি। তার দুই ভাই কমলজিৎ লন্ডনে এবং পদ্মজিৎ থাকতেন আমেরিকায়।

১৯৯৭ সালের ৬ জুলাই ৮২ বছর বয়সে মারা যান চেতন আনন্দ। তার মৃত্যুর পরে দেখা যায় তিনি দুই ছেলের সঙ্গে প্রিয়াকেও সম্পত্তির সমান ভাগ দিয়ে গিয়েছেন। এখানেই তীব্র হয় বিবাদ। জুহুর বাংলো
বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন প্রিয়া। কিন্তু বাধা দেন বাকি দুই অংশীদার, চেতনের দুই ছেলে।

সিনেমার দৃশ্যে প্রিয়া রাজবংশ

সে সময় বাংলোর বাজারদর ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা। ২০০০ সালের ২৭ মার্চ ওই বাংলোয় নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় প্রিয়াকে। তার দুই ভাই এবং টেলিভিশন অভিনেতা সুরেশ আরুমুগম অভিযোগ
করেন, তাকে খুন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করে পুলিশে গ্রেপ্তার করে কেতন ও বিবেক আনন্দকে। খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ওই বাংলোর এক পরিচারক ও এক পরিচারিকাকে। এই মামলায় দুই আনন্দ ভাইয়ের দাবি ছিল, বাথরুমে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রিয়ার।

প্রিয়া রাজবংশ

মামলার টানাপড়েনে খুনের সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করা হয় চেতন আনন্দের ভাই বিজয়কে লেখা প্রিয়ার একটি চিঠিও। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে সেই চিঠিতে প্রিয়া লিখেছিলেন, তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এই মামলায় কেতন ও বিবেক দোষী সাব্যস্ত হন। খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। খুন করার অপরাধে পরিচারক ও পরিচারিকারও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে
অবশ্য ২০০২ সালে চার জন হাইকোর্টে জামিনে মুক্তি পান।

প্রিয়া রাজবংশ

প্রিয়ার দুই ভাইয়ের অভিযোগ, তাদের বোনের জীবনের এই করুণ পরিণতির জন্য দায়ী পরিচালক চেতন আনন্দই। তিনি যেমন প্রিয়াকে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলে, আবার তিনি-ই নাকি প্রিয়াকে অন্য
পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে দেননি। চেতনের ছায়া থেকে বেরতে না পারার মাশুল প্রিয়াকে দিতেহয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে।

প্রিয়া রাজবংশ
এনএম