আসামের জেলে বাংলাদেশির মৃত্যু, মর্গে ৭ দিন

আগের সংবাদ

বাসের ধাক্কায় রিকশাযাত্রীর মৃত্যু

পরের সংবাদ

কেমন বাজেট চাই

শিক্ষায় ক্ষতি পোষাতে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ চাই

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৮, ২০২০ , ১২:১৩ অপরাহ্ণ

শুরুতেই তিনি সাফ বলে দিলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। পরক্ষণেই কেন ১৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে তার কারণও ব্যাখা করেন। শিক্ষা নিয়ে কাজ করা এনজিওদের মোর্চা ‘গণসাক্ষরতা অভিযানের’ প্রধান নির্বাহী রাশেদা কে চৌধুরী ভোরের কাগজকে এভাবেই এবার ‘শিক্ষা খাতে কেমন বাজেট চাই’- প্রশ্নটির উত্তর দিতে শুরু করেন। মোবাইল ফোনে প্রায় ১০ মিনিট ধরে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতের নানা দূরবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গত ১০ বছর ধরে বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ১১ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই সময়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে। অথচ শিক্ষার্থী প্রতি বাজেটে বরাদ্দ বাড়েনি। এই যখন পরিস্থিতি, তখন এসেছে করোনা নামক মহামারি। মহামারি আমাদের শিক্ষা খাতকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এরফলে বছরটি আমাদের জন্য অন্যরকম। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে হলে, শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে গতানুগতিক বাজেট দিয়ে হবে না। এজন্য ‘শিক্ষার পুনরুদ্ধার কর্মসূচি’ নামে একটি প্রকল্প লাগবে।
রাশেদা কে চৌধুরী আত্মতুষ্টির সুরে বলে গেলেন, শিক্ষায় আমাদের অগ্রগতি দৃশ্যমান ছিল। জাতিসংঘ, ইউনেস্কো থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা আমাদের শিক্ষা খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। এই প্রশংসা নিয়ে আমরা গর্ব করতাম। কিন্তু করোনায় আমরা আমাদের সেই গর্বের পথচলায় হোঁচট খাব। মনে রাখতে হবে, হোঁচট খেলেও থেমে থাকলে চলবে না। উঠে দাঁড়াতে হবে। সেজন্য আমাদের বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
এটাও ঠিক যে, কোভিড-১৯ আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা এনেছে। এই স্থবিরতা কাটাতে সরকার বহু চেষ্টা করছে। তারপরও আমরা পারছি না। কেন পারছি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনলাইন, টেলিভিশনে পাঠদান কার্যক্রম নিয়েছে সরকার। তবুও আমরা সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না। আশা করছি করোনা একসময় বিদায় হবে। এরপরই শুরু হবে মেরামতের পালা। অর্থাৎ প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত যে ক্ষতি হয়েছে সেটি সামাল দিতে আমাদের দৌড়াতে হবে। এই দৌড়ানোর জন্য গতানুগতিক বাজেট দিয়ে হবে না।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোভিড-১৯ শুধু আমাদের পঠন-পাঠনের ক্ষতি করেনি। শিক্ষায় আরো পাঁচ রকমের ক্ষতি হচ্ছে। তার মতে, করোনার কারণে শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে। অথচ গত ১০ বছরে আমরা ঝরে পড়ারোধে বড় রকমের সাফল্য দেখিয়েছি। মহামারির কারণে দারিদ্র্যের পাশাপাশি ক্ষুধাও বাড়বে। এতে বহু অভিভাবক তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারবেন না। এরফলে শিশুশ্রম বাড়বে। কারণ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে মোকাবিলা করতে গিয়ে পড়াশোনা গৌণ হয়ে যাবে। একইকারণে বাল্যবিয়ে বাড়বে। আর বাল্যবিয়ে বাড়লে শিশু প্রসূতির হারও বেড়ে যাবে। এতে মাতৃমৃত্যুও বাড়তে পারে। অথচ এই দশ বছরে আমরা বাল্যবিয়ে, শিশু প্রসূতিসহ মাতৃমৃত্যুর হারও যথেষ্ট পরিমাণে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম।
শিক্ষা খাতের এসব দুরবস্থার অগ্রিম ভবিষ্যৎবাণী উল্লেখ করে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে গণসাক্ষরতা অভিযান স্মারকলিপিও দিয়েছে। স্মারকলিপিতে এসবের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাও করা হয়েছে। সেই স্মারকলিপির রেশ টেনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ কমিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। তারমতে, ব্রিজ-কালভার্ট, ভবন যেকোনো সময় নির্মাণ করা যাবে। কিন্তু শিক্ষার ক্ষতি হলে সেটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরেও পুষিয়ে নেয়া যাবে না।

এসআর