করোনার সংকটে ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়

আগের সংবাদ

বারবার সিদ্ধান্ত বদলে বিশৃঙ্খল ঘরেফেরা

পরের সংবাদ

পৃথিবীটা আগের মতো থাকবে না

ঝর্ণা মনি

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০২০ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

কলম, ক্যামেরা ও স্টেনগান। একাত্তরে তিনটি অস্ত্র একসঙ্গে চালানোর বিরল সৌভাগ্যবান বীরযোদ্ধা তিনি। মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ‘জয় বাংলা’ পত্রিকা ও ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এর যুদ্ধ-সংবাদদাতা হিসেবে তার ক্যামেরায় বন্দি মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের দুর্লভ ৫০টি ছবি ইতিহাসের সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত আছে জাদুঘরে। তিনি লেখক, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সাংবাদিক, কলাম লেখক হারুন হাবীব। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি প্রগতিশীল রাজনীতি-সমাজনীতির চিন্তাবিদও বটে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক চিন্তাচেতনাসহ একাধিক বিষয়ে করে চলেছেন গবেষণা। গতকাল ভোরের কাগজের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে করোনাযুদ্ধে বিশ্ব, গৃহবন্দি মানুষ, প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

হারুন হাবীব বলেন, আমার একটা আলাদা জগৎ আছে। একটা লাইব্রেরি আছে। এখানেই কাটাই দিনের বেশিরভাগ সময়। করোনায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে গল্প, প্রবন্ধ লিখছি। একটা সময় গল্প লেখা থেকে দূরে ছিলাম। এখন অনেকগুলো গল্প লিখছি। মানুষের হাহাকার, মানসিক যন্ত্রণা, পাল্টে যাওয়া সময় নিয়েই এসব গল্প।
অভাবিত সময় যাচ্ছে মন্তব্য করে এই গবেষক বলেন, এমন পৃথিবী কেউই আশা করেনি। মনে হচ্ছে আমরা সবাই একটি খোয়ারের মধ্যে বন্দি আছি। অদৃশ্য দানব বলছে, কারো কাছে যেও না, ছুঁয়ো না, চুমু খেও না। প্রথমে ভেবেছিলাম, এতটাই বিপন্ন হয়ে পড়ব যে সহ্য করা যাবে না। তবে সংকট যতই দীর্ঘায়িত হোক, মানুষ ঠিকই উৎরণের উপায় খোঁজে। বিপন্ন সময়ের মানসিক যন্ত্রণা পেরিয়ে সোনালি সময়ের স্বপ্ন দেখে। ভয়কে জয় করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। ইতোমধ্যেই মানুষ এই মনোবৃত্তি অর্জন করেছে। দুই মাস ধরে করোনাযুদ্ধের যন্ত্রণা ভোগ করছে বাংলাদেশ। মানুষ স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। যন্ত্রণাদায়ক সময় পেরিয়ে সামনে এগুচ্ছে পৃথিবী। তিনি বলেন, হয়তো অন্যান্য মরণব্যাধির মতো করোনাকে নিয়েই পৃথিবীকে এগুতে হবে। তাই সচেতনতা, সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। বৃহত্তর মানুষ এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে। ধীরে ধীরে মানুষ মৃত্যুভয় কাটিয়ে ওঠবে। প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠবে।
মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব বলেন, একাত্তরে যুদ্ধ ছিল অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, বেঁচে থাকার জন্য। করোনা থেকেও বাঁচার জন্য যুদ্ধ করছে বিশ্ব। তবে মানুষ আত্মসমর্পণ করতে জানে না। শত্রু কে পরাজিত করাই মানুষের স্বভাব। মানুষ রুখে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, করোনা পৃথিবীর সবল-দুর্বল রাষ্ট্রকে এক কাতারে দাঁড় করেছে। তবে করোনাযুদ্ধ শেষে পৃথিবীটা আর আগের মতো থাকবে না। আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। মানুষ আরো গরিব হবে।
করোনা মুক্ত পৃথিবী কেমন হবে এর জবাবে এই গবেষক বলেন, নতুন পৃথিবীতে গতানুগতিক পরাশক্তির প্রথা বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। ধর্মকেন্দ্রিক শোষণ ও শাসনব্যবস্থা, ধর্মের বাড়াবাড়ি বৃহত্তর জনগণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ধর্মীয় মৌলবাদ কমতে বাধ্য হবে। বর্ডার সংকুচিত হবে। জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। বিশ্বায়ন সংকুচিত হবে। আঞ্চলিকভাবে বসবাসের চিন্তা বাড়বে। নতুন বিশ্ব চীনের উন্নতি, বিজ্ঞানপ্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট হবে কিন্তু চীনের প্রতি অবিশ্বাসও বাড়বে। আন্তর্জাতিক রেপুটেশন হারাবে। চীনের আউটসোর্সিংয়ের পরিবর্তে পশ্চিমা বিশ্ব নিজেরাই আউটসোর্সিংয়ে ঝুঁকবে। চীন থেকে আউটসোর্সিং না নেয়ার জন্য জাপান ইতোমধ্যে দুইশ বিলিয়ন ইয়েন পাস করেছে। করোনা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আমেরিকার একটি অংশ চীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে। অস্ট্রেলিয়াও চীনকে দায়ী করে করোনা ছড়ানোর তদন্ত করছে। বর্তমানে শুরু হওয়া এই স্নায়ুযুদ্ধ আরো এগিয়ে যাবে। মোটকথা আর্থিক-রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে এই স্নায়ুযুদ্ধে।

ডিসি