কাজে ফিরেছেন করোনামুক্ত এক-তৃতীয়াংশ পুলিশ সদস্য

আগের সংবাদ

ভারতীয় ভক্তদের প্রশংসায় ভাসছেন ডেভিড ওয়ার্নার

পরের সংবাদ

নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৯, ২০২০ , ৩:০৬ অপরাহ্ণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছন, সরকার বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। একদিকে এই সংক্রমণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান তো দিচ্ছেই না, অন্যদিকে এই ভাইরাসকে বিনা বাধায় ঝাঁক বেধে আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে। যেহেতু রাতের নির্বাচনে গঠিত এই সরকার, তাই জনগণের ভাবনাকে তারা আমলে না নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সিদ্ধান্ত জনগণের অনুকুলে হবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে জনগণের জীবনবিনাশী সিদ্ধান্ত নিতে কুন্ঠাবোধ করে না। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ছুটি প্রত্যাহার করে করোনা ভাইরাসকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।

শুক্রবার (২৯ মে) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কারযালয় থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রতিটি দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বীকৃত কোনো মেডিসিন আবিষ্কার হয়নি। এই অবস্থায় সব দেশই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিদিন বেশিসংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় এনে করোনা উপসর্গ থাকলে আগেভাগেই আইসোলেশনে নেয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকেই অন্যতম সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সরকারের উচিত দেশে অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনা টেস্টের সক্ষমতা বাড়ানো।

রিজভী বলেন, চারিদিকে নিরন্ন মানুষের হাহাকার, বিপন্ন মানুষের আর্তনাদ ও চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষ গুমরে গুমরে কাঁদছে। এই হলো বর্তমানে দেশের অবস্থা। এই সরকারের আমলে দুর্নীতিতে সবকিছু খেয়ে ফেলেছে। স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই বাংলাদেশে। বাংলাদেশে তুরস্কের একজন নাগরিক পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে তুরস্ক সরকার নিজ দেশে নিয়ে গেছে। এখানে ঐ তুরস্ক নাগরিক করোনা টেষ্ট পর্যন্ত করাতে পারেনি। সরকারী ও বেসরকারী কোন হাসপাতালেই চিকিৎসা না পেয়ে সবাই সিএমএইচ এর দিকে ছুটছে। যাদের সামর্থ্য নেই তাদের লাশ পড়ে থাকছে রাস্তাঘাটে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার চেয়ে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদেরকে প্রতিদিন নিয়মিত বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই বেশি উৎসাহিত মনে হচ্ছে। প্রতিদিন বিএনপি’র কোন না কোন নেতাকে গুম অথবা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে যাতে কেউ এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও মত প্রকাশ করতে না পারে এ জন্যও চলছে গুম, হয়রানি ও জেল জুলুম। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে। গত দুই মাসে সাংবাদিকসহ সোশ্যাল মিডিয়ার পাঁচ শতাধিক এ্যাক্টিভিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মানুষের জবান স্তব্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন করা হয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, করোনা ভাইরাস শুধুমাত্র র‌্যাব-পুলিশের মতো বিরোধী দল মতকে দমন করতেই আসেনি বরং সরকার যেভাবে ঢিলেঢালাভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাইছে তাতে সকলেরই ভয়ের কারণ আছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের পক্ষে বিপক্ষে কে ‘লাইক কিংবা শেয়ার’ দিলো এগুলোর পেছনে সময় ব্যয় না করে কিভাবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায় সেটি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ ছিল।

এসএইচ