সব রোগের চিকিৎসায় আন্তরিক হোন

আগের সংবাদ

ইউনাটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা

পরের সংবাদ

শেয়ারবাজার থেকে অর্থ নিবে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০২০ , ১০:১৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার বাজারে চলছে তারল্য সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের সহযোগিতায় বিএসইসি নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এরই মধ্যে এফডিআর করতে শেয়ারবাজার থেকে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ২৬ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করবে। আর কিছু অংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবে। যা বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই করতে সক্ষম। এছাড়া এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের রেকর্ড ভালো না বলে পুুঁজিবাজারের সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, তারল্য সঙ্কটের এ সময়ে বিএসইসি আগামি ১৪ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য সময় নির্ধারন করে দিয়েছে কোম্পানিটিকে। কোম্পানিটির আইপিওতে গত ১৩ এপ্রিল আবেদন গ্রহণ শুরু করার জন্য নির্ধারন করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাস ইস্যুতে দেশের শেয়ারবাজার ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকার কারনে আবেদন গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭১৯তম সভায় কোম্পানিটিকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ২ কোটি ৬০ লাখ ৭৯ হাজার সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২৬ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করবে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী কোম্পানিটির বিগত ৫ বছরে ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৪২ টাকা এবং পুনমূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭২ টাকায়। যা পুনমূল্যায়ন ছাড়া ১৬ দশমিক ৬৫ টাকা। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল এবং বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট রয়েছে। সেখানে এফডিআর করতে শেয়ারবাজারের চলমান মন্দাবস্থায় বীমা কোম্পানির অর্থ উত্তোলন কতটা সঠিক হবে, তা বোধগম্য নয়। বরং আমি হলে এফডিআর ভেঙ্গে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার জন্য বলতাম। এখন অনেক কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগ করার মতো অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে টাকা নিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করবে ৪ কোটি টাকা। আর ২০ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা এফডিআর ও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে। বাকি ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আইপিওতে ব্যয় হবে। অথচ এই কোম্পানির হাতেই ৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকা নগদ রয়েছে। এরমধ্যে ৪৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এফডিআর, ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, ব্রোকারেজ হাউজে নগদ ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ও কোম্পানিতে নগদ ২১ লাখ টাকা রয়েছে।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৫ কোটি ২ লাখ টাকার বিনিয়োগ ৩ কোটি ৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগ হারিয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ৩৯ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিটিকে আইপিওর শর্ত থেকে অব্যাহতি বা ছাড় দিয়ে আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাবলিক ইস্যু বিধিমালা ২০১৫ এর বিধি ৩(৩)সি পরিপালনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে গত ৯ বছরে বীমা খাতের পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স তালিকাভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স আইপিওর পুরোটাই এফডিআর এবং ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করেছে। আর পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ঋণ। অথচ সেই ৩ বীমা কোম্পানির মধ্যে ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ২০১৩ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। আর ২০১৬ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

এমএইচ