অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতির চক্রে লণ্ডভণ্ড স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে’ আম ৫ জুন থেকে

পরের সংবাদ

বিশেষ সাক্ষাৎকার

আগের ঢাকাটাকেই ফেরত পেয়েছি

শরীফা বুলবুল:

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০২০ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ

হায়াৎ মামুদ
গবেষক

হায়াৎ মামুদ। একাধারে কথাসাহিত্যিক, অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, অনুবাদক। গবেষক ও প্রবন্ধকার হিসেবেও তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত। রুশ সাহিত্যের অনুবাদক হিসেবেও খ্যাতি তার ঈর্ষণীয়। প্রাণের ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ এক লেখক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক সত্তরোর্ধ্ব গ্রন্থের রচয়িতা, সমৃদ্ধ করেছেন সাহিত্যের প্রায় সব শাখা। জাতির মানস গঠনের অঙ্গীকারে তিনি প্রথমেই বেছে নিয়েছেন শিশুর মানসিক বিকাশ। শিশুর সুস্থ মনোবিকাশ একটি সুস্থ জাতির প্রথম ও প্রধান শর্ত। আজকের শিশু আগামী দিনের প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক। এই গভীর ভাবনা থেকে মনোনিবেশ করেছেন শিশুতোষ সাহিত্য রচনায়। রচনা করেছেন শিশু-কিশোর পাঠ্য জীবনী ও অনূদিত গল্প। বাংলা ব্যাকরণের কঠিন বিষয়গুলোকে সহজে কিশোর-কিশোরীদের আত্মস্থ করার জন্য লিখেছেন বাংলা ব্যাকরণবিষয়ক জনপ্রিয় বই।

ষাটের দশকে শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত ‘রবীন্দ্রনাথ : কিশোর জীবনী’ অত্যন্ত সরলভাবে উপস্থাপন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন হায়াৎ মামুদ। এ ছাড়া তার লেখা ‘শব্দকল্পদ্রুম’ ব্যাকরণ শেখার একটি অসাধারণ বই। এরপর দারুণ সাড়া জাগিয়েছিল ‘মৃত্যুচিন্তা রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জটিলতা’ তার বিখ্যাত গ্রন্থটিও। এই বহুমাত্রিক লেখকের করোনাকাল কেমন কাটছে ভোরের কাগজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন আশি বছর উপরে আমার বয়স। এখন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে খেলাধুলা করা ছাড়া আর কিছুই করছি না। তবে, প্রচুর পড়ছি। আমার কাছে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাসসমগ্রটা আছে। ওটাই পড়ছি।

লেখালেখি তাহলে একেবারেই বন্ধ? উত্তরে এই লেখক বলেন, আমি আসলে সারা জীবন লেখালেখি আর পড়াশোনা ছাড়া আর তো কিছুই করিনি। এটাই আমার ইচ্ছে ছিল। লেখালেখি আর পড়াশোনার জগতেই থাকতে চেয়েছি। তাই আছি। যা লিখি স্বেচ্ছায় এবং নিজের তাড়না থেকেই লিখি। আমি আমার জীবনে অনেক লিখেছিও। কারো কথা শুনে আমার লিখতে ভালো লাগত না। এখনো ভালো লাগে না। ফরমায়েশি লেখা আমাকে দিয়ে কখনো হয়নি। আমার যেটা মন চেয়েছে লিখেছি। বলে কয়ে লেখানো আমার পছন্দ হতো না। মুড এলে লিখব।

করোনার এই সময়টায় আপনার চেনা পৃথিবীটার কতটা বদল ঘটেছে বলে মনে করছেন? এর জবাবে এই শিক্ষাবিদ বলেন, আমার সৌভাগ্য যে আমরা বন্ধুবান্ধবরা এখনো ভালোই আছে। এই সময়ে তো একমাত্র উপায় হচ্ছে ঘরের মধ্যেই থাকা। তাই বাইরে যাওয়া আসা অনেক কমিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া আমি বুড়ো বয়েসে তো ঘরের মধ্যে এমনিই আছি। তাই মনে হয় বেঁচে গেছি। যারা ঘোরাঘুরি করছে তাদেরই করোনা হচ্ছে বেশি। কারণ এটা একটা ছোঁয়াচে ভাইরাস। এক্ষেত্রে সরকারি নিয়মনীতিগুলো অনুসরণ করা উচিত বলেই মনে করি।

তিনি বলেন, আমি তো ঢাকা শহরেই মানুষ হয়েছি। এখানে আমরা হেঁটে হেঁটেও ঘুরেছি, সাইকেল নিয়েও ঘুরেছি। রিকশায় কম চড়েছি। আর এখন তো হাঁটাই অসম্ভব। হাঁটতে গেলে অন্য গাড়ি এসে ধাক্কা দেয়। ঢাকা এখন চলাচলের শহরই নাই আর। বসবাসের অযোগ্য একটা শহর হয়ে গেছে। তবে, এখন মনে হচ্ছে সেই আগের ঢাকাটাকেই ফেরত পেয়েছি। ফিরে এসেছে সবুজ, পাখির ডাক। ফিরে এসেছে সুন্দর। গাড়ি, ঘোড়া, রিকশা অনেক কমে গেছে। প্রাণভরে হাঁটা যাচ্ছে। আমি তো থাকি গেন্ডারিয়ায়। বেশ খোলামেলা পরিবেশ। কিন্তু এদিকটাও ধীরে ধীরে ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে।

করোনা অভিঘাতে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করছেন? জবাবে বিশিষ্ট এই কবি বলেন, আমাদের অর্থনীতি এমনিতেই পঙ্গু। করোনার এই অভিঘাতে আরো পঙ্গু হবে। গ্রামের দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের তো কষ্টের শেষ নেই। মানুষের তো অসহায় অবস্থা। আর এই অভিঘাত বাংলাদেশের একার নয়, এটা বৈশ্বিক। এটা একা মোকাবিলা করা যাবে না।

এমআই