অধিকতর ধনী হওয়ার প্যাথলজিক্যাল প্রতিবেদন

আগের সংবাদ

ইউরোপে প্রবেশ: বাংলাদেশ ছাড়া অনুমতি ৫৪ দেশকে

পরের সংবাদ

টাকার বিনিময়ে করোনা শনাক্ত

প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য থামাতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৮, ২০২০ , ৮:০৭ অপরাহ্ণ

বিভিন্ন বিষয়ে সার্টিফিকেট জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্য দৃশ্যমান। কোনো কিছুতেই যেন তাদের দমন সম্ভব নয়। ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে করোনার দুঃসময়ে এই জালিয়াত চক্র আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে এসব প্রতারক চক্রের কয়েকজন ধরা পড়ে। তাদের কর্মকাণ্ডে রীতিমতো হতবাক হতে হয়। জাল সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে জেকেজি হেলথ কেয়ারের অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জেকেজি রাজধানীর মুগদা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা ও নারায়ণগঞ্জে মোট ৪৪ বুথ স্থাপন করে স্যাম্পল সংগ্রহ করত বিনামূল্যে। এটি সেবামূলক কাজ হলেও আড়ালে তারা ভুয়া রিপোর্টের ব্যবসা করে আসছে। কোনো পরীক্ষা ছাড়া একদিন পরই মনগড়া রিপোর্ট দিয়ে দিত জেকেজি। সমাজে সংঘটিত আর ১০টা অপরাধের তুলনায় ভয়ানক এই জালিয়াতি মোটেও লঘু নয়। এ অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে মহামারি করোনা ভাইরাসের জাল সার্টিফিকেটের জমজমাট ব্যবসা চলছে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী চক্রগুলো করোনা নেগেটিভ এবং পজিটিভ জাল সার্টিফিকেটই তৈরি করে। সাধারণ চিকিৎসার জন্য এখন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হতে গেলেই করোনা পজিটিভ বা নেগেটিভ সার্টিফিকেট চায়। তারা এই সার্টিফিকেট ছাড়া রোগী ভর্তি তো দূরের কথা অনেক সময় চিকিৎসাই দিতে চায় না। এছাড়া বাইরে কর্মস্থল, পোশাক কারখানা এবং ভ্রমণের জন্য করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট অনেকটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপসর্গ ছাড়া করোনা টেস্ট করানো কঠিন। আবার তা সময় সাপেক্ষও বটে। আর এই সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। প্রতারক চক্র ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন হাসপাতাল, করোনা টেস্টিং সেন্টারের সিল, চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর এবং করোনা সার্টিফিকেটের স্টাইল জাল করে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দিচ্ছে। এই প্রতারক চক্র শুধু নেগেটিভ নয়, পজিটিভ সার্টিফিকেটও দিচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে যারা দেশের বাইরে যান তারাও এই জাল নেগেটিভ সার্টিফিকেট কিনছেন। করোনায় বিশ্বব্যাপী বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনা হয়েছে করোনা সনদ দেখানোর নিয়ম। আর বিদেশ ভ্রমণের জন্য অসাধু চক্রটি এই সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে চীনের গুয়াংঝু শহরগামী একটি ফ্লাইটে ১৭ বাংলাদেশি যাত্রীর করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়ার তথ্য মিলেছে। যাদের প্রত্যেকেরই বাংলাদেশ থেকে নেয়া করোনার নমুনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ ছিল। ভুয়া সনদ নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করে বহির্বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে চক্রটি। এই জালিয়াত চক্র হাসপাতাল ও টেস্টিং সেন্টার এলাকা ছাড়াও অনলাইনে তৎপর। তারা অনলাইনে করোনা সার্টিফিকেটের নানা ধরনের অফার দেয়। এ ধরনের চক্র শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও তৎপর। জাল সার্টিফিকেট, ভেজাল খাবার, ভেজাল ওষুধের চেয়েও মারাত্মক। এই সত্য সামনে রেখে অভিযানে নামা কর্তব্য। কারা জাল সার্টিফিকেট তৈরি করছে, কারা পেছন থেকে সাহস দিচ্ছে, এসব বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারা ইত্যাদি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি মনে করছি। প্রতারক চক্রকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য করোনা সার্টিফিকেট যদি বাধ্যতামূলক হয় তাহলে তা সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে দেয়ার নিয়ম চালু করতে পারে। জাল সার্টিফিকেট যদি রোধ করা না যায় তা আমাদের জন্য চরম লজ্জার হবে। তাই অতি দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া।

এসআর