কোন পরিণতির অপেক্ষায় আমরা?

আগের সংবাদ

মাধবদীতে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

পরের সংবাদ

বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

ভাড়া নিয়েও ভাবতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০২০ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ

৬৬ দিন পর গত সোমবার থেকে গণপরিবহন চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চালানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রাজধানীর গণপরিবহনে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশকের মতো কোনো সুরক্ষা সামগ্রী। কিছু গণপরিবহনে শুধু শারীরিক দূরত্বে বসার মাধ্যমেই স্বাস্থ্যবিধি সীমাবদ্ধ। আর বেশিরভাগ গণপরিবহনে সেটিও মানা হচ্ছে না। এমতাবস্থায় বাড়তি ভাড়া দিতে যাত্রীরা অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। ঘটছে বাস শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনা। গণপরিবহনে যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনায় দিন দিন অসন্তোষের খবর আমাদের দেখতে হবে। দেখতে হবে দ্রুত আক্রান্তের খবরও। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকল্পে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের অনুমোদন দেয় সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি কমিটি গণপরিবহন ও ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ১৪ শর্ত দিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। তা সমন্বয় করে ১১ শর্তে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ। শর্ত জুড়ে দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতিও। ৮০ শতাংশ বাস ভাড়ার সুপারিশ করেছিল তারা। পরে সরকার আলোচনাসাপেক্ষে ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। তবে ভাড়ার এ হার কার্যকর করতে হলে বাসগুলোকে অবশ্যই ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বাস-মিনিবাস পরিচালনা করতে হবে। অথচ এই নিয়মের তোয়াক্কা করছে না রাজধানীর সিটিং সার্ভিসগুলো। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এরপরও মানুষের মাঝে সচেতনতার বালাই নেই। বিশেষ করে বাস শ্রমিকরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার নির্ধারিত শর্ত মানতে নারাজ। কিন্তু ভাড়া আদায়ে ছাড় নেই। সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে হাতাহাতি হচ্ছে। করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিটি পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হতো। বাসগুলো সিটিং নাম দিয়ে ভাড়া বাড়ালেও ঠিকই কয়েকগুণ বেশি যাত্রী বহন করে আসছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা বরাবরই উপেক্ষিত ছিল গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গণপরিবহনে ভাড়া নতুন করে বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। করোনাকে কেন্দ্র করে নতুন শর্তগুলো মানা নিয়ে বিতণ্ডা হবে আমরা আগের সম্পাদকীয়তে বলেছিলাম। এখন তাই দেখতে হচ্ছে। জনবহুল এই শহরে শর্ত মেনে বাস চালানো সম্ভব নয়। অতিরিক্ত বাড়ার বিষয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে। জনগণের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার ভাড়ার হার কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে সমন্বয় করতে পারে। এতে জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে।

ডিসি