করোনায় কড়া সংসদ

আগের সংবাদ

চসিকসহ সংসদীয় উপনির্বাচন নিয়ে সিইসির ভাবনা

পরের সংবাদ

‘বাংকারে লুকিয়ে পড়বেন না মি. প্রেসিডেন্ট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১, ২০২০ , ১১:২৯ অপরাহ্ণ

জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোটা আমেরিকা জ্বলে উঠেছে বিক্ষোভের আগুনে। আর এই সুযোগ করোনাকালে প্রধান শত্রুতে পরিণত হওয়া চীনও মাঠে নেমে পড়েছে। চীন কিছুটা নাক গলিয়ে বলছে, মার্কিন সমাজে বর্ণবৈষম্য এবং পুলিশি নৃশংসতা জেঁকে বসেছে। এমন পরিস্থিতিতে‌ অন্য দেশগুলিতে ঝামেলা না পাকিয়ে নিজেদের সমস্যা সমাধানে নজর দেয়া উচিত মার্কিন রাজনীতিকদের।

মূলত চেক জালিয়াতির অভিযোগে গেল সপ্তায় আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গকে নৃশংস ভাবে খুন করে সেখানকার পুলিশ। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে বার বার আর্জি জানাতে থাকলেও, হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে বসে থাকেন এক পুলিশকর্মী।

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ভিডিও সামনে আসতেই বিক্ষোভ শুরু হয় দেশ জুড়ে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তা হিংসাত্মক আকারও ধারণ করেছে। শুক্রবার (২৯ মে) পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তার খাতিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মিডিয়া গরম করা সেই খবর সামনে আসতেই তাতে ঘি ঢালতে মাঠে নেমে পড়ে চীন। হংকংয়ের ওপর চিনা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বরাবরই বাধা দিয়ে আসছে আমেরিকা। সম্প্রতি চীনের পার্লামেন্ট হংকংকে নিরাপত্তা বিলের আওতায় আনার প্রস্তাবে সমর্থন জানালে, তার বিরুদ্ধেও সরব হয় ওয়াশিংটন। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেছে চীন।

বরাবরই হংকংয়ের ওপর চীনা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দিয়ে আসছে আমেরিকা। সম্প্রতি চীনা পার্লামেন্ট হংকংকে নিরাপত্তা বিলের আওতায় আনার প্রস্তাবে সমর্থন জানালে, তার বিরুদ্ধেও সরব হয় ওয়াশিংটন। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তারা।

সোমবার (১ জুন) বেইজিংয়ে সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র লিজিয়ান ঝাও বলেন, মার্কিন সমাজে বর্ণবৈষম্য এবং পুলিশি নৃশংসতা কতটা গভীর ভাবে জেঁকে বসেছে, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুই তা দেখিয়ে দিল। বর্ণবৈষম্য দূর করে কীভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে মার্কিন সরকারকে ভাবনা চিন্তা করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

শুধু তাই নয়, জাতিসংঘে রাশিয়ার উপপ্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কির একটি মন্তব্যও রিটুইট করেন ঝাও। সেখানেও কটাক্ষ করে বলেন, ‘হংকংয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাইছে চীন। আর তাতে বাধা দিচ্ছে আমেরিকা। অথচ নিজেদের দেশে গায়ের জোরে বিক্ষোভ দমন করছে তারা।

শুধু ঝাও-ই নন, চীনে ট্রাম্পকে নিয়ে টিপ্পনির ঝড় বইছে যেন। এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস এবং তাদের সম্পাদক হু শিজিনও। মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি একসময় হংকংয়ের বিক্ষোভের প্রশংসা করেছিলেন। তাকে উল্লেখ করে হু শিজিন লেখেন, মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি হংকংয়ের হিংসাত্মক বিক্ষোভ দেখে বলেছিলে অসাধারণ দৃশ্য। আশা করি এ বার বাড়ির জানলা থেকে একই ধরনের দৃশ্য উপভোগ করছেন মার্কিন রাজনীতিকরা।

আরেকধাপ এগিয়ে হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের পিছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ডের মুখ লুকনো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন হু শিজিন। তার কথায়, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, সিক্রেট সার্ভিসের পিছনে লুকোবেন না। তার চেয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলুন। সমঝোতায় আসার চেষ্টা করুন। ঠিক যেমন ভাবে হংকংয়ের দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে চীনকে আলোচনায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন আপনি। সূত্র: আনন্দবাজার।

এনএম