কোহলি বন্দনায় স্মিথ

আগের সংবাদ

বিবস্ত্র করে বৃদ্ধ নির্যাতন, অবশেষে গ্রেপ্তার ৩

পরের সংবাদ

ব্রহ্মপুত্র নদে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি

বর্ষণ-নদের পানি গিলে খেল কৃষকের স্বপ্ন

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০২০ , ৫:১৮ অপরাহ্ণ

পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের ফলে কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে হাওরের নিচু এলাকার জমির ধানকাটা হুমকিতে পড়েছে। এদিকে আবার কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র নদে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে রৌমারীর বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের হাওরের আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (৩ জুন) সকালের দিকে সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়।

নদের ভাঙনের কান্না না থামতেই চরের হাওর অঞ্চলের কৃষকের স্বপ্নের সোনার ফসল এবার পানির নিচে। প্রতি বছর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে সর্বশান্ত হয়ে যায় রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের চরাঞ্চলের কৃষক। ধান কাটা মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে ধূলিসাৎ হয়ে যায় এসব এলাকার কৃষকের স্বপ্ন।

রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী, চর ঘুঘুমারী, সোনাপুর, চর কাজাইকাটা, খেদাইমারী,সুখের বাতী, মশালের চর, ফুলকার চর এবং মিয়ার চর। আরো বিভিন্ন জায়গায় হাওরের ধান এখন পানির নিচে পড়ে আছে।। কৃষকরা জানান, হাওরের উঁচু এলাকা থেকে নিচের দিকে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এবং কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাদের জমির আধাপাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে।

ফলুয়ারচর গ্রামের আব্দুর সবুর নামের একজন কৃষকের সঙ্গেকথা হলে তিনি বলেন, আমার চিনা, তিল, মরিচ,রাধুনী মসলা, পাটসহ প্রায় ৮শত এককর ফসল ব্রহ্মপুত্র নদে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে কুটিরচর খাঁন পাড়া গ্রামের কৃষক নুরুল হক জানান, রাধুনী মসলা, পাটসহ ৮ বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এই ফসল উৎপাদন করে সংসার চালাই। এবার নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

ফলুয়ারচর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, মরিচ, পাট, তিল, রাধুনী মসলা ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেশি হয় এবং পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় চরের জমিতে ৪ একর ফসল নষ্ট হয়েছে। না খেয়ে মরতে হবে। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে চরশৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নে প্রায় ১০ হেক্টর পাট, ৫ হেক্টর তিল, ধান ৫ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পানি কমতে শুরু করেছে। আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার আল ইমরান বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ১০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়েছে আমি জেনেছি। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবো। রৌমারী উপজেলাবাসির সুবিধার্থে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে

এসআর