বাংলাদেশের সংকট ও সম্ভাবনা

আগের সংবাদ

রক্ত সংগ্রহে নামছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

পরের সংবাদ

করোনার মধ্যে অনভিপ্রেত-নিন্দনীয় ঘটনা

শেখর দত্ত

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০২০ , ৯:২৮ অপরাহ্ণ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আমরা আনুষ্ঠানিকতা ও আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করতে পারছি না। কিন্তু উল্লিখিত ধরনের ঘটনাগুলোকে তো অন্তত অবদমিত করে রাখতে পারতাম। করোনাকালে বা পরিসমাপ্তির পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে মানবতা ও আইনের শাসন তথা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আরো কার্যকর হবে নাকি সমস্যা-সংকটের মধ্যে আইন লঙ্ঘন-অনৈতিকতা-অমানবিকতা আরো দুর্দমনীয় হয়ে উঠবে, কে জানে!

করোনার বিপর্যয়ের মধ্যে যখন দেশ-বিশ্ব স্তব্ধ, দেশ মহামারি বা খাদ্য-অর্থ সংকটের মধ্যে পড়বে কিনা এ নিয়ে যখন সবাই উদ্বিগ্ন, তখন করোনা পরিমণ্ডলের বাইরে এমন কতক অনভিপ্রেত-দুর্ভাগ্যজনক-নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে, যা বিচ্ছিন্ন বলা যাবে না, ধারাবাহিকতা নিয়েই জাতির মর্মমূলে বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যক্তি মানুষকে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোড়িত ও ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো ঘটনা নিয়ে এখানে আলোকপাত করা হলো।
এক
হৃদয়বিদারক কাহিনীর মধ্যে সামনের সারিতে থাকবে বাউল শিল্পী রণেশ ঠাকুরের বাড়ি, গানের বইপত্র, বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার ঘটনা। এই বাউল শিল্পীর ব্যক্তিগত কোনো শত্রু ছিল না। এলাকায় বাউলগুরু আব্দুল করিমের শিষ্য ও সাধক হিসেবে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি তিনি। প্রসঙ্গত, বিগত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গাইলে বাউল সাধক শরিয়ত সরকার ও রীত দেওয়ানের বিরুদ্ধে যেমন ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছিল, তেমন ধর্মীয় কট‚ক্তির কোনো অভিযোগ এই বাউল সাধকের বিরুদ্ধে নেই। তবুও এই নিরপরাধী সর্বস্বান্ত হলেন। এই অগ্নিসংযোগ ব্যক্তিগতভাবে তার বাড়ির ওপর হলেও এটা মূলে হচ্ছে গ্রামবাংলার হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতি ও শিল্পের ওপর আঘাত। এটা তো সর্বজনস্বীকৃত বাউলরা জাত-ধর্ম মানেন না, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধত্বের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান, জীবন দিয়ে দেখায় জাত-ধর্ম পরমগুরুর নয়, মানুষের সৃষ্টি। লালন বলে, ‘যদি সুন্নত দিলে হয় মুসলমান,/নারীর তবে হয় কি বিধান?/বামন চিনি পৈতে প্রমাণ, বামনি চিনি কিসে রে।’ বাউলের গান সাধনায় রয়েছে দেহতত্ত্ব, নিগূঢ় তত্ত্ব, মানুষ ভজনা, অন্তর্লোক, আধ্যাত্মবাদ, ভক্তি, বিচ্ছেদ প্রভৃতি। প্রকৃত মালিক পরম গুরুর মরমি সাধক তারা। আত্মশুদ্ধির সন্ধানে রত, রিপু দমনে সচেষ্ট। উৎপীড়ন, অত্যাচার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং প্রগতিমুখীন, অসাম্প্রদায়িক মুক্তচেতনার গান ও সুরের ভেতর দিয়ে তুলে ধরে।
এই কারণে পাকিস্তানি আমলে গণতন্ত্র ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ও মুক্তিযুদ্ধে বাউলরা ছিলেন বিবেক হিসেবে জাতির সামনে। লালন, হাছন রাজা, রাধারমণ প্রমুখ সাধক আবহমানকাল ধরে বয়ে চলা আমাদের জাতির মূলধারার সঙ্গে মিশে আছে। লোকজ সংস্কৃতি, যাতে রয়েছে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে দেশের মাটিতে সংশ্লেষণের ধারা, যে ধারার অন্তর্নিহিত শক্তির কারণেই ওই দুই ধর্মের মানুষরা শত শত বছর পাশাপাশি বাস করতে পেরেছে, সেই ধারার অন্যতম রক্ষক ও বাহক হচ্ছেন বাউল সাধকরা। এই ধারা হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম বিবেক হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অতি প্রিয় ও কাছের ছিলেন। অক্ষরজ্ঞান কিছু ছিল না এই সাধকের, তবু তখন জাতির মনের কথা বলতে পেরেছিলেন গানের সুরে। ‘বড় শয়তান সাম্রাজ্যবাদ নতুন নতুন ফন্দি আঁটে,/মধ্যম শয়তান পুঁজিবাদ বসে বসে মজা লোটে!/সামন্তবাদ জালিম বটে, দয়া নাই তাহার মনে।’ বাউলদের বিরোধীরা যখন হানাদার বাহিনীর দালাল-ঘাতক, তখন অনেক বাউল মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন। সত্য কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে ‘ভুবন মাঝি’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। বাউলরা আমাদের জাতির রক্তের সঙ্গে মিশে আছে, আমাদের জাতীয় সংগীতের সুর কবিগুরু নিয়েছিলেন, মরমি গায়ক গগন হরকরার একটি গান থেকে।
তাই সাধক বাউলের ওপর আঘাত মানে আমাদের জাতির মর্মমূলে আঘাত, স্বাধীনতার চেতনার ওপরে আঘাত, জাতীয় চার মূলনীতির ওপর আঘাত। পঁচাত্তরের পর থেকে বাউলদের ওপর নানাভাবে উৎপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে। চুল-দাড়ি কেটে দেয়া, গ্রাম থেকে বের করে, পরিবারের কাউকে জানাজা না পড়ানো প্রভৃতি তাদের যেন কপাল লিখন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভাবলে বেদনাহত হতে হয়, বর্তমানে আওয়ামী লীগ শাসনামলেও এমন হচ্ছে। একদিকে বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিম একুশে পদক পেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর আবেগে আপ্লুত হয়ে এই সম্রাটের গান শুনেছেন আর অন্যদিকে করোনা দুর্যোগের মধ্যে তাদের একজনের বাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। আরো দুর্ভাগ্যজনক বাউলরা করোনা দুর্যোগের মধ্যে অভাবে থাকলেও নাকি ত্রাণ পাচ্ছেন না। বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের পুত্র বাউল শাহ নুরজালালসহ সুনামগঞ্জের অনেক বাউল সাধক অভিযোগ করেছেন, আমরা ত্রাণের খাদ্যও পাইনি, ত্রাণের টাকার তালিকায়ও আমরা নেই।
এসব নিরাশার মধ্যেও আশার কথা, বাউল রণেশ ঠাকুরের বাড়িতে আগুন দেয়া সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাড়ি তুলে দিতে চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। দিয়েছেন নগদ ২০ হাজার টাকা। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তার বাদ্য যন্ত্রপাতি দেবে বলে জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগও পাশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, কলামটা যখন লিখছি, তখন শেষ হয়ে গেছে বাউল রণেশ ঠাকুরের বাড়ি পোড়ানোর প্রতিবাদে অনলাইন কনসার্ট, যাতে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও প্রবাসের বিশিষ্ট বাউলরা অনলাইনে গান গাইবেন। কনসার্টটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বাদ্যহারা বাউলা গান’। যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নামটা খুবই আবেগময়। বাস্তবেই বাদ্যযন্ত্র, গানের বই সব পুড়ে ছাই করে দিলেও কণ্ঠ রুদ্ধ করা অসম্ভব। কণ্ঠ নিঃসৃত লোকজ গান ও সুরের মৃত্যু নেই। লালনকেও কম অত্যাচার সহ্য করতে হয়নি। মৃত্যুর ১৩০ বছর পার হলেও লালন আজ জীবন্ত, তার গান ও সুর মানুষের মুখে মুখে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন থাকবেন লালন ও বাউল সাধকরা। কিন্তু যারা অত্যাচার করছে, তাদের অবস্থান হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।
দুই
করোনা দুর্যোগের মধ্যে মে মাসের প্রথমদিকের এক সকালে ‘করোনা যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব ও বাংলাদেশ’ কলামটি প্রকাশের পর প্রবাসী এক বন্ধুর টেলিফোন পেলাম। রাগত স্বরে বললেন, ‘বিশ্ব-দেশ প্রভৃতি সব নিয়ে লিখছেন। ঠিক আছে লিখেন। কিন্তু সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তা লিখেন না কেন?’ কোনো কথাই শুনতে চাইলেন না বন্ধুটি। এক সময় রাগ করে টেলিফোনটি রেখে দিলেন। এমন টেলিফোন দেশ-বিদেশ থেকে প্রায়ই পাই। ইতোমধ্যে উল্লিখিত কলামটি ফেসবুকে দেয়ার পর কয়েকজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মন্তব্য পড়লাম। কেউ অনুযোগ করেছেন এই ইস্যুতে লিখি না বলে আর কেউ দেশে করোনার মধ্যে তখন পর্যন্ত কতটা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেই তথ্য দিয়ে লিখতে অনুরোধ করেছেন। বুঝতে অসুবিধা হলো না, করোনার মধ্যে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ত্রাণমন্ত্রীর কাছে যথাক্রমে গত ২৯ এপ্রিল ও ৪ এপ্রিলের স্মারকলিপি দুটি পড়ে এমনভাবে ক্ষেপে কেউ কেউ কথা বলছেন বা মন্তব্য করছেন।
প্রথম স্মারকলিপিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ২৭টি ঘটনার সংক্ষিপ্তসার সংযোগিত করে বলা হয়েছে, ‘দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এরা ভবিষ্যতে আরো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টিতে অধিকতর তৎপর হয়ে সরকারের ভাবমূর্তিই কেবল বিনষ্ট করবে না, বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে।’ দ্বিতীয়টিতে লেখা হয়েছে, ‘ধর্মীয় ও জাতীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যকার পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নিম্নবিত্ত হরিজন জেলে দলিত রবিদাস ও আদিবাসী সম্প্রদায় যাতে ত্রাণের বাইরে না থাকে তজ্জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণে আপনার মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা অত্যাবশ্যক বলে মনে করি।’ তবে ওই সংগঠন সূত্রে জানতে পারলাম, স্মারকলিপি দেয়ার পর দুর্বৃত্তদের অশুভ কর্মকাণ্ডে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। এখন আবার বেড়ে যাচ্ছে। আর ত্রাণ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রসঙ্গত, সরকারি ত্রাণ তৎপরতা ও দুস্থ পরিবারগুলোকে অর্থ প্রদান করবে জানার পর সংগঠনটি উৎসাহিত হয়েছিল এবং এজন্য একটি ধন্যবাদপত্রও প্রধানমন্ত্রীকে প্রেরণ করেছিল। কিন্তু তালিকার পর দেখা যাচ্ছে তাতে বৈষম্য থেকে গেছে। সংগঠনটি কয়েকদিনের মধ্যেই জেলাভিত্তিক দুস্থদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করবে বলে জানা গেছে।
বর্তমানের এই চিত্র যখন চোখের সামনে ভাসে আর বিশেষভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম যখন প্রায় ৫০ বছর আগের দিনগুলোর কথা ভাবে, তখন স্বপ্ন আর বাস্তবের আকাশ-পাতাল ফারাক উপলব্ধি করে। তদুপরি বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকলে আরো কতটা বিপদ বাড়ত তা যেমন বিবেচনায় নেয়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল ক্ষমতায় থাকতে এমনটা হবে না বলেই একটা বিশ্বাস দানা বেঁধে উঠেছিল। কিন্তু তা হচ্ছে না বলে ক্ষোভ ও অভিমানে উল্লিখিত ধরনের প্রতিক্রিয়া দাঁড়াচ্ছে। কারো কারো প্রতিক্রিয়াটা এতই প্রবল যে, দেশ-উপমহাদেশ-বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতি বিষয়ে যে গণমনস্তত্তে¡ ও বাস্তব জীবনে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, সব ধর্মমতের মানুষের মধ্যেই সাধারণভাবে যে সেসব ধস নেমেছে; তা বিবেচনায় নিতে পারছেন না। তখন ছিল উত্থানের সময়কাল আর এখন ক্রমাগত পতন হচ্ছে। সমাজটা হয়ে পড়ছে যেন তৈলাক্ত বাঁশ, নিচে নামাটা যত সহজ উপরে ওঠাটা ততই কঠিন।
তিন
তৃতীয় ঘটনাটিও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণরূপ সাংঘর্ষিক এবং মর্মমূলে আঘাত হানছে। ঘটনা মারদাঙ্গা সিনেমার মতো নাটকীয়তায় পূর্ণ। বাস্তবের ওই নাটকে স্বার্থের দ্ব›দ্ব ও অর্থ লুটপাটের পটভূমি আছে, অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা আছে, গোলাগুলি আছে, হাইজ্যাক আছে, ভয়াবহ ও শঙ্কা জাগানো সব ডায়লগ আছে, মামলা-পুলিশ আছে, সবশেষে আছে নায়কদ্বয়ের বিমান নিয়ে পলায়ন। দুটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিক-পরিচালক ও কর্মকর্তারা কেউ কেউ হচ্ছেন ওই থ্রিলিং নাটকের কুশীলব। সমাজের উপরি মহলের কদর্য ও ভয়ঙ্কর রূপ এতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। জাতির অর্থনৈতিক জীবনের এই ঘটনাটাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখা যাবে না। পঁচাত্তরের পর মানি ইজ নো প্রবলেম নীতির ভিত্তিতে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে যে লুটেরা অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এমন ঘটনা ঘটেছে। যা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাকে অনেকটাই ধুলায় মিশিয়ে দেয়।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আমরা আনুষ্ঠানিকতা ও আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করতে পারছি না। কিন্তু উল্লিখিত ধরনের ঘটনাগুলোকে তো অন্তত অবদমিত করে রাখতে পারতাম। করোনাকালে বা পরিসমাপ্তির পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে মানবতা ও আইনের শাসন তথা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আরো কার্যকর হবে নাকি সমস্যা-সংকটের মধ্যে আইন লঙ্ঘন-অনৈতিকতা-অমানবিকতা আরো দুর্দমনীয় হয়ে উঠবে, কে জানে! মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী আমাদের আলোর পথ দেখাক, এটাই আজকের কামনা।

শেখর দত্ত : রাজনীতিক ও কলাম লেখক।

[email protected]

এসআর