করোনায় মারা গেলেন ইব্রাহিম মেডিকেলের ডা. মহিউদ্দিন

আগের সংবাদ

এক ক্লাবেই করোনা আক্রান্ত ১৬ ফুটবলার

পরের সংবাদ

চলাচলের তৃতীয় দিন

স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই গণপরিবহনে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৪, ২০২০ , ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

লকডাউন শেষে চলাচল শুরুর দুদিন পরই রাজধানীর গণপরিবহনে করোনা প্রতিরোধে অবশ্য পালনীয় স্বাস্থ্যবিধিগুলোর কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। বাসের ভেতরে ও গেটের কাছে জীবাণুনাশকের ব্যবহার কমেছে। তাপমাত্রা মাপার কোনো ব্যবস্থাই এখন আর নেই। দুইজনের সিটে একজন করে যাত্রী বাসানো হলেও অনেক বাসেই আবার যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে বাসের চালক-হেলপারদের কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় কোনো কোনো যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তা গায়ে মাখেনি বাসের স্টাফরা।

এদিকে বাস চালুর আগে স্বাস্থ্যবিধি মানার আশ্বাস দেয়া হলেও এখন তা মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রথম দিন দুয়েকটি সড়কে বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট দেখা গেলেও গত দুই দিনে কোথাও তাদের দেখা মেলেনি। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি না মানার চিত্রই চোখে পড়েছে। রামপুরা থেকে গুলিস্তানের দিকে যাতায়াতরত বাসগুলোতে পাশাপাশি সিটে যাত্রী বসানো হয়েছে। গাবতলী থেকে গুলিস্তানগামী বাসে দুজনের সিটে একজন করে যাত্রী বসালেও দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই। বাসস্ট্যান্ড ছাড়া যাত্রী না উঠানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ইচ্ছেমতো যে কোনো স্থানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর দৃশ্য হরহামেশাই নজরে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বাস কন্ডাক্টর বা চালক তা কানে তুলছেন না।

দিনভর রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান করে দেখা গেছে, অনাবিল, তুরাগ, বলাকা, রজনীগন্ধা, বিহঙ্গ পরিবহনের কোনো বাসেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বাসে ওঠার সময় যাত্রীর তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে না, জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবহার নেই। হেলপার গেটে দাড়িয়ে যাত্রী ওঠায়। যাত্রীর শরীরে হাত দেয়। চালক-হেলপারের মুখে মাস্ক থাকে না। এভাবে চললে গণপরিবহনের মাধ্যমেই করোনা সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তার ঘটবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ভাড়া বাড়িয়েছে। আমরা বাড়তি ভাড়ায় যাচ্ছি। কিন্তু পরিবহন সেক্টরের লোকজন তা মানছে না। এই ব্যাপারে পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমাদের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ভাড়া দ্বিগুণ করার পরও স্বাস্থ্য বিধি না মানার বিষয়টি কেউ দেখছে না। এভাবে চলতে থাকলে গণপরিবহন চলাচল আবারো বন্ধ করে দেয়া উচিত। তা না হলে গণপরিবহনের যাত্রীরা সংক্রমণের বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে পড়লেও এ ব্যাপারে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কোনো মাথাব্যথা নেই। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বাসের ভেতরে তর্ক-বিতর্ক চললেও পাশেই অবস্থান নেয়া ট্রাফিক পুলিশকে দাঁড়িয়ে থেকে তা উপভোগ করতে দেখা যায়। যাত্রীরা তাদের কাছে অভিযোগ করলে তারা জানান, স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে বিআরটিএর মোবাইল টিম কাজ করছে। তারাই দেখবে। আমাদের এখনো এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এসআর