করোনায় সাংগঠনিক বিধি নিষেধও মানছে না বিএনপি

আগের সংবাদ

যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ

পরের সংবাদ

ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘একদেশ’

দুর্যোগ-দুর্বিপাকে হতে পারে সেবার অন্যতম হাতিয়ার

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৬, ২০২০ , ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া সরকারের ডিজিটাল ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘একদেশ’ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা দেশে এমন অনেক সংগঠন রয়েছে যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করতে আগ্রহী অনেকেই খুঁজছেন উপযুক্ত ক্ষেত্র। ‘একদেশ’ এই দুই পক্ষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করায় এখন ঘরে বসেই পছন্দসই সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন মানুষ। ফলে যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ‘একদেশ’ হতে পারে মানবসেবার অন্যতম হাতিয়ার।

মূলত, করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহায়তা সংগ্রহের ধারণা থেকে একদেশের যাত্রা শুরু হয় গত রমজান মাসে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে। গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে একদেশ অ্যাপ ডাউনলোড করে বা ekdesh.ekpay.gov.bd  ওয়েবসাইট থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে। এটি দিয়ে যে কেউ তার সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা বা জাকাত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ পছন্দের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দিতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা পৌঁছে দিবে অসহায় মানুষের কাছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর জাকাত ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি), সাজেদা ফাউন্ডেশনসহ অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আরো এমন অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে।

পুরান ঢাকার চকবাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের অনুদান দিতে দেখি। কিন্তু আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীর অনুদান নেয়ার ব্যবস্থা আছে কি না আমি জানতাম না। আমার ভাতিজা আমাকে একদেশ সম্পর্কে বলায় আমি উৎসাহিত হই। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাঠাই।

তিনি বলেন, দেশে অনেক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। করোনায় মৃতদেহ দাফন করছে অনেকে। আমরা এদের পাশে দাঁড়াতে চাই। যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় যদি সবাই ছোট ছোট সহায়তা নিয়েও এগিয়ে আসি, তবে সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে এটুআইয়ের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোগ্রামের ম্যানেজার মো. তহুরুল হাসান জানান, একদেশ প্ল্যাটফর্মে শুধু করোনা পরিস্থিতিতে নয়, যে কোনো দুর্যোগ, জরুরি খাদ্য সহায়তা বা ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সেবা, নগদ অর্থ সহায়তা, ভাসমান ও দুস্থ মানুষের পুনর্বাসনসহ সুবিধাবঞ্চিতদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা যাবে। এর মাধ্যমে খুব সহজে জনগণ তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাঠাতে পারবে।

তিনি বলেন, গত রোজায় একদেশ চালু হওয়ার পর অনেক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে রোজার পর তা কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। এখন আমরা নতুন নতুন পরিকল্পনা ডিজাইন করছি যেন সব সময় এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। এ জন্য ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এ সম্পর্কে যত জানবে, ততবেশি সহায়তা করতে উৎসাহিত হবে। একদেশ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।

জানা গেছে, একদেশ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে এরই মধ্যে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ২ লাখ পরিবারকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে চাল, ডাল, ছোলা, তেল, ময়দাসহ ১০ দিনের খাদ্যসমাগ্রী বিতরণ করেছে। এছাড়া প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২৪ হাজার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

সিআরপি ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গাউন, টুপি ইত্যাদি দিচ্ছে। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট আড়াই লাখ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সাজেদা ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য উৎসর্গ করেছে এবং আইসিইউ সুবিধা স্থাপন করেছে। ফাউন্ডেশনটি কয়েক লাখ পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে।

এসআর