সক্রিয় তাপস, পাশে চান কাউন্সিলরদের

আগের সংবাদ

কঠিন সময়েও দুর্নীতিবাজদের ছাড় নয়

পরের সংবাদ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি আজাহারুলকে

পরিতোষ দাস, মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০২০ , ৬:১৩ অপরাহ্ণ

অদম্য ইচ্ছা থাকলে মানুষ সব করতে পারে। তারই অনন্য উদাহরণ আজহারুল ইসলাম। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবুও স্বপ্ন জয়ে বিভোর। শত বাধা উপেক্ষা করে হামাগুড়ি দিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে এস এস সি পাস করল প্রতিবন্ধী আজহারুল। সে এ বছর বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ২.৮৯ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এই সাফল্যে হতবাক হয়েছে অনেকে। তবে আরো ভালো ফলাফল করার ইচ্ছে ছিলো তার। এখন সে স্বপ্ন দেখছে ভালো কলেজে লেখাপড়া করে সরকারি ভাল একটি চাকুরী করার। আজহারুলের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার বনতিয়শ্রী গ্রামে।

আজহারুলের রয়েছে তিন ভাই, তিন বোন। ভাই বোনদের মধ্যে পাঁচ নম্বর আজহারুল। অভাবী সংসারে প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়া আজহারুল ছোটবেলা থেকেই সমাজের মানুষের অবহেলা
আর হোঁচট খেয়ে বড় হয়েছে। তার দুই হাতও বাঁকা। এরপরও দুই হাতের ওপর ভর করে স্বপ্ন জয়ের পথে এগিয়ে চলছে আজহারুল ইসলাম। অদম্য ইচ্ছা আর স্বপ্ন জয়ের দারুণ আগ্রহ রয়েছে তার। এ জন্য বাড়ি থেকে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কোনমতে হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসত আজহারুল। বাবা মনির উদ্দিনের ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর ধরে দুই হাতে ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসত আজহারুল। যদি অটো কিংবা রিকশা দিয়ে আসতে হয় তাহলে প্রতিদিন খরচ হয় ৫০ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তাই তিন কিলোমিটার রাস্তায় অতিক্রম করে হামাগুড়ি দিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত আজহারুল। সে প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২ দশমিক ৮৩ পেয়ে কৃতকার্য হয়। জেএসসিতে পায় ২ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।
আজহারুল ইসলাম জানায়, লেখাপড়া শিখে আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী হতে চাই। এ জন্য প্রতিদিন স্বপ্ন দেখছি বড় হওয়ার। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে ভাল একটি কলেজে ভর্তি হব।
আজহারুলের বাবা মনির উদ্দিনের মিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ, তাকে পড়া লেখা করাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা এমনিতেই চলতে পারিনা। সরকারি সহযোগিতা পেলে ওকে পড়াশোনা করাতে পারব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, আজহারুল একজন মেধাবী ছাত্র। সে পাস করায় আমরা খুবই খুশি। অস্বচ্ছলতার কারণে ওকে প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা আসতে হয়েছে। আর্থিক সাহায্য পেলে সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

ডিসি