স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১ মে থেকে যেসব ট্রেন চালানোর সুপারিশ

আগের সংবাদ

সাংবাদিকতা পুরস্কারে প্রতিবেদন জমার সময় বাড়লো

পরের সংবাদ

দেশীয় কৃষি খাতের সক্ষমতা

ফাহিম আহমেদ

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৮, ২০২০ , ১০:২৯ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার ফলে খাদ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কার করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। সম্ভাব্য জাতীয় সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করতে পারে বাংলাদেশের কৃষি খাত। কৃষির যথাযথ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ সম্ভব হলে, কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে জনস্বাস্থ্য এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে দেশের প্রতিটি কৃষি জমি এবং প্রতি ফোঁটা পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার। ইতোমধ্যে কৃষি খাতের উন্নয়ন স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ৪ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষি খাতে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়ার লক্ষ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য, সার, সেচ ব্যবস্থা, কৃষি ঋণসহ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পিত নীতি প্রণয়ন এবং নিশ্চিত করতে হবে প্রণীত নীতির শতভাগ বাস্তবায়ন। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রাণিসম্পদ, প্রতিরোধ টিকা এবং প্রাণিসম্পদজাত পণ্য রপ্তানি বিষয়গুলো সমান গুরুত্বের দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে হবে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমির স্বল্পতা এবং ভূমির উর্বরতা হ্রাসসহ আরো বিভিন্ন কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে জমিতে জৈব সারের পাশাপাশি রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কৃষিতে ইউরিয়া সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ব্যবহৃত সারের পরিমাণ ৫০ দশমিক ৯৩ লাখ টন, যার মধ্যে এককভাবে ইউরিয়া সারের পরিমাণ ২৪ দশমিক ২৭ লাখ টন। কৃষি উৎপাদন কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে চাহিদা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে সারের জোগান। কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূগর্ভস্থ এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি সচেতনভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঝারি নদীতে নির্মাণ করতে হবে প্রয়োজনসংখ্যক রাবার ড্যাম এবং হাইড্রোলিক ড্যাম। ভ‚গর্ভস্থ পানি সেচের জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাহিদা। এক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র সহায়ক হতে পারে। তাছাড়া Groundwater Zoning Map’ তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিরূপণ করা সম্ভব হবে দেশের কোথায় কোন ধরনের সেচযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। যথাযথ সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বশর্ত। তাই কাক্সিক্ষত কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যে নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা।
‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’-এর আলোকে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা হয়েছে, যা ২০১৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে। নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি এই সংস্থার মূল কাজ। এরই লক্ষ্য হিসেবে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ঘোষণা করা হয়েছে, যা ২০১৮ সাল থেকে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। তাছাড়া নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং সমস্যা সমাধানসহ আরো নানাবিধ কাজে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে। উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের যথাযথ মান নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন সময় ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করে দেশের জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশে কৃষি খাতের সক্ষমতা প্রশ্নাতীত। প্রয়োজন শুধু সক্ষমতাকে অবলম্বন করে উৎপাদনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা। এই জাতীয় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন আবশ্যক। দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংকট মোকাবিলায় শাসক-শাসিতের ঐক্যবদ্ধ কর্মপ্রচেষ্টার বিকল্প নেই। দেশের কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট পরবর্তী প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা কৃষি খাতের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। আশা করি, বর্তমান কার্যক্রমের এই ধারা পরবর্তী সময়ও অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]