ছবি এঁকে দুঃসহ সময়টা ভুলে থাকার চেষ্টা করছি

আগের সংবাদ

এবার মিথিলার মুখোমুখি স্বস্তিকা-মোশারফ করিম

পরের সংবাদ

স্বাদ-ঘ্রাণ না পাওয়া করোনার প্রথম লক্ষণ!

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৭, ২০২০ , ১২:১১ অপরাহ্ণ

ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস হাসপাতালের ফিজিওথেরাপিষ্ট ড্যানের নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হতে শুরু করলে, তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে তার হে-ফিভার অর্থাৎ ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জি হয়েছে। কিন্তু যখন পাউরুটির সাথে টম্যাটো সসে সেদ্ধ শিমের বিচি খাওয়ার সময় তিনি কোনো গন্ধ পেলেন না, তখন ২৩ বছরের এই যুবক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। “আমি ধরেই নিলাম, অন্য কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঢক ঢক করে পুরো এক গ্লাস অরেঞ্জ স্কোয়াশ খেলাম, কিন্তু এবারও কোনো গন্ধই পেলাম না।“

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ ঢুকলো তার মনে। জরুরী স্বাস্থ্য হেল্পলাইন ১১১-এ ফোন করলেন তিনি, কিন্তু “গায়ে জ্বর বা কাশি নেই” শুনে তারা বললো, কোনো চিন্তা নেই। “তারা বললো তুমি কাজে যেতে পারো, সমস্যা নেই। কিন্তু হঠাৎ করে স্বাদ-গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া নিয়ে আমি একেবারেই স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল, এটা কাকতালীয় হতে পারে না।“ স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে ড্যান বাড়িতে আইসোলেশনে চলে যান। বাড়িতে মা এবং বোন। মা বয়স্কদের পায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন, আর বোন একটি শিশু হাসপাতালের আইসিইউ নার্স। তার উদ্বেগের কথা শুনে ড্যানের ম্যানেজার তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন। কিছুদিন পর ফলাফলে দেখা গেল তিনি করোনায় আক্রান্ত।

দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনেকে জ্বর বা কাশি শুরুর আগেই স্বাদ-গন্ধ হারিয়ে ফেলছেন “আমি যদি সরকারের কথা শুনে কাজে যাওয়া অব্যাহত রাখতাম, রোগীদের নিয়ে কাজ করতাম, তাহলে হয়তো অনেকের দেহে আমার কাছ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তো।“

এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বা এনএইচএস শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঘন-ঘন কাশিকেই কোভিডের অন্যতম প্রধান দুই উপসর্গ হিসাবে বিবেচনা করছে। কিন্তু একের পর এক গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জ্বর বা কাশি শুরুর আগেই তারা স্বাদ-গন্ধ হারিয়ে ফেলছেন।

ব্রিটিশ রিনোলজিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ক্লেয়ার হপকিন্স বলছেন, জ্বর বা কাশির চেয়েও হঠাৎ স্বাদ-গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া কোভিডের আরো ‘বিশ্বাসযোগ্য‘ উপসর্গ হতে পারে। কেন সরকার এখনও এই উপসর্গকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি এবং তার অনেক সহকর্মী হতাশ।

গত প্রায় দুই মাস ধরে প্রফেসর হপকিন্স বলে চলেছেন যে স্বাদ-গন্ধ কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখলেই মানুষকে দ্রুত আইসোলেশনে যাওয়ার পর পরামর্শ দেওয়া উচিৎ। গত ১৯শে মার্চ ব্রিটেনের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞদের সমিতির পক্ষ থেকে প্রথম একটি প্রেস-বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে বলা হয়, কোভিড রোগীরা স্বাদ-গন্ধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

লন্ডনের কিংস কলেজের তৈরি একটি করোনাভাইরাস ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা কোভিড রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ৫৯ শতাংশই বলেছেন তারা হঠাৎ করেই নাকে গন্ধ পাচ্ছেন না, জিভে স্বাদ পাচ্ছেন না।

কিংস কলেজ ও ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে প্রায় সাত হাজার লোক পরীক্ষায় কোভিড পজিটিভ হয়েছেন, তাদের ৬৫ শতাংশই বলছেন তাদের স্বাদ-গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা চলে গিয়েছিলো। সুত্র. বিবিসি।

এসএইচ