আলোচনার ঝড়, সরব চট্টগ্রামবাসী

আগের সংবাদ

বেসরকারি হাসপাতালের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব

পরের সংবাদ

চট্টগ্রাম নিয়ে চিন্তা করার কি কেউ নেই?

লেখা নয়, চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড় একটা ধাক্কা

নিয়ন মতিয়ুল

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৪, ২০২০ , ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এশিয়ার সপ্তম আর বিশ্বের দশম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহর। প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার এই মহানগরীতে কয়েক হাজার কোটিপতি। যারা বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তবে এত কিছুর মধ্যেও মহানগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনো উন্নতি নাই।

শিক্ষা-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ উন্নত জনবান্ধব নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা কেউ এগিয়ে আসেননি। তাদের উন্নাসিক মানসিকতার কারণেই করোনা মহামারিকালে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নাজেহাল অবস্থায় আজ নগরবাসী। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যদি মানবিক হতেন, দেশ প্রেমিক হতেন- তাহলে এই পরিণতি ভোগ করতে হতো না।

চট্টগ্রামের এমন পরিস্থিতির মুখে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের ‘চট্টগ্রাম নিয়ে চিন্তা করার কি কেউ নেই?’ শিরোনামে প্রকাশিত বিশেষ কলাম একটা বড়সড় ধাক্কা। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া। এখন যদি আমরা সচেতন না হতে পারি, ব্যবসায়ীরা যদি দেশপ্রেমিক আর মানবিক না হন, তাহলে সামনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) ভোরের কাগজ পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত লেখা পড়ে এমন প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সচেতন সমাজ। লেখাটিতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ নাগরিক মানসিকতার প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। যা পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চট্টগ্রামসহ গোটা দেশের অসংখ্য পাঠক নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনলাইনে সরাসরি ও ভোরের কাগজ লাইভ ফেসবুকে নেটিজেনরা অসংখ্য মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া আর আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামে।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত লিখেছেন, ঢাকার পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম হলেও এই শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে লেখালেখি কম হয়নি। কিন্তু সেই চিকিৎসাব্যবস্থা যে এতটাই খারাপ, তা সম্ভবত সবার ধারণার বাইরে। বাংলাদেশের সব কিছু যেমন কেন্দ্রীভূত ঢাকায়, তেমনি ঢাকার বাইরে সর্বত্র চেহারাও প্রায় একই রকম। এমনকি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা নামে চট্টগ্রামের হলেও চট্টগ্রামকে কখনো তারা তাদের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করেননি। তারা থাকেন দুবাই, সিঙ্গাপুর, কানাডা কিংবা ঢাকায়।

শ্যামল দত্ত আরো লিখেছেন, চট্টগ্রামে ভালো একটি বিনোদন কেন্দ্র নেই, একটি ভালো পর্যটন কেন্দ্র নেই। একটি উন্নত, আধুনিক ও স্বাস্থ্য আর শিক্ষায় সমৃদ্ধ শহর গড়তে এই রাজনৈতিক-ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি কখনো। তাই করোনার এই অসহায় মুহূর্তে মরতে হচ্ছে সবাইকে। গরিবরা মরছে চিকিৎসার অভাবে, বড়লোকরা মরছে ভালো চিকিৎসার অপ্রতুলতায়। চট্টগ্রামের মতো অসহায় অবস্থা সম্ভবত বাংলাদেশের আর কোনো শহরে নেই।

‘চট্টগ্রাম নিয়ে চিন্তা করার কি কেউ নেই?’ শিরোনামের লেখাটি কেউ পড়েছেন প্রিন্ট ভার্সনে, আবার অনেকে পড়েছেন অনলাইনে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড থেকে। লেখাটি নিয়ে চট্টগ্রামের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সমাজ ও উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, এক্টিভিস্টদের মধ্যে কেউ সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, কেউ আলোচনায় মেতে উঠেছেন। কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজটি শেয়ার করেছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সমাজকর্মী ও গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান বললেন, লেখাটি পড়ে আত্মউপলব্ধিটা বেড়েছে। তবে দুঃখজনক কথা হচ্ছে, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে। টাকা থাকলেই সবকিছু হয় না। সবার আগে দেশপ্রেমিক হতে হবে। দেশ আর মানুষের জন্যই ভাবতে হবে। সম্পাদক শ্যামল দত্ত বরাবরই চট্টগ্রাম বিষয়ে অনেক ভাবেন, লেখেনও। আমরা যদি সচেতন হই, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিক কাজ করি তাহলে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

চট্টগ্রামের লেখক ও সচেতন নাগরিক সজল বড়ুয়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রামে সব আছে, অঢেল টাকাও আছে। তবে নাগরিক বা ব্যবসায়ীদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। ভোরের কাগজে প্রকাশিত লেখাটি পড়েছি। স্বাস্থ্যখাতের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। লেখা নয়, এটা চট্টগ্রামের সচেতন নগরবাসীর জন্য বিশাল একটা ধাক্কা। বিশেষ করে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিক যারা সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন না- তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

সরকারি হাজি মোহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অঞ্জন নন্দী বলেন, ভোরের কাগজে প্রকাশিত লেখায় চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। বড় ব্যবসায়ী আর কোটিপতিদের অবস্থাই এখন নাজুক। তবে ব্যবসায়ীরা যদি সচেতন হোন, মানবিক হোন তবেই সমস্যার সমাধান হবে। তবে তিনি হতাশার সুরে বললেন, শুধু চট্টগ্রামেই নয়, গোটা দেশের সমাজেই ধর্মীয় গোঁড়ামি, অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে মুক্তিবুদ্ধির চর্চা করতে হবে। তা না হলে মুক্তি মিলবে না।

এনএম