জীবন আগে না জীবিকা?

আগের সংবাদ

পুলিশে করোনাজয়ীর সংখ্যা ২ হাজারের বেশি

পরের সংবাদ

প্রথম দিনে বাতিল ৬ ফ্লাইট

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১, ২০২০ , ৮:১৩ অপরাহ্ণ

দেশের অভ্যন্তরীন ৩ রুটে বিমান চলাচল শুরু হলেও যাত্রী সংকটে বাতিল হয়েছে ৬টি ফ্লাইট। আবার যেসব ফ্লাইট চলেছে, সেগুলোর অনেক আসনই ছিল ফাঁকা। তবে প্রথম দিনের এ অবস্থাকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার সকাল ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস বাংলার একটি এয়ারক্রাফটের চট্টগ্রাম যাত্রার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৬৯ দিনের আকাশ বিরতির অবসান ঘটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারের মিলিয়ে মোট ২৪টি ফ্লাইট চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীর গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। তবে যাত্রীর অভাবে শেষ পর্যন্ত বিমানের ৪টি ও ইউএস বাংলার দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার উপ মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার জানান, প্রথম দিনে তাদের ৬টি ফ্লাইট চলার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রী সঙ্কটে চট্টগ্রাম ও সিলেটের চারটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। কেবল সৈয়দপুর রুটে দুটি ফ্লাইট চালাতে পেরেছে বিমান। অভ্যন্তরীণ রুটে ৭৫ আসনের ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরগামী ফ্লাইটে মাত্র ৪ জন, ফেরার সময় ২০ জন যাত্রী ছিল। যদিও ৩৫ জন করে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তাদের।

সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানতের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে ২৮ জন যাত্রী ছিল বলে জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যস্থাপক কামরুল ইসলাম। ফেরার পথে ছিল ৩৫ জন। এছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া একটি ফ্লাইটে ৫১ জন ও ফেরার সময় ৫৪ জন যাত্রী হয়েছে। তবে প্রথম দিনের হিসেবে যাত্রী ভালই ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বুঝতে মানুষ কয়েক দিন সময় নিবেন, এটাই স্বাভাবিক। আমরা আশাবাদী। সোমবার ইউএস বাংলার মোট ১০টি ফ্লাইট চলার কথা থাকলেও যাত্রী সংকটে চট্টগ্রাম রুটে দুটি ফ্লাইট বাতিল হয় বলে জানান তিনি।

নভোএয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং এন্ড সেলস) এ কে এম মাহফুজুল আলম জানান, ৭২ আসনের এটিআর ৭২-৫০০ এয়ারক্রাফটে এখন তারা সর্বোচ্চ ৫৪ জন যাত্রী নিবেন। তবে প্রথম দিন সৈয়দপুরের ফ্লাইটে ৪০ জন ও ফিরতি পথে এসেছেন ৫০ জন। চট্টগ্রাম রুটে সকালে ২৯ জন যাত্রী গিয়েছেন, ঢাকা এসেছেন ২২ জন। নভোএয়ারের চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে ৩টি করে এবং সিলেটে ১টি ফ্লাইট ছিল, যার সবগুলোই চলেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ উল আহসান জানান, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। যাত্রী প্রবেশের আগে বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের হ্যান্ড গ্লভস ও মাস্ক সরবরাহ করছে। তাপমাত্রা পরীক্ষা করে যাত্রীদের টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অপেক্ষার সময় বা চেক ইন লাইনে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেখানে দূরত্ব মেনে বসার জন্য মার্কিং করে দেয়া হয়েছে। উড়োজাহাজে ওঠার আগেও আরেকবার যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কর্মীরা হ্যান্ড মাইক দিয়ে যাত্রীদের বারবার সর্তকও করছেন।

প্রসঙ্গত, করোনার বিস্তার ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গত বুধবার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের জারি করা ছুটির প্রজ্ঞাপনের পর ১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিশেষ ব্যবস্থা মেনে বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। প্রথমে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে বিমান যোগাযোগ শুরুর নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ। দেশে ৪টি এয়ারলাইন্স কোম্পানি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করলেও গত ২০ মার্চ থেকে ৩ মাসের জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। ফলে এখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল রুটে প্রতিদিন ১৪০টির মতো ফ্লাইট চলাচল করত। তবে এখন মাত্র ২৪টি ফ্লাইট চলাচল করবে।

পিআর