চীনের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে ইউরোপকে চাচ্ছে আমেরিকা

আগের সংবাদ

জিপিএ-৫ পেয়েও তপন এখন রাজমিস্ত্রি!

পরের সংবাদ

বিজেএমসি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে স্বারকলিপি ও পথ অবরোধ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৮, ২০২০ , ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে পাটকল আধুনিকায়ন করার দাবিতে বিজেএমই কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে মতিঝিলের আদমজী কোর্টস্থ বিজেএমসি কার্যালয়ের সামনে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে আগামী ২ জুলাই পাটকল বন্ধের প্রতিবাদে, যতবার খুশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিল প্রত্যাহার এবং স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা বন্ধ, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে বিনা মূল্যে সকল নাগরিকের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার দাবিতে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল এবং একই দাবিতে জেলায় জেলায় ১ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবস্থান সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূইয়া, কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা আমেনা বেগম। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণের এই দুর্যোগকালে এমনিতেই যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছে সেই সংকটকালে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন কথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার ফলে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ৫৫/৬০ হাজার শ্রমিক কাজ হারাবে। তাদের পরিবার এবং ৪০ লাখ পাটচাষী ও তাদের পরিবার, পাট ব্যবসায়ী মিলে মোট প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চরম বিপাকে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পর ৭৭টি রাষ্ট্রীয় পাটকল ছিল। ১৯৮২ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর কাঠামোগত সমন্বয়ের পরামর্শ পলিসি অনুসারে একের পর এক বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো বন্ধ করতে থাকে শাসকশ্রেণি। পানির দামে এসব কলকারখানা ব্যক্তি মালিকদের হাতে তুলে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকার এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ করে দেয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও ব্যক্তি মুনাফার জন্য তুলে দিতে স্বাধীন দেশে কথিত মুক্তিযোদ্ধা – রাজাকার আজ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা বিশ্ব আজ সবুজায়নের দিকে যাচ্ছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম তন্তু পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে। পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে তখন দেশের রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করা অযৌক্তিক-অন্যায়। তারা বলেন, দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলে প্রায় ৩০৫টি পাটকল আছে এর মধ্যে ২৮১টি বেসরকারি। ৫৬টির মতো বন্ধ রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পাটকলের আধুনিকায়ন করা, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ, মাথাভারী প্রশাসন ছোট করা ও ভুলনীতি পরিহারের দাবি জানান।

এমএইচ