ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক

আগের সংবাদ

৪০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন এলি গোল্ডিং

পরের সংবাদ

ঈদে ঢাকায় আ. লীগের অধিকাংশ নেতা

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৫, ২০২০ , ১:২৪ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ঘরবন্দি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। করোনার শুরু থেকেই বেশির ভাগ নেতাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। প্রায় ২ মাস ঘরবন্দি থেকেই ফোনে কিংবা অনলাইনে যোগাযোগ রেখেছেন নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ দুর্যোগের মধ্যেও এলাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি মানুষকে ত্রাণ তুলে দিয়েছেন নিজের হাতে। তবে এবার খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আয়োজন না করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। ফলে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা এখন অবস্থান করছেন ঢাকাতেই। প্রায় বেশির ভাগ নেতাই ঈদ উদযাপন করবেন ঢাকায়। এবার গণভবনেও শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। সরাসরি দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ নেই আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করবেন সবাই।

ক্ষমতাসীন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, সভাপতিম লীর সদস্য, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের প্রায় সবাই ঢাকায় থাকছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অন্যান্য বছর এলাকায় ঈদ উদযাপন করলে সবার সঙ্গেই দেখা-সাক্ষাৎ হয়। এবার সেই সুযোগ নেই। তাই এলাকায় যাওয়া হয়নি। তবে ঢাকা থেকে তারা সবাই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের ২ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। স্থানীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে নিজ বাসাতেই থাকবেন। টেলিফোনে আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবারো ঢাকাতেই থাকছেন। করোনার শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন ভিডিও কনফারেন্সে দলের নির্দেশনা নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। ঈদের দিন তিনি স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গেই থাকবেন।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান ঢাকাতেই থাকছেন। ফারুক খান ঈদ জামাত আদায় করবেন তার ক্যান্টনন্টের বাসা সংলগ্ন মসজিদে। এরপর নেতাকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ঈদের দিনও নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী বই পড়ায় ব্যস্ত থাকবেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক নামাজ আদায় করবেন ধানমন্ডি ঈদগাহ ময়দানে। এরপর নির্বাচনী এলাকা মোহাম্মদপুর-আদাবর ও শেরে বাংলানগর এলাকার নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বা ভিডিও কনফারেন্সে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এ বিষয়ে নানক বলেন, একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ছোবল, সব মিলিয়ে আমাদের একটা প্রতিক‚ল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, যে কোনো প্রতিক‚ল পরিস্থিতি মোকাবিলার সাহস বাংলাদেশের মানুষের আছে। আমাদের সবার আশ্রয়স্থল বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রের যে কোনো পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা তার মধ্যে আছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের ঈদের তুলনায় এবারের ঈদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মানুষ ঘরবন্দি। তারপরও মানুষ ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ উদযাপন করবে। আমিও আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে ঈদের দিন ঢাকায় থাকছি। ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করব।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আমি এবারো ঢাকায় ঈদ উদযাপন করব। বাড়ির পাশে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করব। টেলিকনফারেন্সে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করব। এবারের ঈদকে কীভাবে দেখছেন এ প্রসঙ্গে ফারুক খান বলেন, হ্যাঁ এবারের ঈদ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিবর্তিত পরিস্থিতির শিক্ষার ঈদ। চর্চা করার ঈদ। সবাইকে বুঝতে হবে পৃথিবী পরিবর্তিত হয়েছে। পরিবর্তিত পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

ঈদের ছুটিতে ৩টি কাজ নিয়মিত করার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, একটি হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত বই পড়া। নিজের শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা অর্থাৎ হাঁটাচলার কাজটি আমি করছি। এছাড়া একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার নির্বাচনী এলাকা মুকসুদপুর- কাশিয়ানীর মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। তবে বাসার ছাদেই কয়েকটি পরিবার মিলে ঈদের জামাতের আয়োজন করছেন তিনি। যোগাযোগ রাখছেন নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ধানমন্ডির বাসাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। পরিবারের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করবেন। নিজ নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা ও ত্রাণ মনিটরিংয়ের কাজ করছেন তিনি। বি এম মোজাম্মেল জানান, এবারের ঈদ আর কোনোদিন দেখিনি। ভবিষ্যতেও দেখতে চাই না। আল্লাহর কাছে দোয়া করি এই পরিস্থিতি যেন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। আমি বাড়ির পাশের মসজিদেই নামাজ পড়ব। এরপর আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করব।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন করোনার মধ্যেও নিজ নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাটে অবস্থা করেছিলেন। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অসহায়-গরিব মানুষের পাশে ছিলেন। গত মঙ্গলবার জয়পুরহাট থেকে ঢাকায় ফিরেন। ঈদের দিন ঢাকাতেই থাকবেন তিনি। এছাড়া অন্যান্য নেতারাও ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এসআর