সরকারের সামনে ৩ চ্যালেঞ্জ

আগের সংবাদ

বিক্ষোভ দমনে সেনা অভিযান চালাবেন ট্রাম্প

পরের সংবাদ

প্লাজমা থেরাপিতে আগ্রহ বাড়ছে সবার

সেবিকা দেবনাথ:

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০২০ , ১২:২০ অপরাহ্ণ

প্লাজমা

ঢালাও প্রয়োগ বন্ধে নীতিমালা জরুরি প্লাজমা ব্যাংক ও ব্লাড গ্রুপসহ রোগীর ডাটাবেজ তৈরির পরামর্শ

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ না থাকায় প্লাজমা থেরাপি নেয়ার আগ্রহ বেড়েই চলছে। দেশে প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ইতোমধ্যে হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের ওপর এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হয়েছে। ঢামেকসহ ৮টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২০ জনের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ২৮ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) করোনা গাইডলাইনে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বাইরে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্লাজমা থেরাপি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে করে এই পদ্ধতির প্রয়োগ এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডব্লিউএইচও বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে এই পদ্ধতি প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ক্ষেত্রে দেয়নি। আমাদের দেশে এখনো এই পদ্ধতির প্রয়োগ পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর্যায়েই রয়েছে। ঢালাওভাবে ব্যবহার যাতে না হয় সে জন্য সরকারকে শীঘ্রই একটি নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন তারা। অনেকে প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ব্লাড গ্রুপিংসহ সব করোনা পজিটিভ রোগীর ডাটাবেইস তৈরিও পরামর্শ দিয়েছেন। ঢামেক হাসপাতালের হেমাটোলজি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের অধ্যাপক এবং প্লাজমা থেরাপি সাব কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান ভোরের কাগজকে বলেন, ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি ব্যবহারের জন্য ২০১৪ সালে ডব্লিউএইচও একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছিল। এই পদ্ধতি নিয়ে বড় ধরনের কোনো গবেষণা হয়নি। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে এর কার্যকারিতা কতটুকু এবং কতখানি নিরাপদ, সে সম্পর্কে ধারণা কম। তাই ঢালাওভাবে এই পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচওর ওষুধের তালিকায় প্লাজমা থেরাপি আছে। আর সম্প্রতি সংস্থাটি যে পরামর্শ দিয়েছে সেখানে বলা আছে, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। এটি যাতে ঢালাওভাবে ব্যবহার করা না হয় সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

দেশে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এই পদ্ধতির বিশেষ প্রয়োজন। কারণ আমাদের আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের সংখ্যা খুবই সীমিত। এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

প্লাজমা থেরাপির সুফল সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, ন্যাশনাল এক্সপান্ডেট অ্যাক্সেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্লাজমা থেরাপির কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ প্লাজমা সংগ্রহ করবে। তারা এসোপি তৈরি করবে এবং এসোপির মাধ্যমে কাদের থেকে, কতখানি এবং কীভাবে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে এবং কীভাবে প্রয়োগ করা হবে সেগুলো উল্লেখ থাকবে।

তিনি আরো বলেন, প্লাজমা থেরাপি নিয়ে বিশ^ব্যাপী বড় ধরনের কোনো গবেষণা হয়নি। তারপরও করোনা মহামারিতে প্লাজমা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) একটি অ্যাপ্রুভাল দিয়েছে। তা হলো ‘ইনভেস্টিগেশনাল নিউ ড্রাগস’ হিসেবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি আমরা সংগৃহীত প্লাজমা বিতরণ করি তাহলে একটা তালিকা থাকবে। কাদের প্লাজমা দেয়া হচ্ছে এবং কী পরিমাণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে, সেই তথ্যগুলোও আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি জানান, ঢামেক হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্লাজমা সংগ্রহ শুরু হয় ১৬ মে। এ পর্যন্ত ২৫ জন প্লাজমা দিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. চিন্ময় দাস মনে করেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের সকল সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে জরুরি ভিত্তিতে প্লাজমা সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এজন্য ব্লাড গ্রুপিংসহ সকল করোনা পজিটিভ রোগীর ডাটাবেইসও জরুরি।
এদিকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ‘প্লাজমা ব্যাংক’ করার উদ্যোগ নিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে এর জন্য প্রয়োজন কয়েক কোটি টাকার বিনিয়োগ। তাই এই কাজে সবার সহযোগিতা চান কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এ ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে এন্টিবডি তৈরি করে। এই এন্টিবডি এই ভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমায় প্রচুর পরিমাণে এন্টিবডি তৈরি হয়। ওই এন্টিবডিই অসুস্থদের সারিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

এমআই