১ দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ১৫৩২

আগের সংবাদ

বিস্ময়কন্যাকে ডাকলো ফেডারেশন

পরের সংবাদ

লিচু নিয়ে দুশ্চিন্তায় চলনবিলের বাগান মালিকরা

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২০ , ৩:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৪, ২০২০ , ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

বৃহস্পতিবার (২১ মে ) থেকে নাটোরে গাছ থেকে লিচু নামানো শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বৈশ্বিক করোনা সমস্যায় এসব লিচু বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। এজন্য তারা লিচু বাজারজাত করতে সহায়তা চেয়েছেন প্রশাসনের।

এ নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, লিচু বাজারজাত করণে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের।

জেলার প্রায় দেড় হাজার লিচু বাগান রয়েছে। ২১মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুনের মধ্যে জেলায় থাকা বাগানগুলো থেকে লিচু নামানো শেষ করা হবে। তবে লিচু নামানোর সময় চলে আসলেও বাগান মালিকদের কাছ থেকে এখনো ব্যবসায়ীরা লিচু ক্রয় করেননি।

প্রতিবছর বাগান থেকে প্রকারভেদে ১ থেকে ২ টাকা পিস লিচু বিক্রি হলেও করোনা ভাইরাসের কারণে এবার অধিকাংশ বাগান বিক্রি হয়নি। বাগান বিক্রি না হওয়ায় লিচু বাজারজাত নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন বাগান মালিকরা।

তবে লিচু ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারজাতের নিশ্চয়তা না থাকায় এখনও বাগানগুলো ঘুরে দেখছেন তারা। বাজারজাত ও পরিবহনের নিশ্চয়তা পেলেই বাগান থেকে লিচু ক্রয় বিক্রয় এবং বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।এ অবস্থায় লিচু বাজারজাতে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন নাটোর জেলা এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শরিফুল ইসলাম রমজান।

এছাড়াও নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার জানান, লিচু বাজারজাতে প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলার ১ হাজার হেক্টর জমির বাগানে সোয়া ৮ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. সাখায়াত মোল্লা বলেন, ভোর থেকে গ্রামের বাগানগুলোতে শুরু হয় লিচু সংগ্রহ আর প্রক্রিয়াজাতকরণ। দুপুর নাগাদ এই আড়তে বিক্রির উদ্দ্যেশে লিচুর পসরা সাজানো হয়। দূরের ব্যাপারিরা লিচু কিনে তা বিক্রি করেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০টির মতো ট্রাকে লিচু নেওয়া হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। প্রতি ট্রাকে ২শ ঝুড়ি বহন করে থাকে। প্রতি ঝুড়িতে ২থেকে আড়াই হাজার পিচ লিচু থাকে। বেপারীরা গ্রামের চাষিদের কাছ পাইকারি দামে লিচু কিনে থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। করোনার কারণে তারা সামান্য কিছু অগ্রিম টাকা দিলেও লোকশানের ভয়ে আসছেনা তারা। ফলে বাগান মালিক, লিচু চাষি ও আড়ৎদাররা শঙ্কায় রয়েছেন।

লিচু চাষি রবিউল হোসেন আলী জানান, তিনি এক একর জমিতে লিচু বাগান করেছেন। প্রতি বিঘায় গাছ রয়েছে ১২টি। প্রতিটি গাছে গড়ে ৪ হাজার লিচু রয়েছে। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী গড়ে ১২শ থেকে সর্বচ্চ ১৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার লিচু। এতে প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৬হাজার টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। এতে তার প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে সার, কীটনাশক,সেচ ও শ্রমিক বাবদ ১৫ হাজার টাকা। এত প্রতি বিঘায় তার ক্ষতি হচ্ছে ৯ হাজার টাকা।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়