বাঙালির মহাকাশ যাত্রার দুই বছর

আগের সংবাদ

সবচেয়ে ধনী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ 

পরের সংবাদ

লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যা

জীবিকার জন্য আর কত প্রাণহানি?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩০, ২০২০ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে অবৈধপথে ভিন দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে প্রাণহানির খবর নতুন নয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরীয় দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গুলি করে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এমন হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। নিহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম জানায়, মিজদা শহরে মানবপাচারকারী চক্র ও অভিবাসীদের মধ্যে টাকার জন্য মারামারি হয়। এতে মানবপাচারকারী চক্রের একজনের মৃত্যু হয়। তারই প্রতিশোধ নিতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। মানবপাচার একটি জঘন্য অপরাধ। পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রের বিশ্বজুড়ে বিস্তৃতি রয়েছে এবং ক্রমেই মাত্রা বাড়ছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিনিয়ত এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যাপকহারে মানুষ পাচার হচ্ছে। সত্যিকার পরিস্থিতিটা এই যে, কোনো সরকারই মানুষ পাচারের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েও পাচার প্রতিরোধে সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। তেলনির্ভর অর্থনীতির কারণে লিবিয়া দীর্ঘকাল অভিবাসীদের গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশটি অভিবাসীদের জন্য ভ‚মধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে যাওয়া অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে। ভ‚মধ্যসাগরের কাছে লিবিয়ার বিভিন্ন সীমান্তে ক্যাম্প করে তারা লোকজনকে জিম্মি করে ছোট ছোট নৌকায় ইউরোপে পাঠাচ্ছে। প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে ভ‚মধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে আমাদের অনেক সম্ভাবনাময় তরুণের সলিল সমাধি ঘটেছে। মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে সমুদ্রপথে মানুষ পাচারের ঘটনা বেশি হচ্ছে। পাচার হওয়ার পথে অনেকে সাগরে দস্যুদের কবলে পড়ে বা নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা আটক হয়ে বিদেশের জেলে বন্দি থাকছে। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে বহুজাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধবিষয়ক আইন প্রণয়ন করেছে। এর ফলে মানবপাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদেরও উদ্যোগী হতে হবে। লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের করণীয় রয়েছে। ইতোমধ্যে লিবিয়ার কাছে বাংলাদেশ বিচার চেয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং পুরো ঘটনার তদন্তসহ এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) ও লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। সেই সঙ্গে লিবিয়ায় মানবপাচারে জড়িতদের সন্ধান এবং মানবপাচার ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা মনে করি কেবল অনুরোধ নয়, আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদেশযাত্রা ও মানবপাচার রোধে সরকারকে আরো বেশি তৎপর হতে হবে। প্রতারক ও পাচারচক্রকে ধরতে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। দেশের যারা পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অবৈধ বিদেশ গমনের ঝুঁকি ও পাচারের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।