বিক্ষোভ দমনে সেনা অভিযান চালাবেন ট্রাম্প

আগের সংবাদ

চরম স্বেচ্ছাচারিতায় চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক

পরের সংবাদ

বাজেট ২০২০-২১

জীবন-জীবিকার বাজেট

মরিয়ম সেঁজুতি:

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০২০ , ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

বাজেট

স্বাস্থ্য উন্নয়ন খাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ প্রণোদনা বাস্তবায়নে বিশেষ কর্মসূচি

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সর্ববৃহৎ কল্যাণমুখী বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। করোনাসহ যেকোনো ভাইরাস সংক্রমিত রোগের চিকিৎসা সহজীকরণ  ও স্বল্প ব্যয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করছে সরকার। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদনে ভর্তুকি, নগদ সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে নতুন বাজেটে। করোনার কারণে যারা চাকরি হারিয়েছেন কিংবা যাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে বাজেটে তাদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া রপ্তানি আয় বাড়ানো, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, চলতি বিনিয়োগ আরো উৎপাদনমুখী করা, পদ্মা সেতুসহ দশ মেগা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নেরও কৌশল থাকছে আগামী বাজেটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজেটে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবারো সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট দেয়া হচ্ছে। বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত আকার কিছুটা বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইড লাইন অনুসরণ করে এবারের নতুন বাজেটে করোনা সংকট উত্তরণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে বাজেট নিয়ে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সর্বক্ষেত্রে কর ছাড় দেয়া হবে। সব পর্যায়ের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সচল করতে একটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী।

জীবন বাঁচাতে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ : জীবন বাঁচানোর লক্ষে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে আগামী বাজেটে। করোনার মতো রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ দ্বিগুণ করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, স্বাস্থ্য গবেষণায় জোর, ভ্যাকসিন, টিকা ও ওষুধ আবিষ্কারে গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানো হবে। প্রতিটি সরকারি জেনারেল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করার কর্মসূচি নেয়া হবে।

এদিকে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের উন্নয়ন ব্যয় দ্বিগুণ করা হবে। গত দশ বছরে সারাদেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা এবং এমবিবিএস কোর্সের আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৪৬টি থেকে এখন ১১১টিতে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে এমবিবিএস কোর্সে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৫০টি থেকে ১০ হাজার ৩০০টি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) স্বাস্থ্য খাতের ৫৭টি প্রকল্প আছে। প্রকল্পগুলোর ৪৩টি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের। আগামী বাজেটে করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট : করোনার ছোবল থেকে জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষে কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো ও করোনা পরবর্তী বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ নজর দেয়া হবে। করোনা সঙ্কটের প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতিতে। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। এজন্য বাজেটে প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়করণ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা নিশ্চিত করা, উৎপাদিত পণ্যের দেশি-বিদেশি বাজার সৃষ্টি, রেমিটেন্স আহরণে প্রণোদনা অব্যাহত রাখার মতো কর্মসূচি রয়েছে।

এদিকে, সম্পদের সীমাবদ্ধতার পরও এবার বাজেটের আকার বাড়বে ১০-১২ শতাংশ পর্যন্ত। করোনা-দুর্যোগে স্বাস্থ্য, খাদ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা খাতে সরকারি ব্যয় বেড়েছে। বিনামূল্যে চাল বিতরণ, দশ টাকা দামে গরিব মানুষকে চাল সরবরাহ করা, করোনাকালীন কর্মহীন মানুষকে নগদ টাকা দেয়া, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ নানা আর্থিক সুবিধা দেয়ায় ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এজন্য বাড়তি অর্থ জোগান দিতে হবে। এছাড়া বেশি ব্যয় করলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙ্গা থাকবে। এতে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এসব বিবেচনা করে করোনাকালীন সংকট মোকাবিলায় বিশাল অঙ্কের বাজেট করছে সরকার।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৫ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ঘাটতি হতে পারে এক লাখ ৭২ থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি হতে পারে ৩ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাকি রাজস্ব আসবে এনবিআরের বাইরে কর বহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপির সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পদক্ষেপ : করোনার অর্থনেতিক ক্ষতি পোষাতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরফলে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি অর্থবছরের আরএডিপিতে কৃষি সেক্টরে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ৬৭২ কোটি ১১ লাখ টাকা। ১৮৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এ সেক্টরে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। ফলে আরএডিপির বরাদ্দ বাড়ছে এক হাজার ৭৫১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কৃষি সেক্টরের নতুন এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায়ও বেশি। মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে বাড়ছে ৮০৮ কোটি টাকা।

এমআই