লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যা ও আমাদের ‘আদম-ব্যবসা’!

আগের সংবাদ

শিল্পপতি আব্দুল মোনেমের মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রীর শোক

পরের সংবাদ

বাস ভাড়া বৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩১, ২০২০ , ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালীন শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকল্পে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে পারবে। গতকাল রবিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আজ থেকে নতুন ভাড়া কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। আর্থিক সংকটে থাকা জনগণের ওপর বর্ধিত ভাড়া চাপিয়ে দেয়া হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র শামিল। এর আগে বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি। করোনার বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। গতকাল থেকে ট্রেন ও লঞ্চ চালু হয়েছে। আজ থেকে বাস চলার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি কমিটি গণপরিবহন ও ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ১৪ শর্ত দিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। তা সমন্বয় করে ১১ শর্তে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ। শর্ত জুড়ে দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতিও। ৮০ শতাংশ বাস ভাড়ার সুপারিশ করেছে তারা। পরে সরকার আলোচনা সাপেক্ষে ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। জানা গেছে, এতদিন পর্যন্ত আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুট কিলোমিটারপ্রতি সরকার নির্ধারিত ভাড়া ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সা। বিআরটিএর সুপারিশে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলে কাল থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লায় প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া আদায় করা হবে ২ টাকা ৫৬ পয়সা হারে। এক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য আগে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা করে। ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পর তা উন্নীত হবে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫০ পয়সায়। একই হারে ভাড়া আদায় হবে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায়ও। এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে সর্বশেষ বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তবে ভাড়ার এ হার কার্যকর করতে হলে বাসগুলোকে অবশ্যই ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখতে হবে। এছাড়া কোনো যাত্রী দাঁড়িয়ে চলাচল করতে পারবে না। করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিটি পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হতো। বাসগুলো সিটিং নাম দিয়ে ভাড়া বাড়ালেও ঠিকই কয়েকগুণ বেশি যাত্রী বহন করে আসছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা বরাবরই উপেক্ষিত ছিল গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছে। করোনাকে কেন্দ্র করে নতুন শর্তগুলো কীভাবে মানা হবে তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। শর্ত মেনে বাস চালানো আসলে কি সম্ভব কিনা। অতিরিক্ত বাড়ার বিষয়েও সরকারের কাছ থেকে আরো দায়িত্বশীল ভ‚মিকা আশা করেছি। জনগণের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার ভাড়ার হার কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে সমন্বয় করতে পারে। এতে জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে।