মৃত্যুর মিছিলে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২২ জন

আগের সংবাদ

বিসিসিআইকে আইসিসির হুমকি

পরের সংবাদ

নির্যাতনের অভিযোগ

সিকদার গ্রুপের ২ মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৭, ২০২০ , ২:৫৬ অপরাহ্ণ

বেসরকারি এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডের এমডি ও এমডিকে প্রায় ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন ও গুলি করে ভয় দেখানর অভিযোগ এনে দুই ভাই রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজন শিকদার গ্রুপের কর্ণধার। এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। মামলাটি করেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লে.কর্ণেল (অব) সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় কেউ আটক না হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

গত ১৯ মে গুলশান থানায় হওয়া মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, বেশ আগে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেতে আবেদন করে সিকদার গ্রুপ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে বেলা ১১টায় এক্সিম ব্যাংকের গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে আসেন রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি চৌধুরী মোসতাক আহমেদ। তারা এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে রূপগঞ্জের আদি নওয়াব আসকারি জুট মিল পরিদর্শনে নিয়ে যান। পরিদর্শনে গিয়ে জামানত হিসেবে ওই সম্পত্তির বন্ধকি মূল্য নথিপত্রে দেখানো মূল্যের চেয়ে কম উল্লেখ করলে রন হক সিকদার তাদের আরেকটি প্রজক্ট পূর্বাচলের আইকন টাওয়ার পরিদর্শনে যেতে বলেন।

তাতে রাজি হয়ে টাওয়ার পরিদর্শনে গেলেও রন হক সিকদার ও চৌধুরী মোসতাক আহমেদকে না পেয়ে ও প্রকল্পের ভেতরের সড়ক অপরিচিত হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডি ৩০০ ফিট সড়ক ধরে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেন। ওই সড়কেই রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডিকে দেখতে পেয়ে থামেন তারা। সে সময় ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি, এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে জানান, বলে দেয়া নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় রন হক অত্যন্ত মন:ক্ষুন্ন ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এরপরই রন হক সিকদারের কাছে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই রন হক সিকদার গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এক্সিম ব্যাংকের এমডির উদ্দেশ্যে গুলি ছড়িলে তার বাম কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর আবারো গুলি করতে উদ্যত হলে এক্সিম ব্যাংকেরে এএমডি গাড়ির পেছনে আশ্রয় নেন। এরপর এক্সিম ব্যাংকের এমডির গাড়িতে ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডিকে তোলা হয়। সে সময় রন হক সিকদারের একজন নিরাপত্তাকর্মীও গাড়িতে উঠেন ও এমডি এবং অতিরিক্ত এমডির মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বনানীর সিকদার হাউসে নিয়ে যান। সেখানে দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডিকে মারধরের চেষ্টা করেন। পরে দুজনকে বিদেশি নিরাপত্তাকর্মীর পাহারায় বসিয়ে রাখা হয়।

এরপর রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির এমডির কাছে একটি সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর আদায় করে নেন। স্বাক্ষর না করলে বিদেশি নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন চালানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। আবার আর এই স্বাক্ষরের সাক্ষী করা হয় অতিরিক্ত এমডিকে। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের কাছে নিয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলা হয়। এরপর দুই গাড়িচালকসহ রাত সাড়ে ৭টায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রন হক সিকদার বাসার নিচে এসে সবার মোবাইল ফোন ফেরত দেন। পরে এ ঘটনায় এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লে.কর্ণেল (অব) সিরাজুল ইসলাম গুলশান থানায় রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদারকে আসামী করে মামলা করেন। এই ঘটনার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুলশান থানায় মামলা করেছে বুধবার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুজিত কুমার চক্রবর্তী জানান, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা কি বলা সম্ভব হবে।

এসআর