আইজিপির সঙ্গে পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

আগের সংবাদ

পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

পরের সংবাদ

করোনাকালে কী করতে পারে আবাসিক সোসাইটিগুলো

বোরহান বিশ্বাস

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০২০ , ৮:০০ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা এখন প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি। এই সংখ্যা এখন ঊর্ধ্বগতিতে ধাবমান। কবে নাগাদ নিম্নগামী হবে, তা অনুমান নির্ভর। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে সরকার এ পর্যন্ত কখনই পুরোপুরি লকডাউনে যায়নি। শুধু সাধারণ ছুটিই ঘোষণা করেছিল। মূলত জনমানুষের রুটি-রুজির কথা চিন্তা করেই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত।

সর্বশেষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে বিভক্ত করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে মতো কার্যক্রমও শুরু হয়েছে সীমিত পরিসরে। রাজধানীর রাজাবাজার এলাকা দিয়ে এই কর্মকাণ্ডটি প্রথম শুরু হয়। ক্রমেই বিভিন্ন এলাকায় তা বিস্তৃত হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক এই লকডাউনে আবাসিক ও হাউজিং সোসাইটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকে অবশ্য ইতোমধ্যে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণও করেছে।

যেসব এলাকায় আবাসিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের কাছে নিশ্চয়ই স্থানীয় বাড়িওয়ালা বা ফ্ল্যাট মালিকদের যোগাযোগ নম্বর থাকে। একটু উদ্যোগী হলেই ওই সোসাইটি বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের খবর সংগ্রহ করতে পারে। একইভাবে তারা ফ্ল্যাট মালিকদেরও তথ্য জেনে নিতে পারে। সোসাইটি মানে নির্দিষ্ট কয়েকটি গলি নিয়ে এলাকা কর্ডন বা ঘেরা দিয়ে নিজেদের মতো করে চলা। যেখানে নির্দিষ্ট কিছু গেট দিয়ে ওই এলাকার লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। এটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকে।

রাজধানীতে সাধারণত রাত ১১টার পর বিভিন্ন সোসাইটির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। শুধুমাত্র পকেট গেটটি খোলা রাখা হয়। ওই সময় কেউ ঢুকতে চাইলে তাকে পরিচয় ও গন্তব্যের ঠিকানা বলতে হয়। এই কাজটিই যদি কিছু সংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে দিনের বেলায় করা যায়, তাহলে করোনা সংক্রমণের এই সময়ে সোসাইটি এলাকায় অযাচিত লোক, ভ্যান, গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখলে কোনো বাসায় কেউ করোনাক্রান্ত হলে তা সোসাইটি দ্রুতই জানতে পারবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওই বাসাটিই লকডাউনের আওতায় আনা যেতে পারে। অন্য বাসা নয়। কর্তৃপক্ষ তাদের লোকবল দিয়ে এর ভেতরে অবস্থিত দোকানপাট, মসজিদ, কিংবা বসবার মতো স্থানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে কঠোর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে পারে সোসাইটিবাসিদের।

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ১নং ওয়ার্ডে উত্তর-পশ্চিম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিক মোস্তফা চঞ্চল। কথা প্রসঙ্গে জানালেন, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময় আমরা সোসাইটির তিনটি গেটের মধ্যে একটি গেট খোলা রেখেছি। সেটি দিয়ে এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশের গাড়ি টহলে আসতো। এখন সব গেটই খোলা।

সোসাইটির আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে রাতে তিনজন নিরাপত্তাকর্মী ডিউটি করছেন। আর্থিক সমস্যার কারণে দিনে কাউকে দিতে পারি না। গেটগুলো খোলা থাকায় প্রতিদিন বিকেলে বাইরে থেকে বখাটে ছেলেরা এসে গলিতে বসে আড্ডা দেয়। এলাকার লোকজন সামনে এগিয়ে গেলে পালিয়ে যায়।

শফিক মোস্তফার মতে, রাজধানীর সোসাইটিগুলো তাদের সার্বিক কাজের জন্য সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সহযোগিতা চাইতে পারে। আবার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থিত সোসাইটিগুলোর কর্মকাণ্ড মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে পারে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

করোনার এই সংকটকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত আবাসিক অথবা হাউজিং সোসাইটিগুলো তাদের গঠনমূলক চিন্তাভাবনা দিয়ে স্থানীয়দের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক: সাংবাদিক।

এনএম