এসএসসি পাস করেছে নারী ফুটবলার শামসুন্নাহার

আগের সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় বিষপানে আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

মানিকগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক তারা মিঞা আর নেই  

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩১, ২০২০ , ১১:৩১ অপরাহ্ণ

চলে গেলেন মানিকগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক এম এ ওয়াহেদ তারা মিঞা। রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টায় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বদাশরায় তাঁর বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ৪ মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাদ মাগরিব মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে প্রথম জানাজা ও মরহুমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-নালোড়া গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গনে বাদ এশা দ্বিতীয় জানাজাশেষে গ্রামের কবরাস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, মানিকগঞ্জ জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী, মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুদেব কুমার সাহা, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, সাবেক সভাপতি সুরুয খান, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মানবেন্দ্র চক্রবর্তী, সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বিশ্বাস, শিবালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবুল আকতার মঞ্জুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দিন ভিকু, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সাটুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা খান, সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ  বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। তিনি সারাজীবন সমাজ উন্নয়নের চেষ্টা করে গেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

এম এ ওয়াহেদ তারা মিঞা ১৯৫৮ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দৈনিক সংবাদ, মর্নিং নিউজ এবং পাকিস্তান বাই উইকলি পত্রিকায় কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জের দ্বিতীয় বয়োজৈষ্ঠ সাংবাদিক। তাঁর আগে এই পেশায় আসেন খন্দকার মঞ্জুরুল হাসান শেলী। তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সাংবাদিক সমিতি মানিকগঞ্জ মহকুমা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। মরহুম তারা মিঞার হাত ধরেই পরবর্তীতে মোহাম্মদ আসাদ, আব্দুল মোন্নাফ খান, জালাল উদ্দিন আহমেদ, প্রজেশকান্তি রায় সাংবাদিকতা শুরু করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সমাজ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত বেতিলা হাই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। স্কুলটিতে পরবর্তীতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

তিনি ২০০২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতীয় যক্ষা নিরোধ কমিটি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যক্ষা নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে জাতীয়ভাবে ২০১২ সালে ‘আজীবন সেবা স্বীকৃতি সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।

এছাড়া, তিনি মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান, মানিকগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি, মানিকগঞ্জ ইউসিডি প্রজেক্ট কাউন্সলের পরিচালক, মানিকগঞ্জ নাগরিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি, শহর সমাজ সেবা প্রকল্প সমন্বয় পরিষদের প্রচার ও গনসংযোগ প্রযোজক, বেতিলা পল­ী সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও মানিকগঞ্জ রোগী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্বপালনের মধ্য দিয়ে সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন।

১৯৪০ সালের ১৮ জুলাই মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-নালোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে মানিকগঞ্জ ভিক্টোরিয়া স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬০ সালে মানিকগঞ্জ সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন।

এমএইচ