করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ কে আজাদ প্লাজমা থেরাপি নিলেন

আগের সংবাদ

মৌলভীবাজারে ঈদ উদযাপন

পরের সংবাদ

ক্রিকেট ফেরাতে গাইডলাইন প্রণয়ন আইসিসির

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৪, ২০২০ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের থাবায় স্থবির হয়ে আছে গোটা বিশ্ব। ক্রিকেটে এ ভাইরাস এর প্রভাব পড়েছে অনেক আগেই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আপাতত সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ। কবে মাঠে ব্যাট-বল হাতে নামবে ক্রিকেটাররা তা কেউ জানে না। করোনার সঙ্গে লড়াই করে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট ফেরাতে কাল একটি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে আইসিসির চিকিৎসা কমিটি। এই নির্দেশিকা তৈরি করতে সদস্য দেশগুলোর মেডিকেল বিভাগের সঙ্গে গত দুই মাসে ঘন ঘন বৈঠক করেছে আইসিসি। সেই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে এ বিশেষ নির্দেশনা। তবে কখন মাঠে খেলা গড়াবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

গাইডলাইনের শুরুতে বলে দেয়া হয়েছে, ‘কখন ক্রিকেট শুরু হবে’, এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না এই সুপারিশমালায়। ক্রিকেট যখনই শুরু হোক, সেটি যেন নিরাপদে শুরু করা যায়, সে উদ্দেশে কিছু নির্দেশনা তৈরি করেছে আইসিসি। এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ঘরোয়া পেশাদার কিংবা স্থানীয় জনগোষ্ঠির ক্রিকেটে। তিনটি ধাপে ক্রিকেটে ফিরতে বলছে আইসিসি। প্রথমত, অনুশীলন। দ্বিতীয়ত, খেলা। তৃতীয়ত, ভ্রমণ।

ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার দেয়া গাইডলাইনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ক্রিকেট বোর্ডে একজন করে প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা বা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা থাকতে হবে। নিজের দেশের সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি খেলোয়াড়রা অনুশীলনে মেনে চলছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করবেন ওই কর্মকর্তা। যেকোনো দলকে সফরের অন্তত ১৪ দিন আগে একেবারে বিচ্ছিন্ন থেকে আইসোলেশন ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করতে হবে। এই ক্যাম্পে থাকা সবার তাপমাত্রা মাপা ও কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে।

অনুশীলনে সবার সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসের ব্যবহারের আগে ও পরে ভালোভাবে স্যানিটাইজ করতে হবে। খেলার মাঠে কিংবা ড্রেসিংরুমে ভাগাভাগি করতে হয় এমন জিনিস ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অনুশীলনের জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে মাঠে আসতে বলা হয়েছে। অনুশীলনে এসে খেলোয়াড়দের গোসল করতে ও ড্রেসিংরুম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অনুশীলন শুরু হবে চার ধাপে। এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়া নির্ভর করবে সরকারের বিধিনিষেধের ওপর। প্রথম ধাপে হবে খেলোয়াড়েরা অনুশীলন করবেন এককভাবে। দ্বিতীয় ধাপে অনুশীলন হবে দুই-তিন জনে, সেটিও সামাজিক দূরত্ব মেনে। তৃতীয় ধাপে কিছুটা বড় দলে (১০ জনের কম) খেলোয়াড় ও একজন কোচ থাকতে পারবেন। আর চতুর্থ ধাপে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পুরো দল এক সঙ্গে অনুশীলন করতে পারবে।

খেলার সময়ে কী কী নির্দেশনা মানতে হবে, সেটিও আইসিসি ভালোভাবেই বলে দিয়েছে। প্রতিটি মাঠে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখতে হবে। ম্যাচ চলার সময় সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকবেন যিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত থাকবেন। ম্যাচের বল কীভাবে সংক্রমণমুক্ত রাখা হবে, সেটির জন্যও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা হয়েছে। বল ধরার পর নিয়মিত হাত স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। বল ধরার পর সেই হাত কোনোভাবে নাক-মুখ-চোখে দেয়া যাবে না। বলে লালা ব্যবহার নিষেধ। দুই ওভারের মাঝে খেলোয়াড়রা ক্যাপ, তোয়ালে ইত্যাদি জিনিসপত্র আম্পায়ারকে দিতে পারবেন না। বল ধরার ক্ষেত্রে আম্পায়ারকে ব্যবহার করতে হবে গ্লাভস।

এছাড়াও ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি অনুশীলন, খেলার পর সফর নিয়েও নানা নির্দেশনা দিয়েছে । অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারের নির্দেশনা মেনে সফরের ব্যবস্থা করতে হবে। ভাড়া করা বিমানে দলগুলোকে সফর করতে বলা হচ্ছে, যেন ফ্লাইটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়। হোটেলে দলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ফ্লোর নির্ধারিত করে দিতে হবে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক দলকে সঙ্গে একজন চিকিৎসক নিতে হবে।

এমএইচ