বাজেটে প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা দাবি

আগের সংবাদ

সুবর্ণবসন্ত

পরের সংবাদ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার নিচ তালিমপুর গ্রাম থেকে কাঠালগাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ করছেন গ্রামবাসীরা। নিজেরাই স্বেচ্ছায় শ্রম ও নগদ অর্থ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সার্মথ্য অনুযায়ী, গ্রামের লোকজন ৫ শত টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর কোণে অবস্থিত নিচ তালিমপুর গ্রাম। গ্রামের সঙ্গেই একাকার হয়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রাম। এই দুই গ্রাম মিলে প্রায় ৭শ’ পরিবারের বসবাস। গ্রাম থেকে মাঠের মধ্য দিয়ে জমির আইলের মতো একমাত্র সরু রাস্তা মিলিত হয়েছে আবাদপুকুর-বগুড়া রাস্তার চয়েনের মোড়ের পূর্ব দিকে কাঠালগাড়ি নামকস্থানে। দীর্ঘদিন থেকে সরু রাস্তায় চলাচল করলেও রাস্তাটি পুরোপুরি নির্মাণ করার জন্য মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো আশার আলো দেখেনি গ্রামবাসী।

ওই গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ আহাদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাঁদা পানি দিয়ে চলাচল করতে করতে জীবনটা কেটে গেল! কিন্তু আমাদের ভোগান্তি নিরসনে কেউ এগিয়ে আসলো না।

গ্রামের জিল্লুর রহমান, ছামসুজ্জামান, আমানুর রহমান স্বপন, মিজানুর রহমানসহ গ্রামবাসিরা জানান, গ্রাম থেকে বের হবার একমাত্র এই রাস্তা। সারা দেশে বিভিন্ন রাস্তা ঘাট পাকাকরণ হলেও আমরা এমন দুর্ভাগা যে মাটি কেটেও কেউ রাস্তা নির্মাণ করে দেয়নি। ধান-চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনে আমাদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে হাটু পানি ভেঙে দুই কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা করে ছেলে-মেয়েরা। গ্রামের কেউ অসুস্থ্ হলে তাকে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান মেম্বারদের জানালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী মিলে টাকা তুলে নিজেরা শ্রম দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছি।

রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম বলেন, গত চার বছর আগে রাস্তাটির কিছুটা কাজ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় চার বার প্রকল্প আকারে দিয়েও কাজ হয়নি। তারপরও চেষ্টা করছি রাস্তা নির্মাণ ও পাকা করণের জন্য।

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পাকা করণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রকল্প আকারে দিতে হয়। গ্রামবাসী মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করছেন তাই রাস্তার কাজ একধাপ এগিয়ে রইল। পাকা করণের জন্য প্রকল্প আকারে দিলে অবশ্যই তা পাকা করণ করা হবে।

গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রাস্তা নির্মাণ করণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়