নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে পরিস্থিতি

আগের সংবাদ

বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম, সর্বত্র উৎকণ্ঠা

পরের সংবাদ

ঝুঁকি নিয়েই শুরু হচ্ছে পথচলা

এবার ঢাকামুখী জনস্রোত

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৯, ২০২০ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁঁকি নিয়েই আবার পথচলা শুরু হচ্ছে। সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর আগামী রবিবার থেকে খুলে যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, চলবে গণপরিবহন। এ কারণে ঈদে ঘরেফেরা মানুষ এখন রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল দিনভর ছিল রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সব সড়ক-মহাসড়কে রাজধানীমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথ ও ফেরিঘাটগুলোতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
গতকাল সকালে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, বাবুবাজার ব্রিজ, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। গণপরিবহন না চলায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করে। তবে কোনো যাত্রীবাহী বাস রাজধানীতে প্রবেশ করেনি। ঈদের ছুটির আগে এসব স্থানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক কড়াকড়ি ছিল। কিন্তু গতকাল কোথাও কোনো কড়াকড়ি দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেছে এবং বের হয়েছে। রাজধানীর ভেতরেও কোথাও পুলিশের চেকপোস্ট বা উপস্থিতি দেখা যায়নি।
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে সকাল থেকেই ঢাকামুখী মানুষদের ভিড় শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিটি ফেরিতেই গাদাগাদি করে হাজার হাজার বিভিন্ন বয়সী মানুষ পার হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ভাড়ার গাড়ি ও ইজিবাইকে ফেরিঘাটে আসে। আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি বরিশাল থেকে দুই দফায় মোটরসাইকেলে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে এসে পৌঁছেন। এরপর একটি মাইক্রোবাসে ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে কেরানীগঞ্জ ব্রিজের কাছে এসে পৌঁছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সব ক্ষেত্রেই ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। শিমুলিয়া ফেরিঘাটের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঈদের ছুটিতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাড়ি যারা গিয়েছিলেন তাদের সংখ্যাই বেশি। পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে কয়েকটি পন্টুনে পানি উঠে গেছে। এছাড়া নদীতে প্রবল বাতাস থাকায় ডাম্ব ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই নৌরুটের ১৭টি ফেরির মধ্যে ১২ থেকে ১৪টি ফেরি চলাচল করে।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেও একই অবস্থা দেখা গেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘাট পার হয়েছে। অনেকেই মাস্ক পরেনি। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, গতকাল ৭টি ফেরি চলাচল করে। আজ থেকে চাপ আরো বাড়বে। ৩১ তারিখ থেকে ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরিগুলোকে ধীর গতিতে চলতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগছে। এ কারণে দুই পাড়েই গাড়ি ও যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরা নড়াইলের বাসিন্দা রিপন জানান, তিনি বিভিন্নভাবে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন। গণপরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়েই গাদাগাদি করে মাইক্রোবাসে ঢাকায় ফিরেছেন।
আমিনবাজার ব্রিজ পার হয়ে বাস ছাড়া বাকি সব ধরনের যানবাহনে লোকজন গাবতলীতে ঢুকেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে করেই বেশিরভাগ মানুষ ফিরছে। পুলিশের চেকপোস্টে কড়াকড়ি ছিল না। প্রাইভেট কারে ৫ জনের জায়গায় ৭ জন আবার ক্ষেত্রবিশেষে ১৪ থেকে ১৬ জনকে গাদাগাদি করে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। আবদুল্লাহপুর এলাকাতেও দিনভর মানুষের ভিড় ছিল। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদেও মানুষের ঢল দেখা গেছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি।

ডিসি