করোনায় এস আলম পরিবারে আক্রান্ত বেড়ে ৭, মৃত্যু ১

আগের সংবাদ

কামাল লোহানীর চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

ফিরে আসুন লোহানী ভাই

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৪, ২০২০ , ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কামাল লোহানী। এই সময় এবং সংকটের এক অন্তর্ভেদী বিশ্লেষকের নাম। তিনি স্বাধীনচেতা মানুষের প্রতিভূ। যিনি অনেকটা একলা পর্বতের মতোই, উঁচুশীর। বেঁচে আছেন মহাবৃক্ষরূপে। যার ছায়ায় আমরা গিয়ে দাঁড়াই। কারণ তিনি আমাদের আলোর আশীষ। যিনি বাঙলাকে ধারণ করেছেন মর্মে মর্মে। সব বয়সী মানুষের সঙ্গেই তার বন্ধুত্বের আন্তরিকতা এবং মেশার মতো সীমাহীন এক আধুনিক মানুষ। যে কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন সবার ‘লোহানী ভাই’। অথচ এই মানুষটির বর্ণাঢ্য জীবন কাহিনি পড়তে গেলে বিস্ময়ের ঘোর কাটে না। এমনই এক লড়াকু মানুষ তিনি!

ভাষা সংগ্রামী কামাল লোহানী যেন এক চিরবিদ্রোহীর নাম। একজন সংগ্রামী মানুষের প্রতিকৃতি। পেশায় সাংবাদিক হলেও সংস্কৃতির সংগ্রামে আজো অবিচল। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার রাষ্ট্রবিরোধিতা শুরু। তারপরে আর পেছনে ফিরে তাকাননি। অংশ গ্রহণ করেছেন দেশের সবক’টি গণসংগ্রামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অস্বীকার করতে যে পাকিস্তানি কার্যক্রম সক্রিয় হয়ে উঠেছি তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। রবীন্দ্র সংগীতের প্রসারে যখন ছায়ানট গঠিত হয়। তিনি ছিলেন এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক।

কামাল লোহানী

১৯৬১ সালে রবীন্দ্র শতবর্ষ পালনে পাকিস্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে ছায়ানটের নেতৃত্বে কামাল লোহানী ও হাজারো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকর্মী সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৬৭ সালে রাজনৈতিক আদর্শের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি’ গড়ে তোলেন।’ ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে পূর্ব বাংলার শিল্পীরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তার সঙ্গেও কামাল লোহানী সর্বতোভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কামাল লোহানী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

এরপর নতুন দেশের নতুন বেতার কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৫ এর আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিপর্যস্ত বাংলাদেশের অনিশ্চিত যাত্রা। এমন অনিশ্চিত সময়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি নিজেকে যুক্ত করে নেন। ১৯৮১ সালে তিনি বেতারের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নব উদ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।

কামাল লোহানী

চির এ বিদ্রোহী তার লড়াইয়ে আজো অবিচল। তবে এখন তিনি করছেন বাঁচার লড়াই। আমাদের প্রিয় লোহানী ভাই আজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

করোনাকালে কাটানো সময় আর ভাবনা নিয়ে এই তো গেল ১৪ এপ্রিল লোহানী ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো দীর্ঘক্ষণ। কতটা বলিষ্ট কণ্ঠ তার, মহাবিপর্যয়ের মুখেও কি অবিচল তার কথা। পরদিন ভোরের কাগজে তার সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। করোনা নিয়ে তার ভাবনা নিয়ে বলছিলেন, প্রকৃতি প্রচুর সহ্য করেছে। অবশেষে সে আমাদের শিক্ষা দিতে শুরু করেছে। এটা চরম শিক্ষা। আমরা যদি শিক্ষাটা গ্রহণ না করি তাহলে এরচে কঠিন দুর্যোগে, দুর্ভোগে পড়তে হবে।

কেমন কাটছে এই চির বিদ্রোহীর করোনাকাল এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, বদ্ধ প্রাণ। রুদ্ধ দুয়ার। বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন, ভাইরাসকে পরাজিত করতে ঘরে থাকুন। না, লোহানী ভাই ঘরে থাকতে পারেননি। তাকে থাকতে হচ্ছে হাসপাতালে। লড়াই করতে হচ্ছে বাঁচার জন্য।

আমরা চাই, আমাদের চিরবিদ্রোহী লোহানী ভাই সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই দাবি তুলেছেন লোহানী ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার। আমরাও জোর গলায় বলছি, লোহানী ভাইয়েরা এ রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসাসেবা যেন নিশ্চিত করা হয়। কেননা, তাদের কাছে আমাদের অনেক ঋণ।

এনএম