অনিয়মের প্রতিবাদ করে মামলা খেল গ্রামবাসী

আগের সংবাদ

বিতর্কিত ওয়েব সিরিজের পক্ষে দাঁড়ালেন শতাধিক নির্মাতা

পরের সংবাদ

একে একে সব নিভিছে দেউটি

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২০ , ১:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২০, ২০২০ , ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

অস্থাচলে আওয়ামী রাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রজন্ম!

একে একে নিভে চলে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। দীর্ঘ সংগ্রামমুখর জীবনে অসামান্য ত্যাগ, প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠতায় তারা হয়ে উঠেছিলেন এদেশের রাজনীতির আকাশের নক্ষত্রসম-জাতীয় নেতা। বস্তুত আওয়ামী রাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রজন্মটিরই যেন বিদায়ের পালা সমাগত। এখনো যারা টিকে আছেন আলোর মশাল হাতে, তাদেরও অনেকে বার্ধক্য ও নানা শারিরীক জটিলতায় নিভু নিভু। কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করোনাকালীনই মারা গেছেন কয়েকজন।

এছাড়া গত ১১ বছরে মারা গেছেন জননন্দিত বেশকয়েকজন নেতা। যাদের বেশিরভাগই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। ছিলেন তার কন্যা শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে ছিলেন আপোসহীন। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৬৬-এর ৬ দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০-এর নির্বাচন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে লড়াই করেছেন। পঁচাত্তরপরবর্তী নির্যাতন ও জেলও খেটেছেন। স্বৈরাশাসকের নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে নানা হামলা-মামলাও তাদের পিছু ছাড়েনি। সিনিয়র নেতাদের দ্রুত চলে যাওয়া, দল ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাদের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাবে- এমনটিই মনে করছেন দলটির বর্তমান নেতারা।

মোহাম্মদ নাসিম
জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মূখপাত্র। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে ৫ বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ দশকের বেশি সময় চলা তার রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটে ১৩ জুন শনিবার। ঐদিন সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নাসিম। জেলও খেটেছেন একাধিকবার। নাসিমের মৃত্যু আওয়ামী লীগের অপূরণীয় এবং বড় ক্ষতি।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে। দুর্দিনে আওয়ামী লীগের হাল ধরা আশরাফ আলোচিত এক-এগারোর সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। টানা দুই মেয়াদে দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। গত বছর ৩ জানুয়ারি ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। নির্লোভ রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ দল-মত-নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। দল ও নেত্রীর প্রতি আনুগত্যশীল আশরাফ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী ছিলেন। দলের যেকোনো দুঃসময়ে শক্ত মনোবল নিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সংগঠিত হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন মোকাবিলায় তার কঠোর ভূমিকা প্রসংশিত হয়েছে। সৈয়দ আশরাফের জন্ম ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি। আশরাফ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

সৈয়দা জোহরা তাজউদিন
জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। আমৃত্যু আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মারা যান। রাজনীতিতে জোহরা তাজউদ্দিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৫৮ সালে আয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ৫৯ সালে তাজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের পর দেশে ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। ১৯৭৭ সালে দ্বিধাবিভক্ত দলটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখেন। দলের জন্য বহু কষ্ট করেছেন।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সরকারের রেলপথ মন্ত্রী ছিলেন এই বিশিষ্ট এই পার্লামেন্টারিয়ান। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া সুরঞ্জিত ৯০-এর দশকে আওয়ামী লীগে যুক্ত হন। সুনামগঞ্জ থেকে ৭ বার নির্বাচিত এই সাংসদ নিজ গুণে হয়ে উঠেন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সংসদে আওয়ামী লীগের হয়ে বিরোধী দলকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করতেন, ছিলেন সরব। তার সরস-ব্যাঙ্গাত্মক বক্তব্য সবার নজর কাড়ত। সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার জুড়ি ছিল না। যেকোনো আইনী ব্যাখ্যা সংসদে তুলে ধরতেন। সর্বশেষ সংবিধান সংশোধনী কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সময়েই সংবিধান থেকে তত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ৭১ বছর বয়স মারা যান। আওয়ামী লীগ, সংসদ ও যেকোনো আইনী ব্যাখ্যায় দলে তার প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।

জিল্লুর রহমান
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২০ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের অভিভাবক খ্যাত জিল্লুর রহমান। এর আগে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। নবম জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিকবার ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনারও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন। কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ‘৬২-র আন্দোলন, ‘৬৬-র ৬ দফা, ‘৬৯-র গণঅভ্যূত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ছিলেন ‘৭০ এ জাতীয় পরিষদের সদস্য। ৭২ সালে প্রথম এবং পরে ৭৪, ৯২ ও ৯৭ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ‘৭২ এ সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন। ‘৭৩ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন। ‘৭৫ সালে বাকশালের পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। ওয়ান ইলেভেনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি দলের হাল ধরেন। শেখ হাসিনা তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেন। দ্বিধাবিভক্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নেত্রী মুক্তি আন্দোলন বেগবান করেন। তার ভূমিকা ছিল খুবই প্রসংশনীয়। দল ও নেত্রীর প্রতি আস্থা জিল্লুর রহমানকে আজো স্মরণে রেখেছে।

আব্দুল জলিল
ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা জলিল বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরের প্রধান সংগঠক ছিলেন। পঁচাত্তরপরবর্তী জেল খেটেছেন কয়েকবার। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় বিরোধী দলে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতেন। চষে বেড়িয়েছেন সারাদেশ। ২০০৪ সালে জলিল ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তার হাতে থাকা ‘ট্রাম্প কার্ড’ দিয়ে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। রাজনৈকি অঙ্গনকে উত্তপ্ত করেন। ওয়ান ইলেভেন সরকার ‘মাইনাস টু ফর্মুলায়’ প্রধান দুই নেত্রীকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব করলে জলিল তাতে সমর্থন দেননি। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৬ মার্চ মারা যান তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও আলোচিত এই নেতা দলের উপদেষ্টাপরিষদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণ করেছেন বহুবার। ‘৭৫ এ বাকশালের সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজ্জাক শেখ হাসিনার নেতৃত্বেও রাজনীতি করেছেন। সারাদেশে সংগঠন গোছাতে কাজ করেছেন। ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। সর্বশেষ আমু, তোফায়েল, রাজ্জাক, সুরঞ্জিত জুটিখ্যাত এই চার নেতার মধ্যে দুই নেতা চলে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের ক্ষতি হয়েছে অপূরনীয়।

এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী
চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন ২০১৭ সালেল ১৫ ডিসেম্বর মারা যান। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নেতা হিসেবে থাকতেই পছন্দ করতেন। চট্টগ্রামের মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বি। তিনিও ছিলেন চট্টগ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিতে চাইলেও চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসেননি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য থেকেই রাজনীতি করেছেন সারাজীবন। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখা মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হন। স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে প্রতিশোধ নিতে মৌলভী সৈয়দের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী গঠন করেন। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটির মেয়র হয়ে পরপর তিনবার এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তার জুরি নেই। মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতেন। বহুবার জেল খেটেছেন। দূর্যোগে লঙ্গরখানা খুলে মানুষকে খাওয়াতেন। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিরাট শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছয় দফা, ‘৬৯- এর গণঅভ্যূত্থান, ‘৭০-এর নির্বাচন সক্রিয় ভূমকা পালন করেন। মুজিব বাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনার সবকটি সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ও কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করেন। একাধিকবার আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এসময় দলের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলের সম্পর্কোন্নয়ন এবং কওমি মাদরাসার সনদ স্বীকৃতির পেছনে ভূমিকা রাখেন। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টেকনোক্র্যাট কোটায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হয়ে আমৃত্যু এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১৩ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আব্দুল মান্নান
বগুড়া-১ আসনের এমপি ছিলেন। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মারা যান তিনি। মান্নান ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি। তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। এর আগে মান্নান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধার সম্পাদক ছিলেন। আমৃত্যু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুন মারা যান তিনি। সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। বহু নির্যাতন-জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিলেটে একাধিকবার জঙ্গি হামলাও করা হয়। তার মৃত্যুতে সিলেটের রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়।

আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতারা

কী বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, সিনিয়র নেতাদের চলে যাওয়া দেশ ও দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সহসায় তাদের শূন্যতা পূরণ হবে না। আমরা কেউই পৃথিবীতে স্থায়ী নই। আগামীদিনে যারা সিনিয়রদের স্থলাভিসিক্ত হবেন, তাদেরও জনগণের প্রিয় মানুষ হতে হবে। আওয়ামী লীগ সেটা পারবে।

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, গত ১১ বছরে আমাদের যেসব নেতা মারা গেছেন, তাদের প্রত্যেকেই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। দীর্ঘসময় লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। জেল খেটেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। পঁচাত্তরপরবর্তী অনেক নির্যানের শিকার হয়েছেন। আজীবন বঙ্গবন্ধুর সহচর ছিলেন। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে সমর্থন, সাহস ও শক্তি জুগিয়েছেন। এই নেতাদের চলে যাওয়াটা সত্যিই দূর্ভাগ্যের। তাদের পথ অনুসরণ করেই আওয়ামী লীগের আগামী নেতৃত্ব দলকে আরো সুসংগঠিত করবেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি।

সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, চলে যাওয়া সিনিয়র নেতারা ইতিহাসের মাইলফলক। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তারা দল ও দেশকে সর্বচ্চোটুকু দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যার প্রতি অনুগত থেকে আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়েছেন। তাদের চলে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। দেশকে তাদের আরো অনেক কিছু দেয়ার ছিল। তাদের শূন্যতা আমরা অনুভব করছি। তবে আওয়ামী লীগ পোড়খাওয়া ইতিহাসের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। সিনিয়র নেতাদের শূন্যতা সহসায় হয়তো পূরণ হবে না। আমরা আশাবাদী আওয়ামী লীগ লাখ লাখ মানুষের সংগঠন। তাদের থেকেই আগামী দিনে পরীক্ষিত নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও পঁচাত্তরপরবর্তী দুঃসহ দিনগুলি মোকাবিলা করেছেন যে নেতারা- তাদের অনেকেই এখন আমাদের মধ্যে নেই। নানা সঙ্কটের মাঝেও নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতি অঁটুট থেকে গণমানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন তারা। ত্যাগ, আপোষহীনতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, দেশপ্রেম, গণমুখিতা ছিল তাদের চরিত্রের মৌলিক দিক। তাই তাদের রিপ্লেসমেন্ট আমাদের দিয়ে হওয়া দুরূহ। আমরা সিনিয়রদের মত গণমুখী, কর্মীদের বুকে ধারণ ও আস্থা-শ্রদ্ধার জায়গা দখল করতে পারছি না। সিনিয়রদের চলে যাওয়ার সঙ্কট কাটানোর একমাত্র উপায় তাদের কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছু মানুষকে ত্যাগের জীবন বেছে নিতে হবে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়