মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে জড়িতদের শাস্তি দাবি

আগের সংবাদ

করোনায় আরেক চিকিৎসকের মৃত্যু

পরের সংবাদ

দাপট হারাচ্ছেন ইমরান?

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২০ , ৭:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২০ , ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানে কি ফের জেনারেলদের আধিপত্য বাড়ছে কি না তা নিয়ে গুঞ্জন ওঠছে। গত কয়েক মাসে ইমরান খান সরকারের কাজকর্মে পাক সেনাকর্তাদের নাক গলানো এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা কর্তাদের নিয়োগ ঘিরে এমন আশঙ্কাই জোরদার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতা যত কমছে, ততই সেনা কর্তারা সরকারের অভ্যন্তরে জাঁকিয়ে বসছেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, আর্থিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি-সহ একাধিক ইস্যুতে ইমরানের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। সেই সুযোগে সরকারের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছেন সেনা কর্তারা। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন সেনা কর্তারা।

২০১৮ সালে প্রায় ৪৬ শতাংশ জনমত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন ইমরান খান। স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ‘নয়া পাকিস্তান’-এর। তার পর থেকে গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট তো কাটেইনি, উল্টে আরও খারাপ হয়েছে। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে অতিষ্ট পাকিস্তানিরা। ইমরান-ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, কড়া হাতে তার মোকাবিলা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সব অভিযোগের জেরে পাকিস্তানের নাগরিকদের একটা বড় অংশ ইমরানের থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন। এই জনপ্রিয়তা হ্রাসের জেরে সরকার-প্রশাসনেও তাঁর রাশ ক্রমেই আলগা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমরানের এই লাগাম যত আলগা হবে, সেই ফাঁক গলে প্রবেশ ঘটবে সেনা কর্তারা। পাকিস্তানের ইতিহাসে এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। সাত দশকের ইতিহাসে অধিকাংশ সময়ই সেনাকর্তারা দেশ শাসন করেছেন ভারতের এই প্রতিবেশী রাজ্যে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লষণকারী সংস্থা নিউইয়র্কের ‘বিজিয়ার কনসাল্টিং’-এর প্রেসিডেন্ট আরিফ রফিকের মতে, ইমরানের আধিপত্য যত কমবে, সেনার কর্তৃত্ব ততই বাড়বে। প্রাক্তন ও বর্তমান সেনা কর্তাদের নিয়োগ যত বাড়বে, ততই তাঁরা ক্ষমতার মসনদে জাঁকিয়ে বসবেন। তিনি বলেন, ‘‘ইমরানের উপর চাপ ক্রমেই আরও বাড়বে। কারণ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে পাকিস্তানের অর্থনীতি আরও বেশি সঙ্কটের মধ্যে পড়তে চলেছে।’’

সেনার আধিপত্য কী ভাবে বাড়ছে, তার উদাহরণ দিয়ে আরিফ বলেন, ‘‘করোনাভাইরাস ও লকডাউন নিয়ে সেনার সঙ্গে ইমরানের মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে। চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর নিয়ে সেনা-সরকারের ঐক্যমত্য না হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এমনকি, সেনার প্রধান মুখপাত্রকে কার্যত সরকারকে উপেক্ষা করে খোলাখুলি কড়া লকডাউনের নির্দেশিকা জারি করতেও দেখেছি আমরা। আবার এক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তা করোনাভাইরাসের তথ্য দেওয়া নিয়ে কার্যত সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।

সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন পারভেজ মোশারফ। ফলে তাঁর সরকারে সেনার প্রাধান্য থাকবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু ইমরান খান গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছেন। তবু তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন সেনা আধিকারিক-কর্তারা রয়েছেন, যাঁরা মুশারফের সময়েও ছিলেন। পাক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে যেমন ইজাজ শাহের মতো সেনা কর্তা রয়েছেন তেমনই রয়েছেন অর্থসংক্রান্ত উপদেষ্টা আবদুল হাফিজ শেখ।

কিন্তু এ সব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি পাক সেনা। ইমরানের এক মুখপাত্র নাদিম আফজার চানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অন্য দিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী সৈয়দ শিবলি ফরাজকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও কোনও উত্তর দেননি বলে জানিয়েছে একটি সংবাদ সংস্থা।

নকি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়