বিআইডব্লিউটির উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে আসেনি

আগের সংবাদ

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবে মৃত্যু বেড়ে ২৪

পরের সংবাদ

পদ্মা সেতু প্রকল্প

চাঁদা ছাড়া তীরে ভিড়ে না জাহাজ

আজিজুর রহমান জিদনী :

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০২০ , ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

চাঁদা ছাড়া পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পাথর পদ্মার তীরে নামানো যায় না। পদে-পদে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলে। সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক প্রকৌশলী তার লোকজন দিয়ে এ কাজটি করছেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় পদ্মা সেতুর রেল ট্র্যাকের কাজের জন্য আনা পাথর খালাস করতে দেয়া হচ্ছে না। পাথর বোঝাই ২১টি লাইটার জাহাজ গত ২ জুন থেকে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প এলাকায় ভাসমান অবস্থাতেই রয়েছে বলে অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের। তবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল মুহাম্মদ কাদের তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

এদিকে, গত ২৩ জুন বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর হাতিরপুলে নাসির ট্রেড সেন্টারের তৃতীয় তলায় এরশাদ গ্রুপের অফিস থেকে অস্ত্রসহ মাকসুদ বাবুল মোল্লা (৪৫) ও আবু তালেব লালু (৩১) নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। তখন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় অর্ধ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে ওই দুজন অস্ত্রসহ তাদের প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল মুহাম্মদ কাদেরের লোক। আর মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স এরশাদ গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় ওই দিনই এরশাদ গ্রুপের পক্ষ থেকে মো. আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে চাঁদা দাবি ও বৈধ অস্ত্রের অবৈধ প্রদর্শনের অভিযোগে আটক দুজনের নামসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যদিও গ্রেপ্তার দুজনের দাবি ব্যবসায়িক পাওনা টাকা চাইতে এসেছিলেন তারা। অভিযুক্তরা এখন কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হাসান আরেফীন বলেন, এরশাদ গ্রুপের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে থাকা অস্ত্রটি মাকসুদ বাবুল মোল্লার নামে লাইসেন্স করা। নিজেকে ঠিকাদার দাবি করে বলেছেন এরশাদ গ্রুপের সঙ্গে আগে ব্যবসা করতেন। পাওনা টাকা নিতে গিয়েছিলেন। তবে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে মামলার বাদীপক্ষ এরশাদ গ্রুপের দাবি তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে, চাঁদা দাবি করেছে।
এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ২০১৬ সাল থেকে পাথর সাপ্লাই দিয়ে আসছি। বর্তমানে পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্পের সংযোগ সড়কের কাজও পেয়েছি। এ জন্য ৫০ হাজার টন পাথর এই মাসের মধ্যেই দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা দুবাই থেকে পাথর এনেছি। গত ২ জুন কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজে পাথর আনা হয়। সেখান থেকে ছোট লাইটার জাহাজে প্রকল্প এলাকাতে নেয়া হয়। তবে ২১টি লাইটার জাহাজ প্রকল্প এলাকা শরিয়তপুর জাজিরা পয়েন্টে ২ জুন থেকে ভাসমান অবস্থায় আছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাদের লাইটার জাহাজের পাথর নদীর তীরে নামাতে বাধা দিচ্ছে। পাথর কেন আনলোড করতে দেয়া হচ্ছে না এ মর্মে আমরা ৯ জুন জাজিরা থানায় একটি জিডি করি। এরপর লোক মারফত তিনি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে মাল খালাস করতে দেবেন বলে জানান। পাথর নদীর তীরে নামাতে না পারায় জাহাজের ভাড়া বাবদই কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে। অন্য পাথর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেরও একই অবস্থা। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারি না। প্রতি চালানেই পাথর নামাতে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে হয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল মুহাম্মদ কাদের গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার কোনো লোক তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেনি। আমি তাদের চিনিও না। তাদের দু’একজন আমাকে ফোন করেছে। আর তাদের মালামাল নামানোর কোনো অনুমতিও নেই। এছাড়া আমি পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তারা যে মালামাল এনেছে এগুলো রেল লিংক প্রজেক্টের। মালামাল নামাতে রেল লিংক প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো অনুরোধ করেনি। মালামাল নামাতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে এরশাদ গ্রæপের চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৬ সাল থেকে পাথর সরবরাহ করছি। সরকারি প্রজেক্ট হওয়ায় প্রকল্প এলাকায় পাথর নামাতে কোনো বাধা নেই। তিনি (প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল মুহাম্মদ কাদের) একেক সময় একেক ধরনের বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন।

ডিসি