সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রযোজক ইকবাল

আগের সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তীর শেষকৃত্যে বাধা

পরের সংবাদ

লঞ্চ চলাচল শুরু, হাত ধুতে নারাজ যাত্রীরা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩১, ২০২০ , ৮:১৬ অপরাহ্ণ

সদরঘাটে জীবাণুনাশক টানেল উদ্বোধন
বিশেষ দরকার ছাড়া ঢাকামুখী না হতে নৌপ্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রবিবার (৩১ মে) সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৪৩ রুটসহ সারা দেশে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। করোনার বিস্তার রোধে লঞ্চ ও বন্দরগুলোতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও অনেককেই তা মানতে দেখা যায়নি। গত ২৪ মার্চ থেকে দেশে সব ধরণের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার।

দুপুরে দেশের প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটে জীবাণুনাশক ৬টি টানেল উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঢাকামুখী না হওয়ার আহ্বান জানান। দেশের সব নদীবন্দরে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নৌযাত্রার সময় যেন করোনার বিস্তার না ঘটে, আমরা সেজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে এ ক্ষেত্রে যাত্রী, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের সচেতন হওয়া জরুরি। উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন লঞ্চের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে লঞ্চের ডেকে এঁকে দেয়া চিহ্ন অনুযায়ী যাত্রীদের বসতে অনুরোধ করেন তিনি।

যাত্রীর চাপ সদরঘাটে

এদিকে সদরঘাট টার্মিনালে প্রবেশের আগে যাত্রীদের জীবাণুনাশক স্প্রে করতে ও শরীরের তাপমাত্রা মাপতে দেখা গেছে দায়িত্বরতদের। তবে এর ফাঁক গলিয়েও অনেক যাত্রী সরাসরি লঞ্চে উঠে গেছেন। লঞ্চে ওঠার সময় বা পন্টুনে গা ঘেঁষে চলাফেরা করতে দেখা গেছে প্রায় সবাইকে। অনেকেরই মুখেই কোনো মাস্ক ছিল না। হাত ধুয়ে লঞ্চে ওঠার ধার ধারেননি অনেকে।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে মানা হয়নি দূরত্ব
আমাদের লৌহজং (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। শিমুলিয়া ঘাট থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীর চাপ বেশি না থাকলেও কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখি মানুষের চাপ ছিল। ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশকে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। লঞ্চে যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে হাত ধোয়ার সাবান পানি রাখা হলেও কেউ তা ব্যবহার করছে না। কর্তৃপক্ষের তদারকি তেমন একটা চোখে পড়েনি। লঞ্চে ৩৩ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. আলী আক্কাস জানান, সরকারের নিয়ম-নীতি মেনেই লঞ্চে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাট টিআই (ট্রাফিক পরিদর্শক) মো. সোলেমান বলেন, মাস্ক ছাড়া যাত্রী পারাপার করা হয় না। আমরা মাইকিং করছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লঞ্চে ওঠা-নামা করার জন্য। কিন্তু যাত্রীর চাপে সম্ভব হচ্ছে না।

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রী ও গাড়ির চাপ
আমাদের রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, শনিবারও কর্মস্থলে ফিরছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ। ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও গাড়ির ব্যাপক চাপ পড়ে। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই গাদাগাদি করে যাত্রীরা ফেরি পারাপার হচ্ছে। প্রতিটি ফেরিকে যাত্রীদের ভিড় নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এ রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ব্যবস্থাপক নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, দীর্ঘ দুই মাস পর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেক যাত্রীকে হাত ধুয়ে লঞ্চে উঠতে দিচ্ছি। সেই সাথে লঞ্চের মধ্যেই তিনফুট দূরে দূরে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করেছি।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, এই রুটে ছোট বড় মিলে ১৪টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লে ফেরি সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

বরিশালে যাত্রী ছিল অনেক কম
রবিশাল থেকে আমাদের প্রতিবেদক জানান, রবিবার ভোর ছয়টা থেকে বরিশাল বিভাগের স্থানীয় ও অভ্যন্তরীণ রুটে ছোট লঞ্চের যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে নির্ধারিত রুটে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চগুলো চলাচল করেছে। সকালে অভ্যন্তরীণ রুট জেলার মেহেন্দিগঞ্জ, মজুচৌধুরীর হাট, হিজলা, মুলাদী ও পাশ্বর্তী দ্বীপ জেলা ভোলার উদ্দেশ্য যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ছেড়ে গেছে। তবে প্রথমদিনে যাত্রীসংখ্যা ছিল খুবই কম। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে লঞ্চে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। লঞ্চে ওঠার সময় কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েছে। বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, সব যাত্রীকে বাধ্যতামুলক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে লঞ্চে উঠতে দেয়া হবে না।

এনএম