ট্রাম্পকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় ইরান

আগের সংবাদ

‘গ্লাস খুলে বের হইছি, দুই মামাকে হারাইছি’

পরের সংবাদ

কোরবানী ঈদ টার্গেট ছিল চক্রটির

জেল থেকে ফিরে আবারো জালটাকা বানায় সেলিম

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২০ , ৮:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৯, ২০২০ , ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

সাত মাস আগে জেল থেকে বের হয়ে আবারো পুরোনো পেশাতে ফিরে আসে এ চক্রের মূলহোতা মো. সেলিম (৪০)। লোভের ফাঁদে পা দিয়ে মো: মনির (৪৫) নামের এক উবার চালকও তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তার বাড়িতেই জাল টাকা ছেপে বের হচ্ছে এমন সময় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়াও নকল ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিও উদ্ধার করা হয়। অভিযাত বসুন্ধরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছিল যাতে কেউ তাদেও সন্দেহ না করে। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল চক্রটি। এ চক্রের আরো কয়েকজন সদস্যকেউ আটক করা হয় সে সময়।

রাজধানীর মিরপুর ও বসুন্ধরা থেকে বিপুল পরিমান জাল নোট ও রপি তৈরির মেশিন এবং কাঁচামালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোমবার (২৯ জুন) ভোরের কাগজকে এসব তথ্য জানান অভিযানের নেতৃত্বদানকারী র‌্যাব-২ এর মেজর আরেফীন।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল একটি চক্র ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকা ও রপি তৈরী করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার রাত ১২টা থেকে গতকাল সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মিরপুর পল্লবী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেলিম ও মনির ছাড়াও মো. মঈন (৪০) মোছা. রমিজা বেগম (৪০), মোছাঃ খাদেজা বেগম (৪০) ও মো. শাহীনুর ইসলামসহ (১৫) মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান স্থল থেকে উদ্ধার করা হয় জাল টাকা ও রুপি বানানোর জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ডাইস, কাটার ও প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল টাকা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাচামাল (কাগজ, কালি, জলছাপ দেয়ার সমাগ্রী) উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত জালটাকা।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার মো. সেলিম সাত মাস আগে জেল থেকে বের হয়ে আবারো পুরোনো পেশাতে ফিরে আসে। জাল টাকা বানানোর অভিযোগে র‌্যাব-২ এর হাতে এর আগেও একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এবার বের হওয়ার পরে তার সঙ্গে পরিচয় হয় উবার চালক মনিরের। সখ্যতা গড়ে উঠলে সেলিম তাকে জাল টাকা তৈরীর কাঁচামাল এনে দিতে অনুরোধ করে। তবে মনির জানতো না সে কি আনছিল তার জন্য। এর মধ্যে সেলিমের বাড়িওয়ালার সন্দেহ হলে বাসায় কি করছেন এত কেমিক্যালের গন্ধ কেন জানতে চাইলে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন তিনি। এর মধ্যে সেলিম সব খুলে বলে মনিরের মিরপুর থানাধীন ১২/ই ব্লক ৬২ নাম্বার বাসায় সাবলেট হিসেবে উঠে যায়। মনির লোভের ফাঁদে পা দিয়ে উবার চালক থেকে জাল টাকার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মিরপুর ছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা জি ব্লকের একটি বাসা ভাড়া নেয় তারা। ওই দুই বাসাতেই অভিযান চালিয়ে আনুমানিক চার কোটি ১ হাজার টাকার জাল নোট ও ভারতীয় ৫০০ ও ২০০০ এর আনুমানিক ৪০ লাখ নকল রুপি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আটক মঈন টাকা ছাপানোয় সহযোগিতা করত মনিরকে। রমিজা বেগম সেলিমকে কাগজে আঠা লাগানোর কাজে সহয়তা করতো ও প্রয়োজনীয় ফুটফরমাশ খাটতো। খাদিজা বেগম ও শাহীনুর সাদা কাগজে নিরাপত্তা সুতার জলছাপ দেয়ার কাজ করতো। মেজর আরেফীন বলেন, ১ লাখ টাকার জাল নোট ১৫-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এ বিপুল পরিমান জাল টাকা আসন্ন কোরবানি ঈদে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। জাল টাকা চক্রের একটি বিশাল সিন্ডিকেট দেশের অভ্যন্তরে কাজ করছে। তবে বেশীভাগ সময় এদের পরিচয় বের হওয়া কঠিন হয়ে পরে কারন এরা ফোন নাম্বার ও জায়গা বার-বার পরিবর্তন করে। দেখা না করে আলাদা-আলাদা নাম্বার দিয়ে অর্ডার করে একেক সময় একেক জায়গা থেকে ডেলীভারি নেয। তাদের গ্রেপ্তারেও র‌্যাবের অভিযান পূর্বের ন্যায় চলমান রয়েছে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়