চ্যালেঞ্জের মুখে এসডিজি

আগের সংবাদ

শেওড়াপাড়ায় গ্যাস লাইনে আগুন

পরের সংবাদ

সরকারি সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

সংকটে গ্রামীণ অর্থনীতি

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২০ , ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৬, ২০২০ , ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

করোনা মহামারির ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে থমকে গেছে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। দীর্ঘ ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির পর কলকারখানা ও অফিস খুললেও স্বাভাবিক হয়নি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা। এ অবস্থায় বিশাল ক্ষতির ধাক্কা কাটাতে অনেক প্রতিষ্ঠানেই চলছে কর্মী ছাঁটাই। ফলে বেকার হয়ে গ্রামে ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। শহরের জীবনযাত্রা সহসা স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ না দেখে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরাও ফিরে যাচ্ছেন গ্রামে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয় যাদের টাকায়, সেই প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারিয়ে দলে দলে গ্রামে ফিরছেন। ফলে গ্রামাঞ্চলে অর্থপ্রবাহ কমার পাশাপাশি বাড়ছে বেকারত্বের বোঝা। সব মিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জনপদের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। এরপরই রয়েছে প্রবাসী আয়। যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ। প্রবাসী আয় বাড়লে এবং ফসলের ভালো উৎপাদন হলে অর্থপ্রবাহ বাড়ে। চাঙ্গা হয় গ্রামীণ অর্থনীতি। কিন্তু করোনায় চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের কৃষক থেকে শুরু করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ দিন উপার্জন বন্ধ থাকায় তাদের সঞ্চিত অর্থ কমে আসছে। এছাড়া গ্রামীণ জনপদে মানুষের অর্থের প্রধান উৎস ধান ও চাল বিক্রি। এই টাকায় বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ হয় তাদের। সেই ধান ও চাল কেনায় সরকারি কার্যক্রমে ধীরগতি বিরাজ করছে। ফলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গ্রামাঞ্চলে। আর যারা কৃষির পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসা করতেন তাদের হাতেও পুঁজি নেই। যার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হলেও সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে জড়িত মানুষের অংশগ্রহণ কমছে। গ্রামের বাজারগুলোতে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারিয়ে দেশে ফিরছেন অনেকে। সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান হারিয়ে ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এর বাইরেও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ কৃষক। সরকার ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখলেও এর সুফল পান না তারা। দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে এক সময় হতাশ হয়ে পড়েন অধিকাংশ কৃষক। এই কারণেই করোনাকালে কৃষকের জন্য দেয়া ভর্তুকি এবং ঋণ সহায়তা যাতে তারা সময়মতো পান তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জরিপ বলছে, করোনার কারণে দেশের ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে, অস্থায়ী কিংবা খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সঙ্গে নিয়োজিত নাগরিকরা এই ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে ২০১৬-১৭ শ্রমশক্তি জরিপের উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ প্রাক্কলন করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিলে কর্ম হারানোর ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকের সংখ্যা আরো বাড়বে। এসব চাকরি হারানো মানুষ গ্রামমুখী হচ্ছেন। এতে গ্রামে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এর আগে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের জরিপে করোনার কারণে দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রামে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডি গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা সিপিডির পক্ষ থেকে বলেছি, সরকারের ধান ও চাল কেনা কার্যক্রম উন্মুক্ত স্থানে করতে হবে। যাতে কৃষকদের শহরে এসে ধান বিক্রির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়। ধান কেনার এই প্রক্রিয়া থেকেও সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। ধান কেনার জন্য কৃষকের কাছে যেতে হবে। সেই সঙ্গে ধান না কিনলে চাল কেনা যাবে না এই ঘোষণা দিতে হবে। তাতে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে, কৃষকও লাভবান হবেন।
এই গবেষক আরো বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হওয়ার পর সাপ্লাই চেইনে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আগে যে পরিমাণে মানুষ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের সংখ্যা কমছে। কারণ তাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে গ্রামীণ জনপদের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই ঋণ সুবিধা কৃষকের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে হবে। গ্রামে সাধারণত সিজনাল ফসল উৎপাদন হয়। তাই সঠিক সময়ে এই ঋণ সুবিধা কৃষকের কাছে না পৌঁছালে কোনো লাভ হবে না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল তৈরিরও ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এসব ভর্তুকি ও ঋণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এই করোনা সংকটে কৃষকের দুর্দশা অনেকাংশে লাঘব হবে। এছাড়া কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের জন্য সরকার ঘোষিত ঋণ সহায়তা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়াবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়