প্রাণ বাঁচাতে বাংকারে লুকিয়েছিলেন ট্রাম্প!

আগের সংবাদ

আদর্শের বিপরীতেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আদর্শ

পরের সংবাদ

লকডাউন প্রত্যাহার কতটা জরুরি?

অনিল মো. মোমিন

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১, ২০২০ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। এর শেষ কোথায় এখনো তার কোনো পূর্বাভাস করা যাচ্ছে না। এদিকে করোনা ভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে যাচ্ছে অর্থনীতি। ধেয়ে আসছে মন্দা। খাদ্যসংকট প্রকট হয়ে উঠছে। রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছে মানুষ খাদ্যের খোঁজে, ত্রাণ সহায়তার খোঁজে। বাংলাদেশে বুভুক্ষু মানুষ ত্রাণ ছিনতাই করেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে যাওয়ায় কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছে মানুষ। বিশ্বজুড়ে বেকার সংখ্যা বেড়ে চলছে কল্পনাতীতভাবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যানুযায়ী, করোনা ভাইরাসের কারণে তিন মাসের মধ্যে বিশ্বে সাড়ে ১৯ কোটি মানুষ তাদের পূর্ণকালীন চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। যার মধ্যে সাড়ে ১২ কোটি মানুষ বসবাস করেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির কারণে ২৪ কোটি ২০ লাখ লোক চাকরি হারাতে পারেন। এদিকে করোনা মহামারি আর লকডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ কোটি। এপ্রিলে দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, বিগত ৯০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এপ্রিল নাগাদ যুক্তরাজ্যে বেকার হয়েছে ২১ লাখ মানুষ। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থাও নাজুক। শুধু গত মাসেই ভারতে ১২ কোটি ২০ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গভীর অনিশ্চয়তার দিকে বিশ্ব অর্থনীতি। স্বাভাবিকভাবেই চারদিকে বেকারত্ব আর ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করে দিয়েছে অর্থনীতিকে। ১৯৩০ দশকে গ্রেট ডিপ্রেশনের পর এই প্রথম করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে আবার বড় রকমের ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ধারণা করছে যে লকডাউনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এ বছর তিন শতাংশ সঙ্কুচিত হবে।
এমন বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন লকডাউন তুলে দিচ্ছে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আর নিয়মাবলির বেড়াজালে অর্থনীতি চলমান রাখার লড়াইয়ে ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে লকডাউন। বাংলাদেশও হাঁটছে সে পথে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়েই খুলে দিয়েছে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ গণপরিবহন। বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলেও সরকারের কাছে লকডাউন প্রত্যাহারের বিকল্প নেই। অন্তত মন্দের ভালো হিসেবেও এটাকে ইতিবাচকভাবে নেয়া যায়। গ্রামের মানুষ বলে থাকে ‘মরুম দেইখা করুম না, বাঁচলে খামু কী’। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে হলেও অর্থনীতির দুয়ার খুলতে হবে। তাছাড়া সবাই দেখেছি দেশে ৭ ধাপে বাড়ানো সাধারণ ছুটি তথা অঘোষিত লকডাউন তেমন কোনো কার্যকর ফলাফল আনতে পারেনি। সাধারণ মানুষের ভেতর কাক্সিক্ষত পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি আর সামাজিক দূরত্ব অনেকাংশেই বজায় রাখা হয়নি। এসব ছুটিতে শুধু ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ’ নিশ্চিত হয়েছে, করোনার সংক্রমণ নয়। সাধারণ ছুটির একেকটা দিনই ছিল করোনা শনাক্ত ও মৃতের রেকর্ড যা এখনো চলমান। তাই লকডাউন তুলে অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনজীবন স্বাভাবিক করা সময়েরই দাবি। লকডাউন প্রত্যাহারে দেশের অর্থনৈতিক আশীর্বাদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষগুলো।
সরকার স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেসব নিয়মকানুন মেনে জনজীবন আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বলেছে সেসব মেনে চললে করোনা সংক্রমণ এখনো কমিয়ে আনা সম্ভব। এসব নিয়ম মানা প্রতিটা নাগরিকের কর্তব্য। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে নিয়মগুলোর সফল বাস্তবায়নে সরকারকেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগে সরকারকে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। এতে জীবন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

ডিসি