গরুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করলে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

অর্থ ও স্বেচ্ছা শ্রমে গ্রামবাসীদের রাস্তা নির্মাণ

পরের সংবাদ

বাজেটে প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা দাবি

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২০ , ৫:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৫, ২০২০ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ

কোভিডের প্রভাব মোকাবিলায় ডেইরি খাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিডিডিএফ)। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারীদের সুরক্ষায় গো-খাদ্যের উপর ভর্তূকি দেয়া আবশ্যক বলে মনে করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিডিডিএফএর সভাপতি এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি ১২ দফা দাবিসহ এ সুপারিশ করেন। সংবাদসম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. কেবিএম সাইফুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন- বিডিডিএফ’র সহসভাপতি উজমা চৌধুরী, সহসভাপতি ড. কাজী ইমদাদুল হক, প্রচার সম্পাদক মো. মুতাসীম বিল্লাহসহ অন্য সদস্যরা।

সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২.০- ২.৫ কোটি লিটার তরল দুধ উৎপাদন হয় যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০-১২০ কোটি টাকা। কোভিড-১৯ এর ফলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খাতই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত। ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে’র প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসে কৃষকের লোকসান হয়েছে ৫৬৫৩৬ কোটি টাকারও বেশি। কারণ, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদিত পণ্যসমূহ উচ্চপচনশীল এবং তা স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজারজাত করতে হয়।

কোভিড-১৯ এর ফলে খামারীরা তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় খামারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া খামারীরা গাভীগুলোকেও পর্যাপ্ত গো-খাদ্য সরবরাহ করতে পারছে না, ফলে দেখা দিচ্ছে গবাদিপ্রাণির নানাবিধ অসুখ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তাছাড়া বিপনন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলোও সক্ষমতা অনুযায়ী দুধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়া ও বিক্রয় করতে পারছে না। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলোর ভাষ্যমতে, তাদের বিক্রয় প্রায় ৪০-৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় খামারীসহ সেক্টর সংশ্লিষ্ট সকলের ক্ষতি বিবেচনা বিগত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) এ খাতে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, কোন খামারের গো-খাদ্য বাবদ ৫০ শতাংশের বেশী খরচ হলে ঐ খামার বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশে ডেইরি খামারের উৎপাদন খরচের শতকরা ৭০-৭৫ শতাংশ ব্যয় হয় গো-খাদ্য ক্রয়ে। এর জন্য খামারের অব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের গাভীর অভাব দায়ী থাকলেও মূল সমস্যা হলো গো-খাদ্যের উচ্চ মূল্য। বাংলাদেশে গো-খাদ্য মূলত আমদানি নির্ভর। গো-খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটে কতিপয় খাদ্য উপাদান যেমন-সয়াবিন অয়েল কেক (আরডি ৫%) এবং সয়াবিন প্রোটিন কনসেনট্রেট (সিডি ১০%) এর আমদানিশুল্ক কমানোর হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে খামারের উৎপাদন অব্যহত রাখার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গো-খাদ্যে ভর্তূকি দেয়ার প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিখাতেও বর্তমান বাজেটে ভর্তূকির পরিমান ৯৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ডেইরি খাতে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ডেইরী শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমদানিকৃত গুঁড়া দুধের সাথে অসম প্রতিযোগিতা। এসব গুঁড়া দুধ ভর্তূকি প্রাপ্ত হওয়ায় এর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম যার সাথে বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন প্রতিযোগীতা করতে পারে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ গুঁড়া দুধের আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে। বাংলাদেশে গুঁড়া দুধের আমদানিশুল্ক মাত্র ১০শতাংশ। কিন্তু এশিয়ার অন্যান্য দেশে এর হার ৫০ শতাংশের উপরে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার ২.৫ কেজি প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের আমদানিশুল্ক বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছে। কিন্ত এই আমদানিশুল্ক বাড়ানো প্রকৃতপক্ষে দেশের ডেইরীর উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখবে না। এক্ষেত্রে বাল্ক ফিল্ড মিল্কের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দেশের ডেইরি সেক্টরের উন্নয়নের জন্য দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে প্রতিযোগীতাপূর্ণ হতে হবে। এক্ষত্রে খামারের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ডেইরি পণ্যের উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ফলে জাতীয় বাজারে ডেইরি পণ্য ভোক্তাবান্ধব না হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তা প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারে না। এক্ষেত্রে দেশে উৎপাদিত সব ডেইরি পণ্যের উপর থেকে মূল্য সংয়োজন কর এবং শুল্ক প্রত্যাহার করা জরুরি। তাছাড়া করোনার আঘাত থেকে মুক্ত করে ডেইরি সেক্টরকে টেকসই ও মজবুত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষে প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১০ বছরের জন্য ‘‘ট্যাক্স হলি ডে” ঘোষণা করা উচিত।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়