মরগানের পছন্দ মেসি-দীপিকা

আগের সংবাদ

দূর্গাপুরের বাঁধ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা

পরের সংবাদ

সমন্বয় সভার নামে কালক্ষেপণ

কুড়িগ্রামে ত্রাণের ছিঁটেফোঁটাও পৌঁছেনি

তৈবুর রহমান, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০২০ , ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘরে পানি, খাদ্য সংকট আর নদী ভাঙনে অস্থির মানুষজনের মাঝে শুরু হয়েছে আহাজারি। ৪ দিন আগে জেলা প্রশাসকরে কার্যালয় থেকে চাল ও নগদ টাকা দেয়া হলেও, উপজেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা আর সমন্বয় মিটিংয়ের নামে কালক্ষেপন করা হচ্ছে বলে জনপ্রতিনিধরা অভিযোগ করেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় ২৯ তারিখ পর্যন্ত বরাদ্দের একটি খাদ্যের দানাও বন্যা দুর্গতদের মাছে পৌঁছেনি।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১৫ হাজার মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের হাতে কোন কাজ না থাকায় জরুরিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে এই ইউপি চেয়ারম্যান দাবী করেন। এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন চাল বা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাননি বলেও জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের বদলীপাড়া এলাকার ছকিনা বেওয়া, সুরুজ্জামান, শাহাজাহান জানান, গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। হাতে কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। এ অবস্থা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন পাড় করছি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ময়নুদ্দিন ভোলা জানান, তার ওয়ার্ডের পানিবন্দি মানুষেরা অবর্ণনিয় কষ্টে থাকলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদেরকে কোন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি বলে জানান চেযারম্যান সিদ্দিক মন্ডল।

কবে ত্রাণ বিলি হবে, কত প্যাকেট শুকনো খাবার বিলি করা হয়েছে, এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসণ কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।

এদিকে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমর ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে প্রায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা হারিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এই বন্যা ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একটু শুকনো ও উঁচু জমিনের সন্ধানে নৌকায় সবকিছু তুলে নিয়ে ছুটছেন- এ চর আর ও চরে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন করে চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের কয়েকশ ঘর-বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানি ঢুকেছে রৌমারী উপজেলার খঞ্জনমারা, যাদুর চর, ফুলুয়ার চর ধনার চরে। রাজীবপুর উপজেলা ৩টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটি ইউনিয়নের সবকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। ইউনিয়ন দুটি হলো, মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি। এসব এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন নতুন এলাকার বীজতলাসহ ফসল পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। এতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাক সবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল। বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাপ্ত তথ্য মতে, সোমবার (২৯ জুন) রাত থেকে ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করছেন। ধরলার পানিও স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি জানান।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, পানিবন্দি তার এলাকার মানুষজনও এমন তথ্য দিচ্ছেন যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থির অবস্থায় রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, আজ ধরলা নদী বিপদসীমার উপরে ৭৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৭৬ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৩ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি কমে ১৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ত্রাণ পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য খয়রাতি চাল ৩০৩ দশমিক ০১৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পিআর